সীতারামায়ণ

মার্কসবাদ মানে কী, সীতারাম ইয়েচুরি যা বলছেন সেটাই কিনা, প্রকাশ কারাত ঠিক না ভুল — এসব তত্ত্বকথা না হয় থাক। তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করার বৈদগ্ধ্য আমার নেই, যতদূর জানি বেশিরভাগ লোকেরই আমার মতই অবস্থা। অতএব ওসব ভুলে গিয়ে একটা কান্ডজ্ঞান সংক্রান্ত প্রশ্ন করি। কান্ডজ্ঞান ব্যাপারটা সংসদীয় রাজনীতিতে প্রায়শই গাণিতিক। অতএব প্রশ্নটাকে অঙ্কের প্রশ্নও বলা যায়। প্রশ্নটা এই — যে অঙ্কটা একবার ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে সেটাই আবার করতে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ কিনা।

পশ্চিমবঙ্গে ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্ট আর কংগ্রেসের জোট নিদারুণভাবে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। আসন সংখ্যাটা যেসব সিপিএম কর্মীর মনে আছে তাঁরা নিশ্চয় মানেন একা লড়লে ৩৪ বছরের শাসন বা অপশাসন সত্ত্বেও এত খারাপ অবস্থা হত না। অর্থাৎ ইয়েচুরি, কারাত, বেঙ্গল লাইন, কেরালা লাইন যা-ই হোক না কেন হাতে কাস্তে হাতুড়ি উঠে আসা ভোটাররা মোটেই পছন্দ করেননি। সীতারামের একমাথা চুল বলেই তিনি আবার বেলতলায় যাবেন এটা কী ধরণের কান্ডজ্ঞান ভগবান কিম্বা মার্কস কেউই জানেন না বোধহয়।

আজকের টাইমস অফ ইন্ডিয়া পড়ে বুঝলাম ভদ্রলোকের আবার পার্টির উপর অভিমান হয়েছে। “আমায় প্রো কংগ্রেস বললে আমিও প্রো বিজেপি বলতে পারি” জাতীয় ছেলেমানুষি কথাবার্তা বলেছেন ধেড়ে সাধারণ সম্পাদক। সে বলুন গে। উনি বুঝবেন আর ওঁর পার্টি বুঝবে। কিন্তু উনি মার্কসবাদের মানে যা বলেছেন সেটা মেনে নিলেও যে কংগ্রেসের সাথে জোট সমর্থনযোগ্য হচ্ছে না! উনি বলেছেন যে বদলাতে পারে না সে কমিউনিস্ট নয়। মেনে নেওয়া গেল। তাহলে উনি নিজে কংগ্রেসের সাথে জোটের চূড়ান্ত ব্যর্থতা দেখার পরেও বদলাচ্ছেন না কেন?

ক্ষমতা থেকে বিজেপিকে তাড়ানো যে আশু কর্তব্য তা নিয়ে শুধু সিপিএম বা বামপন্থী কেন, বিরোধী রাজনৈতিক দল বা দলীয় রাজনীতির বাইরে থাকা নাগরিকদের কারোরই দ্বিধা আছে বলে মনে হয় না। সীতারাম নিজেও বলেছেন মতপার্থক্য শুধু কিভাবে সেটা নিয়ে। তাহলে কেন মনে হচ্ছে যে বিরোধী ঐক্যটা নির্বাচনী জোট করেই হতে হবে? ভোটের পরে পরিস্থিতি অনুযায়ী তো সিদ্ধান্ত নেওয়াই যায়। সঙ্ঘ পরিবারের বিরুদ্ধে লড়াই তো নির্বাচন দিয়েই শেষ হবে না।

তেলে আর জলে মিশ খাওয়াতে গেলে যে যাকে হারাতে চাইছি তারই সুবিধা হয় সেই শিক্ষাটা ২০১৬ র ফল থেকে নেওয়া কি এতই শক্ত? আমরা কেউ কি ভুলে গেছি বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারপর্বে মমতা কী বলে গেলেন সমানে? কংগ্রেস সমর্থকদের বললেন “দেখুন, বরাবর বলেছি কংগ্রেস সিপিএমের বি টিম। দেখলেন তো? ওরা সাঁইবাড়ির শহীদদের কেমন ভুলে গেল দেখুন।” আর বাম সমর্থকদের ছুঁয়ে গেল তাঁর টিটকিরি “বাহাত্তরের সন্ত্রাস ভুলে গেলেন কমরেড?” এর ফলে যেটা হল সেটা হচ্ছে গোটা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রীকে পাঁচ বছর কী কাজ করলেন তার কোন হিসাবই দিতে হল না। বিরোধীরা নিজেদের বিরুদ্ধে অনৈতিকতার অভিযোগ সামাল দিতেই ব্যস্ত থাকলেন, সরকারকে প্রশ্নটা করবেন কখন?

এখন থেকেই বলে দেওয়া যায়, রামধনু জোট হলে নরেন্দ্র মোদীর কাজটাও একইরকম সহজ হয়ে যাবে। অর্থনীতির বেহাল অবস্থার জন্যে জবাবদিহি করতে হবে না, সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার পুঁজিবাদের জন্যে কৈফিয়ত দিতে হবে না, কর্নিসেনাদের তোল্লাই দেওয়া, মুসলমান, দলিতদের উপর অত্যাচারের প্রশ্ন উঠবেই না। তিনি শুধু কেঁদেকেটে মিটিঙে মিটিঙে সেই ফাটা রেকর্ড বাজাবেন “মিত্রোঁ, আপনারা দেখুন, আমি দলিত বাবা-মার চা ওয়ালা ছেলে, আপনাদের আশীর্বাদে ক্ষমতায় এসেছি। আমাকে সরানোর জন্যে সবাই একজোট হয়েছে। এদের কোন নীতি নেই, কোন আদর্শ নেই, শুধু একটাই উদ্দেশ্য — মোদীকে হারানো। কারণ মোদী গরীব মানুষের জন্যে কাজ করে, কারণ মোদীর আমলে হিন্দুদের জাগরণ হয়েছে” ইত্যাদি। এর সাথে মোদীর ইশারায় সাঙ্গোপাঙ্গদের তৈরি কিছু বাইনারি তো থাকবেই, সেগুলো তো জোট হলেও হবে, না হলেও হবে। অর্থাৎ বিরোধীরা যথারীতি নিজেদের পিঠ বাঁচাতেই ব্যস্ত থাকবেন। বরং মোদীর পক্ষে তুলনায় শক্ত হবে যে রাজ্যে যে শক্তিশালী সেখানে তার মোকাবিলা করা। কারণ ২০১৪ র হাওয়া আর নেই। সব প্রশ্নপত্রের একই উত্তর দিয়ে তখন ড্যাংড্যাং করে পাশ করা গেছিল, এবারে অত সোজা হবে না। অতএব আমি যদি মোদী হতাম, আমি চাইতাম শুধু কংগ্রেস-বাম নয়, যত বিরোধী দল আছে সব্বাই মিলে একটা জোট হোক। তাহলে বলতে পারব সারদা, নারদা, ভাদরা, কাস্তে, হাতুড়ি সবাই এক। এরা এক হয়ে দেশের মানুষকে লুটতে চায়। এটা এন্টি ন্যাশনালদের জোট। অর্ণব গোস্বামীকে লেলিয়ে দেব, সে জিওর্জিও আরমানির স্যুট আর জিমি চুর জুতো পরে বলবে “এটা দেশের গরীব মানুষের ক্ষমতায়নের বিরুদ্ধে ক্ষমতায় ফিরতে হাত নিশপিশ করা লুটিয়েন্স এলিট আর জেএনইউ এর এন্টি ন্যাশনাল বামেদের জোট। এতদিন ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে ছিল, এবার ভোটে হয়েছে।” আহা! ভারী মজা হবে।

অনেক বাজে বকলাম। একটা মজার স্মৃতি দিয়ে শেষ করি।

জ্যোতি বসুর প্রধানমন্ত্রী হওয়া নিয়ে যখন তাঁর পার্টিতে বিতর্ক হয় তখন সীতারাম ইয়েচুরি ছিলেন সরকারে না যাওয়ার পক্ষে। সেবারে তাঁরাই জয়যুক্ত হয়েছিলেন। তারপর আজকালে একটা ছবি বেরিয়েছিল। ছবি মানে এখন যাকে মিম (meme) বলা হয়। ছবিতে কার্ল মার্কসের মূর্তির সামনে বসে সীতারাম বোঝাচ্ছেন “মার্কসবাদ মানে হল…”। আর মার্কসের মূর্তিটা বলছে “এটা আবার কে?”

ধর্মনিরপেক্ষতার ধাঁধা

আগামী বছর লালকৃষ্ণ আদবানির রথযাত্রার ৩০ বছর পূর্ণ হবে। এই তিরিশ বছরে দুটো শব্দবন্ধ আদবানি এবং তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গদের কল্যাণে দারুণ জনপ্রিয় হয়েছে — মেকি ধর্মনিরপেক্ষতা (pseduo secularism) আর প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষতা (true secularism)। নরেন্দ্র মোদীর সরকারের হজযাত্রায় ভর্তুকি তুলে দেওয়ার সূত্রে ঐদুটো শব্দবন্ধ আবার বেশি বেশি করে শোনা যাচ্ছে। মোটের উপর বিজেপি এবং তার সমর্থকরা যা বলছেন তার সার এই যে ধর্মনিরপেক্ষ দেশে একটা বিশেষ ধর্মের লোক তীর্থ করতে যাবে বলে সরকার পয়সা খরচা করবে কেন? এগুলো হচ্ছে মেকি ধর্মনিরপেক্ষতা। এই যে নরেন্দ্রবাবু ভর্তুকি তুলে দিলেন — এইটেই হচ্ছে প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষতা। কথাটা শুনতে ভারী ভাল এবং কথাটা সত্যিও — যতক্ষণ না আপনি এটা জানছেন যে মানস সরোবরে তীর্থ করতে যাওয়ার জন্যে ভারত সরকার কত হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়। এছাড়াও কোন রাজ্যের সরকার পাকিস্তানের নানকানা সাহিবে তীর্থ করতে যাওয়ার জন্যে ভর্তুকি দেয়, কোন রাজ্যের সরকার কুম্ভমেলার আয়োজন করে। এবং সেসব মিলিয়ে যা খরচা হয় তা হজযাত্রার ভর্তুকির চেয়ে অনেক অনেক বেশি। এই দেখুন

https://www.outlookindia.com/website/amp/rs-200-cr-haj-subsidy-gone-but-what-about-rs-2500-crore-set-aside-by-up-alone-fo/306961?__twitter_impression=true

পার্থক্যটা আরো কুশ্রী হয়ে দাঁড়ায় হজে যাতায়াতের খরচ হিসাব করলে। হিসাব করলে ফল যা বেরোয় তার মানে দাঁড়ায় এই যে ভর্তুকিটা তীর্থযাত্রীরা পায় না, পায় এয়ার ইন্ডিয়া — হজ করতে যেতে হলে যাদের বিমানে যাওয়া বাধ্যতামূলক। গোটা আষ্টেক অনুচ্ছেদ পড়ে দেখুন

https://thewire.in/214513/haj-subsidy-cancelled-air-india/

তা সত্ত্বেও হজের ভর্তুকি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর এখন অব্দি কোন ইসলাম ধর্মাবলম্বী বা কোন মুসলিম সংগঠনকে হাঁই হাঁই করে উঠতে দেখা গেল না যে “এটা আমাদের অধিকার, এটা দিতেই হবে।” বস্তুত সেই প্রথম এন ডি এ সরকারের আমল থেকে হজযাত্রীদের ভর্তুকি দেওয়া নিয়ে “প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ” পার্টি এবং তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল লোকেদের চিৎকার চেঁচামেচি শুনছি। এই বছরগুলোতে এ নিয়ে বন্ধুবান্ধব, পরিচিত, অপরিচিত যত ইসলাম ধর্মাবলম্বীর সাথে কথা হয়েছে, সকলেই বলেছে যে এই ভর্তুকি অপ্রয়োজনীয়। ইসলামেও নাকি তাদেরই হজযাত্রা করতে বলা হয়েছে যাদের সামর্থ্য আছে। সুতরাং সরকারী আনুকূল্যে তীর্থ করতে যাওয়ার কোন যুক্তি নেই।
অথচ দেখুন, হজের ভর্তুকির সঙ্গে সঙ্গে হিন্দু তীর্থযাত্রীদের ভর্তুকি তুলে দেওয়ার কথা যেইমাত্র বলা হয়েছে অমনি চিৎকার শুরু হয়ে গেছে “হিন্দু খতরে মে হ্যায়”। কথাটা যে বলবে সে-ই যে হিন্দুদের শত্রু এটা যেন স্বতঃসিদ্ধ। এই চিৎকারে সবচেয়ে জোরালো গলাগুলো হিন্দুত্ববাদী মোদীর সাঙ্গোপাঙ্গদের। এটাকে, অতএব, প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষতা বলা যাচ্ছে না।
কিন্তু মূল প্রশ্নটা এর চেয়ে অনেক বড় এবং সেই প্রশ্নটার উত্তর নিয়ে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করার দরকার আছে। প্রশ্নটা এই যে ধর্মনিরপেক্ষতা মানে কী? শুধু দক্ষিণপন্থীরা নয়, মধ্যপন্থী, এমনকি অনেক বামপন্থীও বলে থাকেন “ভারত আবার ধর্মনিরপেক্ষ কোথায়? ধর্মনিরপেক্ষ মানে কোন ধর্মকেই সরকার পাত্তা দেবে না। এখানে কি সেটা হয়? এখানে তো সবেতেই ধর্ম।”
কথাটা উড়িয়ে দেওয়ার নয়। ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণাটা এসেছে ইউরোপের secular ধারণা থেকে। এবং secular রাজনৈতিক ব্যবস্থার মানে এমন একটা ব্যবস্থা যাতে চার্চের কোন ভূমিকা থাকবে না। চার্চ, মানে ধর্মযাজকদের, রাষ্ট্রের ব্যাপারে কোন কথাই বলতে দেওয়া হবে না। ইউরোপে ব্যাপারটা এভাবেই ঘটেছিল কারণ মধ্যযুগে ঐ মহাদেশে চার্চ দণ্ডমুণ্ডের কর্তা হয়ে বসেছিল, রাজার সমান বা কোন কোন ক্ষেত্রে রাজার চেয়েও ক্ষমতাশালী হয়ে উঠে যারপরনাই অত্যাচার করত সাধারণ মানুষের উপর। নবজাগরণ চার্চের সেই ক্ষমতার বিরুদ্ধে একটা আন্দোলনও বটে। নবজাগরণ সমাজকে ধর্মকেন্দ্রীক (theocentric) থেকে করল মানবকেন্দ্রীক (anthropocentric)। সেখান থেকেই কালে কালে এল secular রাষ্ট্রব্যবস্থার ধারণা। তা চার্চনিরপেক্ষ শাসনব্যবস্থা যদি কায়েম করতে হয় তাহলে স্বভাবতই রাষ্ট্রকেও ধর্ম থেকে দূরে থাকতে হবে। সেটাই যথার্থ ধর্মনিরপেক্ষতা।
কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষতার যে এই একটাই চেহারা হতে পারে, একথাটা কে বলে দিল? অন্তত ভারতবর্ষে শাসকের কাছ থেকে এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে (যেহেতু গণতন্ত্রে শাসক আকাশ থেকে পড়েন না, সাধারণ মানুষের মধ্যে থেকেই উঠে আসেন) ওরকম ধর্মনিরপেক্ষতা আশা করা নির্বুদ্ধিতা। কেউ ওরকম হলে নিশ্চয়ই ভাল কথা, যেমন প্রথম প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহরু নাস্তিক ছিলেন। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ আর বেশিরভাগ শাসক যে তেমন হবেন না সেটাই এদেশে স্বাভাবিক। কেন, সেটা ভারতের ইতিহাস যে একটুও বুঝেছে তাকে বুঝিয়ে বলতে হয় না। বিবেকানন্দ তো বলেইছিলেন, সব জাতির একটা করে মূলমন্ত্র থাকে, ফরাসীদের যেমন liberte, egalite, fraternite; ভারতীয়দের মূলমন্ত্র তেমনি ধর্ম। কোন দেশের মূলমন্ত্র ধর্ম হওয়া মোটেই ভাল কথা নয়, হলে কী ধরণের পশ্চাদপসরণ হতে পারে তার বহু নিদর্শন আমরা পাচ্ছি এখন, অন্য অনেক দেশের উদাহরণ থেকেও বোঝা যায়। তবুও এটাই যে ভারতের বাস্তবতা সেটা অস্বীকার করা মূর্খামি। আমাদের রাষ্ট্রপিতারা (founding fathers অর্থে। আমি গান্ধীভক্ত নই, তাই একা মহাত্মা গান্ধীই রাষ্ট্রপিতা এমনটা মনে করি না। তবে তিনিও একজন) ওরকম মূর্খ ছিলেন না। ধর্মকে বাদ দিয়ে এই দেশ চালানো যাবে না সেটা তাঁরা ভালই বুঝতেন কিন্তু ধর্মের উপর ভর দিয়ে তো আর একটা বিংশ শতকের সভ্য দেশ গড়ে উঠতে পারে না। তাছাড়া কোন ধর্মের উপর ভর দেওয়া হবে? এ তো আর পঞ্চদশ, ষোড়শ শতাব্দীর ইউরোপ নয় যে খ্রীষ্টান ধর্মটাকে সামলে দিলেই হল। এখানে অজস্র ধর্ম, একই ধর্মের মধ্যেও অজস্র মত (ইংরিজিতে যাকে sect বলে আর কি)। সেখানে কোন একটাকে প্রাধান্য দেওয়া মানেই বাকি সকলকে জোর করে সেই ধর্মের অধীন করে দেওয়া।
অতিচালাক কয়েকজন সঙ্ঘ পরিবারের নেতা বলতেন এবং এখনো বলেন “হিন্দুরা এদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ, অতএব তাদেরই প্রাধান্য দেওয়া উচিৎ। অন্যদের তো কেউ তাড়িয়ে দিতে বলছে না, তারাও থাকবে এদেশে।” আপনি যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের মানুষ হন তাহলে কথাটা আপনার দিব্য পছন্দ হবে। কিন্তু এভাবে যে একটা সুস্থ, স্বাভাবিক দেশ তৈরি হয় না তার জলজ্যান্ত প্রমাণ পাকিস্তান। সঙ্ঘ পরিবারের উপর্যুক্ত তত্ত্বটার মতই পাকিস্তানের সংখ্যালঘুদের অধিকার সম্পর্কে অনেক মিষ্টি মিষ্টি কথা মহম্মদ আলি জিন্নাও বলে গেছেন। তাতে আদপে কোন লাভ হয়নি ওদেশের হিন্দুদের। এদেশের “প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ” লোকেরাই তো উঠতে বসতে শোনান ১৯৪৭ এর পর থেকে ভারতে কিভাবে সংখ্যালঘুরা বেড়েছে আর পাকিস্তানে কমেছে। মুজিবহত্যা পরবর্তী বাংলাদেশ নিয়েও একই কথা প্রযোজ্য। ভারতে যদি হিন্দুধর্মকে প্রাধান্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতেন রাষ্ট্রপিতারা তাহলে ভারতও যে হিন্দু পাকিস্তান হত সেটা বুঝতে বৈদিক বুদ্ধির প্রয়োজন হয় কি? তাহলে বিকল্প কী ছিল? একটাই। সব ধর্মেরই পৃষ্ঠপোষকতা করা। বাম, দক্ষিণ সকলেরই বোঝা উচিৎ ইউরোপীয় ঢঙে রাষ্ট্র যদি সব ধর্ম থেকে সমদূরত্বের নীতি নিত তাহলে এখানে যা হত সেটা হল মাৎস্যন্যায়। যে সংখ্যালঘু তাকে নিজের ধর্মাচরণ করতে হত লুকিয়ে আর যে সংখ্যাগুরু সে আইনগতভাবে না হলেও, গায়ের জোরে নিজের ধর্ম চাপিয়ে দিত সংখ্যালঘুদের উপর। না মানলে মারধোর খেতে হত, মরতে হত। ঠিক যেভাবে সরকারী নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে এখন পশ্চিমবঙ্গেও দিব্যি অস্ত্রশিক্ষা শিবির চালাচ্ছে আর এস এস।
কেউ কেউ বলবেন, আচ্ছা সে না হয় দেশের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময় হল। গান্ধী তো খুন হলেন ১৯৪৮ এ, প্যাটেল চলে গেলেন ১৯৫০ এ, আম্বেদকর ১৯৫৬ এ আর নেহরু ১৯৬৪ তে। কিন্তু পরবর্তী শাসকেরা কী করলেন? কী করলেন তারপরের প্রধানমন্ত্রীরা, মুখ্যমন্ত্রীরা? এবং অনিবার্যভাবেই দক্ষিণপন্থীরা সেই বোকা বোকা কথাটা আবার বলবেন “Secularism শব্দটা তো সংবিধানের প্রস্তাবনায় ছিল না। ইন্দিরা কেন ঢোকালেন?” প্রশ্নকর্তারা ভান করেন যেন ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার তার আগে থেকেই ২৫-২৮ নম্বর অনুচ্ছেদে ছিল না, ইন্দিরা চক্রান্ত করে সেটাও ঢুকিয়েছিলেন। তাহলে secularism শব্দটায় আপত্তিটা কিসের? আপনারা তো নাকি “প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ”। তাহলে তো ধর্মনিরপেক্ষ শব্দটা সংবিধানে ঢোকানোর জন্যে ইন্দিরার আপনাদের ধন্যবাদার্হ হওয়া কথা!
এই কথোপকথন মুখোমুখি বসে চালালে এরপরেই টিভি বিতর্কের মত প্রবল চিৎকার চেঁচামেচি লেগে যাবে, সীমান্তে কত সৈনিক মরছে সেসব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যাবে। সুতরাং এবার ইতিহাস, সংবিধানের মত যা কেউ পড়ার দরকার মনে করে না এমন বিষয় বাদ দিয়ে একেবারে গোদা ব্যাপারে চলে আসা যাক। ভারত যে আসলে ধর্মনিরপেক্ষ নয় তা প্রমাণ করতে যে বহুল প্রচলিত উদাহরণগুলো দেওয়া হয় তার তেমন একটা নিয়ে কথা বলা যাক। তাহলে সরকারগুলোর পক্ষে কতটা কী করা সম্ভব সেটাও পরিষ্কার হবে।
ভারত ধর্মনিরপেক্ষ হলে মুসলমানরা রাস্তায় বসে নমাজ পড়ে কেন? এসব বন্ধ হওয়া উচিৎ
ঠিক কথা। রাস্তা আটকে ধর্মাচরণ কোন কাজের কথা নয়। মুসলমানদের রাস্তায় নমাজ পড়া বন্ধ হওয়া উচিৎ, রাস্তা আটকে পুজো প্যান্ডেল বন্ধ হওয়া উচিৎ, তাজিয়া বন্ধ হওয়া উচিৎ, চারদিনের পুজোকে দশদিন অব্দি টেনে নিয়ে গিয়ে রাস্তাজুড়ে কানফাটানো ব্যান্ড পার্টি নিয়ে ভাসান বন্ধ হওয়া উচিৎ, রাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় কুম্ভমেলা থেকে শুরু করে দুর্গা ভাসানোর কার্নিভাল অব্দি সবকিছু বন্ধ হওয়া উচিৎ। স্কুলে সরস্বতীপুজো এবং নবীদিবস — দুটোই বন্ধ হওয়া উচিৎ। শুধু তাই নয়, রাস্তা জুড়ে, ট্রেনের কামরা জুড়ে গাঁজা খেতে খেতে জোয়ান লোকেদের তীর্থ করতে যাওয়া বন্ধ হওয়া উচিৎ।
আমাদের বাংলায় তারকেশ্বরের মাথায় শ্রাবণ মাসে জল ঢালতে যায় যারা তারা অন্য সব যাত্রীরই মাথা কিনে নেয়। আপনি বয়স্ক হোন, অসুস্থ হোন, সাথে কোলের শিশু থাকুক বা অন্তঃসত্ত্বা মহিলা থাকুক, ওঁরা আপনাকে দয়া করে বসার জায়গা না-ও দিতে পারেন। ওখানে নিজের হিন্দু পরিচয় দিয়ে কোন খাতির পাবেন না। উপরন্তু দুর্গন্ধ এবং অনবরত ঢাকঢোলের আওয়াজে লিলুয়া থেকে হাওড়া যেতে মনে হবে সশরীরে নরকযাত্রা করছেন। এবং আর যাই করুন, ভুলেও শ্রাবণ মাসের শনিবারে শের শাহের করা গ্র‍্যাণ্ড ট্রাঙ্ক রোড ধরে গাড়িতে চেপে কোথাও যেতে যাবেন না। বাবার ভক্তবৃন্দ গোটা রাস্তার দখল নিয়ে নেন। রাস্তার ঠিক মাঝখানে বসে বিশ্রামও নিতে পারেন ইচ্ছা হলে। আর শব্দদূষণ যা হয় সেটাও বন্ধ হওয়া উচিৎ, আজানের মাইকের মতই। কিছু দিল্লীবাসীর কাছে শুনছিলাম কাঁওয়ারিয়ারা যেসব এলাকা দিয়ে হরিদ্বার যায় সেখানকার লোকেদের অভিজ্ঞতাও নাকি কতকটা এরকমই। তা যেসব রাজ্যে “মেকি ধর্মনিরপেক্ষ” সরকার আছে তাদের কথা বাদই দিলাম। যেখানে “প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষ” সরকার সেখানে এগুলো বন্ধ করে দেখান দেখি।
পারবেন না। কারণ সবচেয়ে উদার হিন্দুটিও গর্জে উঠে বলবে “আমার ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।” তা যে সংখ্যায় কম তাকে আইন দেখাব, ধর্মনিরপেক্ষতা দেখাব আর যে সংখ্যাগুরু তার ধর্মাচরণ যেমন ইচ্ছা চলবে সেটা আর যা-ই হোক, গণতন্ত্র নয়, ধর্মনিরপেক্ষতা তো নয়ই।
তাই ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা কখনোই ইউরোপের মডেল অনুসরণ করে চলতে পারে না। ভারতে সরকারকে ধর্মগুলোর মধ্যে সমতা বজায় রাখার কাজে সক্রিয় হতেই হবে। একদেশদর্শিতাই সাম্প্রদায়িক, সমদর্শিতাই ধর্মনিরপেক্ষতা এদেশে।
সেই কারণেই সরকারের প্রধানের নিজের ধর্মীয় পরিচয়ের প্রদর্শনী সাম্প্রদায়িক। কারণ ব্যক্তি হিসাবে তিনি যা-ই হোন, তিনি শুধু নিজের ধর্মের মানুষের প্রধান নন, সব ধর্মের মানুষের প্রধান। সেইজন্যেই মমতার ইফতারে গিয়ে মাথায় কাপড় দিয়ে নমাজ পড়া এবং মোদীর দশাশ্বমেধ ঘাটে সন্ধ্যারতি অন্যায়। মমতা জন্মসূত্রে হিন্দু হলেও ইচ্ছা হলে নিজের বাড়িতে দিনে পাঁচবার নমাজ পড়তেই পারেন, সেটা ব্যক্তি মমতার স্বাধীনতা। নরেন্দ্র মোদীও দুবেলা বাড়ির ঠাকুরকে পুজো করুন, কিচ্ছু এসে যায় না। কিন্তু প্রকাশ্যে একটা বিশেষ ধর্মাচরণ করে এই বার্তা দিতে পারেন না যে “আমি তোমাদেরই লোক”। সেটাই সাম্প্রদায়িকতা, ভর্তুকি দেওয়াটা নয়।

বড় দেশের দিন

বিশ্ববিদ্যালয়ের দুবছর আর প্রাথমিক শিক্ষার বছরচারেক বাদ দিলে আমার গোটা ছাত্রজীবন কেটেছে গেরুয়াধারী সন্ন্যাসীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

আমাদের স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন রামকৃষ্ণ মিশন থেকে বেরিয়ে এসে নিজের প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা একজন সন্ন্যাসী। সেই স্কুলে আমি যখন ক্লাস ফাইভে পড়ি, তখন ছাত্রদের জন্য একটা আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল যার বিষয় ছিল ‘ধর্ম কি কুসংস্কার?’ বিতর্ক প্রতিযোগিতার মত এতেও পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল এবং প্রথম হয়েছিল ক্লাস সিক্সের একটি ছেলে, যার মূল বক্তব্য ছিল “হ্যাঁ, আচারসর্বস্ব ধর্ম অবশ্যই কুসংস্কার।“

আমাদের স্কুলে দুর্গাপুজো হত, একেবারে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে।

এই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করার পরে ভর্তি হলাম রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সদর দপ্তরের নাকের ডগায় থাকা কলেজে। সম্পূর্ণ আবাসিক কলেজ, যেখানে সকাল সন্ধ্যে হোস্টেলের ঠাকুরঘরে প্রার্থনায় বসতে হয়। যদিও ঠাকুরের আসনে তিনজন মানুষের ছবি আছে, তবু ব্যাপারটাকে ধর্মনিরপেক্ষ বলে কোনভাবেই চালানো যায় না। কারণ প্রার্থনায় রামকৃষ্ণ, সারদা, বিবেকানন্দ ছাড়াও হিন্দু দেবদেবীর বন্দনা করা হয়। কিন্তু সেই প্রার্থনায় যাওয়া নিয়ে কোনদিন আমার সহপাঠী জাহির আর আমিনুলের মুখ ভার দেখিনি। স্পষ্টতই ওদের বাবা-মায়েদেরও এ নিয়ে কোন আপত্তি ছিল না। জাহির আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজন হওয়ায় এ নিয়ে জিজ্ঞেসও করেছিলাম। ও বলেছিল “আমার বাবা তো ঠাকুর দেবতা মানে না। তাছাড়া এটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ডিসিপ্লিন, জেনেশুনেই তো এসেছি। আর আমি প্রার্থনায় বসে আমার ভগবানের কাছেও প্রার্থনা করতে পারি। কেউ তো আটকাচ্ছে না।“ পরেও আমার সহপাঠী ইফতে খারুল, আসিফ, ইমরান, ইকবাল — এদের কাউকেই এ নিয়ে একটা শব্দও খরচ করতে দেখিনি, প্রার্থনায় যেতে ওদের কোনরকম আপত্তি আছে এমন মনে করবারও কোন কারণ ঘটেনি।

এত কথা বলবার কারণ বড়দিন পালন নিয়ে যে বদমাইশিটা শুরু হয়েছে সেইটা। বহু লেখাপড়া জানা হিন্দু, যাদের ধর্মপালন বছরে একবার বাড়িতে লক্ষ্মী, সরস্বতী বা কালীপুজো করায় সীমাবদ্ধ, পেটে বোম মারলেও এক লাইন শুদ্ধ সংস্কৃত বেরোবে না, তারাও গত কয়েকবছর ধরেই নিজেদের হিন্দু পরিচিতি সম্পর্কে দেখছি প্রয়োজনের অতিরিক্ত সচেতন হয়ে উঠেছে। “আমি গর্বিত যে আমি হিন্দু” বলাটা বেশ একটা ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে বছরসাতেক হল। ভাবখানা এমন যেন ওকে কেউ বলেছে “এ মা, তুই হিন্দু? ছ্যা ছ্যা ছ্যা! দূর হ! এবার থেকে তুই আমার বাড়ি এলে আলাদা থালা বাসনে খেতে দেব।“ অথবা হিন্দু বলে ওকে ট্রেন থেকে মেরে নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে অথবা নতুন জায়গায় গিয়ে বাড়িভাড়া পাচ্ছে না। মজার কথা, এরকম গর্বিত হিন্দুরা আবার লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে ছেলেমেয়েকে খ্রীষ্টান মিশনারিদের স্কুলে ভর্তি করে। তাতে ক্ষতি নেই। বহুবছর ধরে ঐ স্কুল, কলেজগুলো এদেশে উচ্চমানের শিক্ষা দিয়ে আসছে, রামকৃষ্ণ মিশনের মতই। কিন্তু সমস্যা এই যে হিন্দু বাবা-মায়েদের এখন এক অদ্ভুত ধারণা হয়েছে “ওরা কায়দা করে নিজেদের ধর্ম প্রচার করছে।“

কি আশ্চর্য! এরা নাকি লেখাপড়া শিখেছে! আমার সন্তানকে আমি জেনেশুনে খ্রীষ্টান সন্ন্যাসী বা সন্ন্যাসিনীদের পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করলাম, তা তাঁরা তো সেভাবেই শিক্ষা দেবেন যেভাবে দেওয়া ভাল বলে তাঁরা মনে করেন। ওঁরা তো ওঁদের স্কুল কলেজের নিয়মকানুন গোপনও করেন না কখনো। ডন বসকো, অ্যাসেম্বলি অফ গড চার্চ, লোরেটো বা সেন্ট জেভিয়ার্স তো আর হগওয়ার্টস নয় যে ভেতরে কী হচ্ছে বাইরের মাগল বাবা-মায়েরা জানতে পারে না। আপনার যদি মনে হয় আপনার ছেলে/মেয়ে ক্রিসমাস ক্যারল শিখে কেরেস্তান হয়ে যাবে, হলে সমূহ সর্বনাশ, তাহলে ঐসব স্কুলে পড়াবেন না। কে মাথার দিব্যি দিয়েছে পড়াতে? আজ অব্দি তো শুনলাম না লিলুয়ার কোন বাবা-মা পুলিশে ডায়রি করেছেন যে তাঁদের বাড়ির ছেলেকে ফাদাররা জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে ডন বসকোয় ভর্তি করেছে। বরং অনেক কাঠখড় পুড়িয়েও সেখানে ভর্তি করতে পারলেন না বলে বিলাপ করতে শুনি বহু বাবা-মাকে।

তাহলে আর এস এস প্রোপাগান্ডায় এই নির্বোধের মত আত্মসমর্পন করে কী প্রমাণ করছেন আপনি? নিজের হিন্দু পরিচিতি না উজবুক পরিচিতি?

স্কুল কলেজের ছেলেমেয়েদের ধরে ধরে খ্রীষ্টান বানানোর প্রকল্প যদি মিশনারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর থাকত তাহলে কলকাতার সচ্ছল বাঙালিদের মধ্যে অ্যাদ্দিনে খ্রীষ্টানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যেত বোধহয়। নিজের ধর্ম নিজের বুকের মধ্যে রাখুন, মাথায় উঠতে দেবেন না। সবাই জমিয়ে কেক খান, বড়দিনে আনন্দ করুন। না করলে ক্ষতি আপনার। আমি নাস্তিক কিন্তু লক্ষ্মীপুজোর খিচুড়ি, ঈদের সেমাই, ছটের ঠেগুয়া বা ক্রিসমাসের কেক — কোনটাই ছাড়ি না। কেন ছাড়ব? এই যে নানা স্বাদ এটাই তো আমার দেশের মজা, এই মজা উপভোগ করার জন্যে মানুষ হওয়াই যথেষ্ট, বিশ্বাসী হওয়ার দরকার পড়ে না। আপনি যদি এর একটা খান, অন্যগুলো না খান সেটা আপনার ক্ষতি। সে তো লোকে প্যালারাম বাঁড়ুজ্জের মত আলু পটল আর সিঙিমাছের ঝোল খেয়েও বেঁচে থাকে। অমন বাঁচায় আনন্দ কই?