
প্রায় চল্লিশটা বসন্ত পার করে ফেললাম। বাবা এবং মামারা রাজনীতিবিদ হওয়ার কারণে স্লোগানের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়ে গেছে প্রথম দু’তিন বসন্তের মধ্যেই। ভোটের বছরে বসন্তকাল মানেই প্রচারের মরসুম, আর প্রচার মানেই স্লোগানে স্লোগানে আঁকা দেওয়াল। সেখানে ‘চুপচাপ ফুলে ছাপ’-মার্কা চোখ-মটকানো স্লোগান থেকে শুরু করে সোচ্চার ‘শোষকের কালো হাত ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’— সবই দেখেছি। প্রধানমন্ত্রীর নামে ‘গলি গলি মে শোর হ্যায় / রাজীব গান্ধি চোর হ্যায়’ স্লোগান দিতে দিতে বাড়ির সামনে দিয়ে মিছিল গেছে বুক ফুলিয়ে, কেউ তাদের ফিসফিসিয়েও দেশদ্রোহী বলেনি। স্লোগানের বিবর্তন বা পরিবর্তন নিয়ে মজা করে এবং না-করে অনেক কথাই লেখা সম্ভব, গবেষকরা হয়তো বা তা লিখবেনও। কিন্তু এবার প্রচারের মরসুমে একটা নতুন জিনিস চোখে পড়ছে। চিরকাল দেখেছি স্লোগান দেয় যুযুধান রাজনৈতিক দলগুলো। এবার কিন্তু দলগুলোর বাইরে থেকেও স্লোগান উঠে আসতে দেখছি!
বরাবর দলগুলো স্লোগান দেয় “আমাদের ভোট দিন”— এই মর্মে। কখনও কখনও কোনও কোনও স্লোগানে বিরোধী দলকে একটিও ভোট না-দেওয়ার কথাও বলা হয়ে থাকে। তবে সেই স্লোগানে প্রচ্ছন্ন থাকে এই বার্তা যে, “ওদের ভোট না-দিয়ে আমাদের ভোট দিন”। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এক নতুন ঘটনা ঘটছে। ভোটে লড়ছেন না এমন কিছু মানুষ গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে স্লোগান তুলেছেন, “নো ভোট টু বিজেপি”, অর্থাৎ বিজেপি-কে একটিও ভোট নয়।
ঘটনাটা নতুন হলেও আপত্তিকর নয়। গণতন্ত্র মানেই যে আমরা এখন নির্বাচন বুঝি, আর নির্বাচন বলতেই রাজনৈতিক দল— তা ভারতীয় গণতন্ত্রের দুর্বলতারই প্রমাণ। আসলে তো ব্যবস্থাটা ভোটার বা নাগরিকদের জন্য। সুতরাং দলীয় বৃত্তের বাইরে থাকা এক বা একাধিক নাগরিকও বলতেই পারেন, এদের ভোট দিন অথবা ওদের ভোট দেবেন না। তাছাড়া, পশ্চিমবঙ্গের এবারের নির্বাচন অতীতের সব নির্বাচনের চেয়ে যে আলাদা তা এখন আর নিছক মতামত নয়, রীতিমত ঘটনা। আমার মতো বছর চল্লিশেকের মাঝবয়সিরা তো বটেই, প্রবীণতর মানুষও মনে করতে পারছেন না, কবে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই রাজ্যে এসে পড়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী; শুরু হয়ে গেছে ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ, এবং এত আগাম প্রস্তুতি সত্ত্বেও আট দফায় নির্বাচন হয়েছে।
এ রাজ্যে সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এবং হিংসার ইতিহাসই এই তৎপরতার কারণ ভেবে নিয়ে নিশ্চিন্ত হওয়া যেতে পারত। কিন্তু ভারতে নির্বাচনের চরিত্র যেভাবে বদলে গেছে গত কয়েক বছরে, প্রত্যেকটি নির্বাচনের দিন যেভাবে প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্প ঘোষণা শেষ হওয়ার পরই ঘোষিত হয়, নেতারা আচরণবিধি ভঙ্গ করলে নির্বাচন কমিশনের প্রতিক্রিয়ায় যে রকম তারতম্য দেখা যায়, পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের অব্যবহিত পূর্বে যেভাবে সোশাল মিডিয়াকে পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনার আইন প্রস্তাবিত হল— তাতে সন্দেহ প্রবল হচ্ছে যে কেন্দ্রের শাসক দল যেন তেন প্রকারেণ পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা দখল করতে চায় বলেই এত লম্ফঝম্প। সেই পরিপ্রেক্ষিতে কিছু সচেতন নাগরিক যদি মনে করেন বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের সর্বনাশ হবে, তাই এদের ভোট দেওয়া উচিত নয়— সে কথা যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই বলার অধিকার তাঁদের নিশ্চয় আছে।
কিন্তু, “নো ভোট টু বিজেপি” স্লোগান নিয়ে সমস্যা অন্যত্র।
যে যা-ই বলুন, ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের হার এবং আসনসংখ্যার নিরিখে ২০২১ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে দুই প্রধান পক্ষ অবশ্যই তৃণমূল কংগ্রেস আর বিজেপি। যদি তৃণমূল কংগ্রেস স্লোগান দিত, বিজেপিকে একটিও ভোট নয়, ভোটারের পক্ষে তা সমস্যার হত না। কারণ তিনি জানতেন, এ স্লোগানের মানে হল তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দিন। দেবেন কিনা, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাঁর সামনে আছে তৃণমূল সরকারের দশ বছরের কাজকর্ম, নেত্রী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ, সঙ্গে জুড়তে পারে তৃণমূল দলের নির্বাচনী ইশতেহার। কিন্তু “নো ভোট টু বিজেপি” ক্যাম্পেন চালাচ্ছেন যাঁরা, তাঁরা ভোটারকে ধন্দে ফেলেছেন। বিজেপিকে না-হয় দেব না, কিন্তু দেব কাকে? কেনই বা দেব?
যাঁরা এই ক্যাম্পেন চালাচ্ছেন তাঁরা সম্ভবত বুঝতে পারছেন না, পশ্চিমবঙ্গের একজন গ্রামীণ ভোটার বা শহর-মফস্বলের নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ভোটারের কাছে নির্বাচনটা হিন্দুত্ব এবং/অথবা ফ্যাসিবাদ বনাম উদারবাদ এবং/অথবা ধর্মনিরপেক্ষতার নয়। এমনকী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের কাছেও নির্বাচন বস্তুত বাঁচামরার প্রশ্ন। শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, অভিনেতা, চলচ্চিত্রনির্মাতাদের আশঙ্কা— বাংলার সংস্কৃতি বিপন্ন হবে। সরকারের বিরুদ্ধে যারা কথা বলে, লেখালিখি করে তাদের কারারুদ্ধ করা হবে, যেমনটা বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে হচ্ছে। এই আশঙ্কা নির্ভুল। কিন্তু বীরভূম বা মেদিনীপুরের গ্রামের যে ভোটার লেখেন না, ছবি আঁকেন না, সিনেমা বানান না, কোনওদিনই কোনও শাসক দলের বিরুদ্ধে সোচ্চার নন— তিনি ভোট দেওয়ার সময় চিরকাল বিবেচনা করেন তাঁর রুজিরোজগারের সুবিধা হবে কাকে ভোট দিলে? কোন প্রার্থী তাঁর এলাকার রাস্তাঘাট ভালো করে দেবেন? এলাকায় গুন্ডা বদমাইশের দাপট কমবে কি অমুককে ভোট দিলে?
প্রত্যেকটা প্রশ্নের উত্তরেই বলা সম্ভব যে, বিজেপিকে ভোট দিলে এই প্রশ্নগুলোর একটারও উত্তর সন্তোষজনক হবে না। কিন্তু সাধারণ ভোটদাতা এতে সন্তুষ্ট হওয়ার পাত্র নন। তিনি তাঁর চাহিদা পূরণের গ্যারান্টি চান। যখন প্রত্যাশা তলানিতে এসে ঠেকে, যেমনটা বিজেপির ‘জয় শ্রীরাম’ হুঙ্কারে সারা দেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদেরও হয়েছে, তখনও একজন সাধারণ ভোটদাতা চান আক্রমণের মুখে তাঁকে কে বাঁচাবেন, তার গ্যারান্টি। সেই গ্যারান্টি দিতে পারে একটা রাজনৈতিক দল বা জোট। নোটা (NOTA) পারে না, ‘নো ভোট টু বিজেপি’-ও পারে না। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে নাগরিক সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে— এ কথা খুব বলা হয় আজকাল। সেই ভাবনা থেকেই ‘নো ভোট টু বিজেপি’-র মতো ক্যাম্পেনের জন্ম।
কিন্তু গোলমালটা ‘নাগরিক সমাজ’ শব্দবন্ধের মধ্যেই লুকিয়ে আছে। কারণ ‘গ্রামসমাজ’ বলে এর দোসর কোনও শব্দবন্ধ নেই আমাদের নাগরিক চেতনায়। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর আলিপুরদুয়ারে বা নামখানায় কোনও মানুষের ঘরে যদি আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা সেখানে পৌঁছনোর আগেই সর্বস্ব পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। নাগরিক সমাজ বড় জোর আইনি লড়াইতে সাহায্য করতে পারবে, পুলিশ এফআইআর নিতে না-চাইলে তাকে চাপ দিতে পারবে। বাঁচতে হলে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতা, কর্মী, তারা যত খারাপই হোক না কেন, তাদের উপরেই নির্ভর করতে হবে। সুতরাং অধিকাংশ ভোটারের কাছেই কাকে ভোট দেব তা না-বললে, কাকে দেব না তা নিয়ে পরামর্শ দেওয়া নিরর্থক।
পশ্চিমবঙ্গে আরও একটা নিদারুণ বাস্তবতা রয়েছে। বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে সমাজকর্মী, বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মী সমর্থক, শিল্পী সাহিত্যিক, ছাত্রছাত্রী এবং বিভিন্ন দাবিতে চলা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উপর যে দমনপীড়ন, বাক্স্বাধীনতার উপর যেরকম হস্তক্ষেপ চলে বলে বিজেপিকে একটিও ভোট নয় বলা হচ্ছে, তা পশ্চিমবঙ্গেও কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই চলছে। সোশাল মিডিয়া পোস্টের জন্য অম্বিকেশ মহাপাত্র গ্রেফতার হয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর সভায় তাঁকে সরাসরি প্রশ্ন করার মহাপাপ শিলাদিত্যকে গরাদের পিছনের অন্ধকার দেখিয়েছে। সুদীপ্ত গুপ্ত, মইদুল ইসলাম মিদ্যার মৃত্যুও বিজেপির কারণে হয়নি। ভাঙড়ের পাওয়ার গ্রিড-বিরোধী আন্দোলন করার কারণে একাধিক মানুষকে দমনমূলক কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগ করে গ্রেফতার করা হয়েছে (এঁদের অনেকে ‘নো ভোট টু বিজেপি’ ক্যাম্পেনের সদস্য। সে তাঁদের মহত্ব, কিন্তু সকলেই অমন মহৎ হবেন এমনটা আশা করা যায় না)। আন্দোলনরত মাদ্রাসা শিক্ষকদের উপর লাঠি চালানো হয়েছে। টেট পরীক্ষা দিয়ে চাকরি না-পাওয়া ছেলেমেয়েদের আন্দোলনে শীতের রাতে জলকামান চালানো হয়েছে। এক অনশনরত প্যারাটিচারের মৃত্যুও হয়েছে খাস কলকাতায়।
দিল্লির মূলধারার সংবাদমাধ্যম সরকারবিরোধী আন্দোলনকে দেশবিরোধী বলে দেগে দেয়, কলকাতার এঁরা মোটের উপর অগ্রাহ্য করেন। তাই আমাদের অনেকের চোখেই পড়ে না। মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় বর্ণাঢ্য চলচ্চিত্র উৎসব হয় যে শহরে, সেখানে অনীক দত্তের ছবি ‘ভবিষ্যতের ভূত’ সমস্ত আইনি ছাড়পত্র পাওয়ার পরেও মুক্তি পায়নি, সুপ্রিম কোর্টকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। ফলে ত্রিপুরা বা উত্তরপ্রদেশের উদাহরণ অনেককেই বিজেপি সম্বন্ধে নতুন করে আতঙ্কিত করতে পারছে না। আমরা যারা এগুলোর কোনওটাতেই ক্ষতিগ্রস্ত হইনি, তাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে যতটা হৃদ্কম্প হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্তদের যদি ততটা না হয়, তাদের দোষ দেওয়া যায় কি?
এসব প্রশ্ন তুললে ‘নো ভোট টু বিজেপি’ ক্যাম্পেনের দিক থেকে বামফ্রন্ট আমলের বিভিন্ন ঘটনা তুলে এনে বলা হচ্ছে, এমনটা পশ্চিমবঙ্গে আগেও ঘটেছে। অতএব বিজেপি যেহেতু অনেক বড় বিপদ, তাই এসব ভুলে গিয়ে বিজেপির রাস্তা আটকানোকে পাখির চোখ করে ভোট দেওয়াই উচিত। বিজেপি (প্রকৃতপক্ষে আরএসএস) যে এ দেশের সব দলের থেকে আলাদা এবং বেশি ভয়ঙ্কর, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। কিন্তু দুঃখের বিষয়, অতীতে অমল মেরে কমলের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিল জানতে পারলে আজ কমলের হাতে মার খেয়ে বিমলের ব্যথা কম হয় না। সে ওঁত পেতে থাকা শ্যামলের কুকীর্তিগুলো অগ্রাহ্য করে কমলকে পাল্টা মার দিতে চাইলে তাকে অবশ্যই অদূরদর্শী বলা চলে। কিন্তু “আর যা-ই করো বাপু, শ্যামলকে ডেকে এনো না” বলে লাভ হবে না। বরং যদি নির্দিষ্ট করে বলা যায় “কমল/অমল তাদের অতীতের কুকীর্তিগুলোর জন্য লজ্জিত, ওসবের পুনরাবৃত্তি করবে না। ওদের আর একটা সুযোগ দিয়ে দেখো।” তাহলে তবু কিছু হতে পারে। কিন্তু এমন কথা ‘নো ভোট টু বিজেপি’ ক্যাম্পেনের লোকেরা বলতে পারছেন না। পারার কথাও নয়, কারণ তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য নন; সিপিএম, কংগ্রেস বা হঠাৎ গজানো ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টেরও সদস্য নন। এদের হয়ে তাঁরা প্রতিশ্রুতি দেবেন কোন অধিকারে? ওঁরা তাই বলছেন, যে কেন্দ্রে বিজেপির বিরুদ্ধে যে প্রার্থী সবচেয়ে শক্তিশালী, তাকেই ভোট দিন। এই তত্ত্ব অনুযায়ী ভোট দিতে হলে ভোটারকে নিজের দাবিদাওয়া তো ভুলতে হবে বটেই, উপরন্তু হয় জ্যোতিষ, নয় সেফোলজিস্ট হতে হবে।
আজকের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে হৃদয়বান মানুষের বিড়ম্বনার শেষ নেই। পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি বিজেপি এলে সমূহ সর্বনাশ, অথচ বুক ঠুকে “তৃণমূলকে ভোট দিন” বলতে পারছি না। আমার কথা শুনে লোকে ভোট দিল, তারপর নির্বাচিত ব্যক্তি নিজেই হয়তো বিজেপিতে চলে গেলেন। তখন বল মা তারা দাঁড়াই কোথা! আবার যদি বলি “বাম-কংগ্রেস জোটকে ভোট দিন”, তাহলে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে এদের ধর্মীয় নেতারই হাত ধরতে হল কেন, সে ব্যাখ্যা দিতে হয়। তা আমি কোথা থেকে দিই? আমি দলের লোক নই বলে আমার কাছেও ব্যাখ্যা নেই। সম্ভবত এই দ্বন্দ্বেই ‘নো ভোট টু বিজেপি’ ক্যাম্পেনের পাত্রপাত্রীরা দীর্ণ। এর চেয়ে ভাল হত, এঁরা নিজেরাই যদি একটা দল গড়ে নির্বাচনে দাঁড়াতেন। যে পথে হেঁটে ‘ইন্ডিয়া এগেন্সট করাপশন’ আজকের আম আদমি পার্টির চেহারা নিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ অবশ্য অনেক বড় রাজ্য। এখানে কেবল শিল্পী বা সাহিত্যিক হয়ে ভোটে জেতা শক্ত।
https://4numberplatform.com/ এ প্রকাশিত



গত ২৭শে নভেম্বর পাঞ্জাব, হরিয়ানার কৃষকরা তিনটে কৃষি বিল বাতিলের দাবীতে এবং প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ বিলের বিরুদ্ধে দিল্লী অভিযান শুরু করেন। ইতিমধ্যে উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশের মত রাজ্যগুলোর কৃষকরাও পথে নেমে পড়েছেন। মহারাষ্ট্রের কৃষকরা নামবেন বলে ঘোষণা করেছেন। কাউকে কেয়ার না করা মোদী সরকার বুঝেছে ঠ্যালার নাম বাবাজি। এ রীতিমত কৃষক বিদ্রোহ। তাই গায়ের জোর ভুলে অমিত শাহ ও সম্প্রদায় হঠাৎ আলোচনার জোরে বিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। চিড়ে কিন্তু ভিজছে না। একগুঁয়ে চাষাদের এক কথা — সংসদ ডাকো, আইন বাতিল করো। সারা দেশের বাম, মধ্য, দক্ষিণ — যে কোন পন্থার মানুষের কাছেই এই মুহূর্তে এর চেয়ে বড় কোন ঘটনা নেই, কোন ইস্যু নেই, থাকার কথাও নয়। 