বাঙালির উদাসীনতার প্রমাণ ঋদ্ধিমান

ঠ্যালার নাম বাবাজি। সেই বাবাজির কল্যাণে এই জানুয়ারিতে হঠাৎ ভারতীয় ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত রথী মহারথীদের মনে পড়ে গেছে যে ঘরোয়া ক্রিকেট ব্যাপারটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ এবং রঞ্জি ট্রফি বলে একটা প্রতিযোগিতা হয় দেশে। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের কাছে নাকানিচোবানি খাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়াতেও কাপড়ে চোপড়ে করে আসার পর বাধ্য ছেলের মত রঞ্জি খেলতে নেমে পড়েছেন বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, শুভমান গিল, ঋষভ পন্থ প্রমুখ তারকারা। ফলে জন্মে রঞ্জি ট্রফির ধারেকাছে না যাওয়া সংবাদমাধ্যমকেও রোজ জানান দিতে হচ্ছে বিরাট নেটে কার সঙ্গে কথা বললেন, কতজন তাঁকে দেখতে এল, কেমন ওজনের ব্যাট নিয়ে খেললেন ইত্যাদি। ৩০ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া রঞ্জি ম্যাচগুলোতে সারা দেশের নজর দিল্লি বনাম রেলওয়েজ ম্যাচের দিকে, কারণ ওই ম্যাচেই এক যুগ পরে রঞ্জি খেলতে নামছেন বিরাট। তাঁর বিশ্বরূপে চোখ ধাঁধিয়ে গিয়ে বাংলার সংবাদমাধ্যমও দু-চার লাইন লিখেই ক্ষান্ত দিচ্ছে যে এই রাউন্ডে সম্ভবত জীবনের শেষ প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলতে নামছেন ঋদ্ধিমান সাহা। কারণ বাংলার নক আউট স্তরে ওঠার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য।

কেন দু-চার লাইনের বেশি প্রাপ্য ঋদ্ধিমানের? কারণ সর্বকালের সেরা পুরুষ বাঙালি ক্রিকেটারদের তালিকায় তিনি তিন নম্বরে থাকবেন। ইডেন উদ্যানে বৃহস্পতিবার বাংলা বনাম পাঞ্জাব ম্যাচ খেলতে নামার আগে পর্যন্ত ১৪১ খানা প্রথম শ্রেণির ম্যাচে শিলিগুড়ির ছেলে ঋদ্ধিমান ৩৪৪ খানা ক্যাচ ধরেছেন আর ৩৮ খানা স্টাম্পিং করেছেন, প্রায় ৪২ গড়ে সাত হাজারের বেশি রানও করেছেন। ফলে তিনি যে বাংলার সর্বকালের সেরা উইকেটরক্ষক তা নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা হল, সৌরভ গাঙ্গুলি আর পঙ্কজ রায়কে বাদ দিলে আর কোনো বাঙালি ক্রিকেটার ঋদ্ধিমানের চেয়ে বেশি টেস্ট (৪০) খেলে উঠতে পারেননি। শুধু খেলেছেন বললে ভুল হবে। বরেণ্য উইকেটরক্ষক অ্যালান নটের সমসাময়িক হওয়ায় প্রতিভাবান বব টেলরের যেমন ইংল্যান্ডের হয়ে বেশি খেলা হয়নি, মহেন্দ্র সিং ধোনির সমসাময়িক হওয়ায় ঋদ্ধিমানও ভারতীয় দলে নিয়মিত হয়েছেন তিরিশের কোঠায় পা দিয়ে। তা সত্ত্বেও উইকেটের পিছনের দক্ষতায় মুগ্ধ করেছেন সৈয়দ কিরমানি, অ্যাডাম গিলক্রিস্টের মত কিংবদন্তিদের। তাঁর কোনো কোনো ক্যাচ চোখ কপালে তুলে দিয়েছে, ঘূর্ণি উইকেটে তাঁর উইকেটরক্ষা শিল্পের পর্যায়ে উত্তীর্ণ হয়েছে অনেকসময়। নিঃসন্দেহে বলা যায়, ঋষভ পন্থ এসে না পড়লে ঋদ্ধিমান অনায়াসে পঞ্চাশের বেশি টেস্ট খেলে ফেলতেন।

অথচ এই লোকটার অবসর নিয়ে বাংলায় কোনো হইচই নেই। বেহালার নীল রক্তের ক্রিকেটারের খেলোয়াড় জীবনে তাঁকে ঘিরে বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রাবল্য দেখলে বোধহয় সুরেন বাঁড়ুজ্জেও আশ্চর্য হতেন। অথচ শিলিগুড়ির মধ্যবিত্ত বাড়ির ছেলেটার ব্যাপারে কোনোদিন তার ছিটেফোঁটা দেখা যায়নি। স্বভাবতই সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীদেরও তাঁকে নিয়ে উচ্চবাচ্য নেই। চোট আঘাতে চিরকাল জর্জরিত দিল্লির ছেলে আশিস নেহরা, যিনি খেলেছেন মাত্র ১৭ খানা টেস্ট আর ১২০ খানা একদিনে আন্তর্জাতিক ম্যাচে মনে রাখার মত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন মাত্র একবার – তাঁকে যখন বিশেষ সম্মান দিয়ে ঘরের মাঠে টি টোয়েন্টি খেলে অবসর নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড, তখন বাংলার সাংবাদিকরা কত কাব্য যে করেছেন! ঋদ্ধিমানের বেলায় সাজানো কালি শুকিয়ে গেল? একখানা সর্বভারতীয় ইংরিজি খেলার পত্রিকা ছাড়া কোথাও তো ঋদ্ধিমানের কোনো দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দেখছি না!

আরো পড়ুন ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য আরও আঘাত অপেক্ষা করছে

অথচ ঋদ্ধিমানের ক্রিকেটজীবন যেভাবে শেষ হল, তিনি তত অযত্নের পাত্র ছিলেন না। টেস্ট দলে জায়গা পাকা করে নেওয়া ঋদ্ধিমান ২০১৮ সালে অস্ত্রোপচারের জন্য বিশ্রামে যেতে বাধ্য হলেন। যখন ফিরে এলেন তখন তাঁকে জায়গা ফিরিয়ে দেওয়া হল না, রেখে দেওয়া হল তরুণ ঋষভকে। কেন? না তিনি ইংল্যান্ডে শতরান করে ফেলেছেন। অথচ ঋষভের উইকেটরক্ষা এখন যত ভালই হোক, তখনো মোটেই ভরসা জোগানোর মত হয়নি। সে যতই তিনি এক ইনিংসে পাঁচটা ক্যাচ ধরে থাকুন। বিশেষত স্পিনারদের বিরুদ্ধে তাঁর উইকেটরক্ষা হাস্যকর হয়ে দাঁড়াত প্রায়শই। তা সত্ত্বেও ঋদ্ধিমান হয়ে গেলেন দ্বিতীয় পছন্দ। একটা অভিনব সূত্র দিল টিম ম্যানেজমেন্ট – বিদেশে কিপিং করবেন ঋষভ, কারণ ওখানে স্পিনারদের সামলাতে হয় না। আর দেশে ঋদ্ধিমান। সবসময় অবশ্য তাও মানা হয়নি। সৌরভের গোটা কেরিয়ারে প্রতিদিন তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাওয়া বাঙালি সমাজ তখন বিক্ষোভে ফেটে পড়েনি। ঋষভ ভাল খেলে দিয়েছেন, ঋদ্ধিমানকে জায়গা ফিরিয়ে দেওয়ার উপায় ছিল না – এ যুক্তি কিন্তু অসার। কারণ প্রথমত, ভাল খেলার বহরটা আগেই উল্লেখ করলাম। দ্বিতীয়ত, অধিনায়ক বিরাটের আমলেই ২০১৬ সালে চোটের জন্য দলের বাইরে থাকা সিনিয়র ক্রিকেটার অজিঙ্ক রাহানের জায়গায় একটা টেস্টে সুযোগ পেয়ে করুণ নায়ার ত্রিশতরান হাঁকিয়েছিলেন। অথচ পরের টেস্টেই সুস্থ রাহানেকে তাঁর জায়গা ফেরত দেওয়া হয় (করুণ আজ পর্যন্ত আর মোটে তিনটে টেস্ট খেলেছেন)। তখন বিরাটের যুক্তি ছিল – একটা পারফরম্যান্স অন্য একজন খেলোয়াড়ের কয়েক বছরের পরিশ্রমের মূল্য চুকিয়ে দিতে পারে না। সঠিক ক্রিকেটিয় যুক্তি, কিন্তু সেটা ঋদ্ধিমানের বেলায় খাটল না!

তাঁকে একেবারে বাদ দেওয়ার সময়ে অবশ্য কোচ রাহুল দ্রাবিড় আলাদা করে ডেকে বলেছিলেন বয়সের কারণে তাঁকে নিয়ে আর ভাবা হবে না। এটাও ক্রিকেটিয় যুক্তি হিসাবে ভুল নয়। কিন্তু তাঁর বদলে যাকে ভাবা হয়েছিল, সেই কে এস ভরত ইতিমধ্যেই তলিয়ে গেছেন। আরও বড় কথা, ঋদ্ধিমানের চেয়ে অনেক বেশি ধারাবাহিক ব্যর্থতার পরেও একই বয়সে পৌঁছে যাওয়া বিরাট আর রোহিতকে আজ ‘তোমাদের নিয়ে আর ভাবা হবে না’ বলার সাহস গৌতম গম্ভীর বা প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর দেখাতে পারছেন না। দলের স্বার্থে নিজেকে বাদ দেওয়া, ধেড়ে বয়সে রঞ্জি দলের নেটে এসে ব্যাকফুটে খেলার অনুশীলন ইত্যাদি আদিখ্যেতা চলছে।

ঋদ্ধিমানের প্রতি সবচেয়ে ন্যক্কারজনক ব্যবহার করেছেন অবশ্য বাঙালিরাই। ভুললে চলবে না, তাঁকে যখন দল থেকে ক্রমশ সরিয়ে দেওয়া হল তখন বোর্ড সভাপতি ছিলেন বাংলার গৌরব সৌরভ। তারপর ২০২২ সালে এক বাঙালি সাংবাদিক সাক্ষাৎকার না দেওয়ার ‘অপরাধে’ ঋদ্ধিমানকে রীতিমত হুমকি দেন – দলে একজন উইকেটরক্ষকই সুযোগ পায়, তুমি ১১ জন সাংবাদিককে বেছে নেওয়ার চেষ্টা করছ। এটা আমার মতে ঠিক নয়… তুমি আমায় ফোন করোনি… কাজটা কিন্তু ভাল করলে না…ইত্যাদি। সেই হুমকি টুইটারে ফাঁস করে দেন ঋদ্ধিমান। বোর্ড বাধ্য হয়ে সেই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তদন্ত করে এবং সাময়িকভাবে তাঁর ভারতীয় ক্রিকেট কভার করা নিষিদ্ধ হয়। তবে তিনি বহাল তবিয়তে ফিরে এসেছেন। তাঁর প্রতি অবিচার হয়েছে – এই মর্মে বই লিখেছেন, সে বই ক্রিকেটমহলের পৃষ্ঠপোষকতাও পেয়েছে। মাঝখান থেকে ঋদ্ধিমানের আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শেষ হয়ে গেছে। তারপর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি) কর্তাদের ব্যবহারে আঘাত পেয়ে তিনি ত্রিপুরার হয়ে খেলতে চলে গিয়েছিলেন। শেষমেশ গ্যালারির ফাঁক দিয়ে ইডেন উদ্যানে শুভবুদ্ধির হাওয়া এসে পড়ে হাইকোর্ট প্রান্ত থেকে এবং সৌরভের কথায় (ঋদ্ধিমানের বয়ান অনুযায়ী) তিনি শেষ মরশুমটা বাংলার হয়ে খেলার সুযোগ পান।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ঋদ্ধিমানের যে সাক্ষাৎকারের কথা উল্লেখ করলাম, তাতে অভিমানের সুর স্পষ্ট। তিনি বলেছেন “আমি বরাবর বিশ্বাস করেছি যে পারফরম্যান্সই একজন খেলোয়াড়ের পরিচয়, পাবলিক রিলেশন নয়।” বলা বাহুল্য, যুগটা বদলে গেছে। একটা ব্যাপার অবশ্য বদলায়নি – কলকাতার বাইরের বাঙালি সম্পর্কে বাঙালির উদাসীনতা।

উত্তরবঙ্গ সংবাদে প্রকাশিত

বাংলার ক্রিকেটের রূপ খুঁজিতে যাই না আর

কলকাতা নাইট রাইডার্স আইপিএল জেতায় রাজ্যের রাজধানীতে এ রাজ্যের করদাতাদের টাকায় ঘটা করে সংবর্ধনাও দেওয়া হয়েছিল। তাতে বাংলার ক্রিকেটের কী উপকার হয়েছে?

শিল্পপতি সৌরভ গাঙ্গুলির শালবনির প্রস্তাবিত ইস্পাত কারখানা সফল হবে কিনা তা ভবিষ্যৎ বলবে। কিন্তু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল কর্তা সৌরভের ভিশন ২০-২০ প্রোজেক্ট যে মুখ থুবড়ে পড়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সিএবি প্রধান হয়েই ভারতের সর্বকালের সেরা ক্রিকেট অধিনায়কদের অন্যতম সৌরভ বাংলার ক্রিকেটকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। তাঁর আন্তর্জাতিক পরিচিতির জোরে ব্যাটারদের জন্যে ভাঙ্গিপুরাপ্পু ভেঙ্কটসাই লক্ষ্মণ, জোরে বোলারদের জন্যে ওয়াকার ইউনিস, স্পিনারদের জন্যে মুথাইয়া মুরলীথরন বাংলা দলের নেট আলো করে ছিলেন বেশ কিছুদিন। কিন্তু সেসবই ক্ষণিকের হাসিকান্না। তাতে বাংলার ক্রিকেট দলের বা রাজ্যের ক্রিকেটের কোনো দীর্ঘমেয়াদি লাভ হয়েছে বলে এই ২০২৪ সালের শেষ শীতে এসে তো দেখা যাচ্ছে না। এই বাক্য এমন একটা সময়ে লিখতে হচ্ছে যখন ভারতীয় দলে একসঙ্গে দুজন বাংলা দলের বোলার রয়েছেন, রাঁচি টেস্টে আকাশ দীপের অভিষেকও মন্দ হয়নি। মহম্মদ শামি এই মুহূর্তে চোটের জন্যে বিশ্রামে থাকলেও দীর্ঘকাল ধরে তিনি ভারতীয় বোলিংয়ের স্তম্ভ। ফিরে এলে অদূর ভবিষ্যতে যশপ্রীত বুমরার বিশ্রামের ম্যাচে যদি বাংলার তিন পেসারকে একসঙ্গে খেলতে দেখা যায় তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। অভিমন্যু ঈশ্বরণ যে হারে রান করে চলেছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে এবং ভারত এ দলের হয়ে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে তাঁকেও ভারতীয় দলে খেলতে দেখা যেতেই পারে। তাহলে বাংলার ক্রিকেটের কোনো লাভ হয়নি বলছি কেন? কারণ একাধিক।

এগুলো ব্যক্তিগত সাফল্য মাত্র। শামি, মুকেশ কুমার আর আকাশকে রঞ্জি ট্রফিতে বাংলার হয়ে একসঙ্গে খেলতে দেখা যাবে – এমন সম্ভাবনা কম। ভারতীয় দল এত বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে যে একবার জাতীয় দলে থিতু হয়ে গেলে রঞ্জি ম্যাচ খেলার আর অবকাশ থাকে না। তার উপর সময়, সুযোগ থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার আগ্রহ এখন ক্রিকেটারদের মধ্যে ক্রমহ্রাসমান। আইপিএলে নিয়মিত হয়ে যেতে পারলে তো কথাই নেই। বাংলার প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের ঈশান কিষণ তো টেস্টও খেলতে চাইছেন না। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের মাঝপথ থেকে পলাতক ছবির অনুপকুমার হয়ে গেলেন। ঝাড়খণ্ড দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও তাঁকে খুঁজে পাচ্ছেন না। ফলে রাজ্য থেকে কোনো ক্রিকেটার জাতীয় দলে সুযোগ পেলে এখন বেল পাকলে কাকের কী বলাই সমীচীন। দেখা দরকার, রাজ্য দল সাফল্য পাচ্ছে কি? সে প্রশ্নের উত্তর নেতিবাচক।

শীত শেষ হওয়ার আগেই বাংলার রঞ্জি দলের অভিযান শেষ হয়ে গেছে এবারে। এলিট গ্রুপ বি-তে তৃতীয় স্থানে শেষ করেছে বাংলা। ফলে নক আউট পর্যায়ে পৌঁছনো হয়নি। গত মরসুমে ফাইনালে পৌঁছে থাকলেও সৌরাষ্ট্রের কাছে শোচনীয় হার হয়েছিল। তার আগেরবার সেমিফাইনালে মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধেও একই ঘটনা ঘটে। অতিমারীর আগের শেষ রঞ্জি ট্রফিতেও ফাইনালে সৌরাষ্ট্রের কাছেই ইনিংসে হার হয়েছিল বাংলার। অর্থাৎ ঘরোয়া ক্রিকেটে যে দলগুলো ধারাবাহিকভাবে সফল, তাদের সামনে পড়লেই ব্যবধান অনেকখানি হয়ে যাচ্ছে। মুম্বাইয়ের মত ঘরোয়া ক্রিকেটের সর্বকালের সেরা দল দূর অস্ত, কর্ণাটক বা তামিলনাড়ুর স্তরেও পৌঁছয়নি বাংলা। সাফল্যের লেখচিত্র ঊর্ধ্বগামী হওয়ার বদলে নিম্নগামী বললেও ভুল হয় না। পঞ্চাশ ওভারের প্রতিযোগিতা বিজয় হাজারে ট্রফিতেও সাম্প্রতিককালে বলার মত সাফল্য নেই। কুড়ি ওভারের মুস্তাক আলি ট্রফি নিয়ে আলোচনা নিষ্প্রয়োজন, কারণ ওটা বস্তুত আইপিএলের প্রতিভা অন্বেষণ পরীক্ষা। সেখান থেকে আকাশ দীপ, শাহবাজ আহমেদদের ফ্র্যাঞ্চাইজগুলো খুঁজে নিচ্ছে।

বাংলার ক্রিকেটের আরেকটা দিকও আলোচনার যোগ্য। শামি, মুকেশ, আকাশরা নিজেদের রাজ্যে ক্রিকেট খেলার পরিবেশ না পেয়ে কলকাতায় এসে পরিশ্রম করে জাতীয় দলে খেলার যোগ্যতা অর্জন করছেন। অথচ সৌরভের পর ঋদ্ধিমান সাহা ছাড়া কোনো স্থানীয় ক্রিকেটার কিন্তু ভারতীয় দলে নিয়মিত হয়ে উঠতে পারেননি। তাহলে নয়ের দশক থেকে সৌরভের দৃষ্টান্তে পাড়ায় পাড়ায় গজিয়ে ওঠা কোচিং সেন্টারগুলো কী অবদান রাখল? না, বাংলা পক্ষ মার্কা বাঙালির প্রতি বঞ্চনার অভিযোগ তুলছি না। বলছি ছেলের কিটব্যাগ বয়ে নিয়ে যাওয়া উচ্চাকাঙ্ক্ষী বাঙালি বাবা-মায়েরা ভিনরাজ্য থেকে আসা ছেলেগুলোকে দেখে শিখতে পারেন – সাফল্যের খিদে আসলে কী জিনিস এবং পরিশ্রম কাকে বলে।

পরিশ্রমী বাঙালিকে অবশ্য বাঙালিরাও যে প্রাপ্য সম্মান দেন তা নয়। নইলে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটে মনোজ তিওয়ারির চেয়ে অনেক বেশি সফল ঋদ্ধিমান সাহাকে বাংলা ছেড়ে ত্রিপুরায় চলে যেতে হত না। তাঁর অপরাধ কী ছিল? অনেক ভেবেও সৌরভ-ঘনিষ্ঠ এক সাংবাদিককে চটিয়ে ফেলা ছাড়া অন্য কিছু পাওয়া যাবে না। অথচ মনোজ গত মরসুমের শেষে আর খেলব না বলায় কান্নাকাটি পড়ে গিয়েছিল। শেষমেশ সিএবি সচিব স্নেহাশিস গাঙ্গুলির অনুরোধে তিনি এ মরসুমেও খেলতে রাজি হয়ে যান। তরুণ ক্রিকেটারদের উঠে আসার সুযোগ দিতে হবে ইত্যাদি যুক্তি কারোর মাথায় আসেনি। এবারে বিহারের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচ খেলে চূড়ান্ত অবসর ঘোষণা করার পর মনোজকে রীতিমত সংবর্ধনাও দেওয়া হয়েছে। অবশ্য ঋদ্ধিমান এমন ব্যবহার আশা করতে পারেন না। তাঁর চোদ্দ পুরুষে কেউ কখনো সিএবি কর্তা ছিলেন না। তার উপর তিনি কলকাতার অভিজাত পরিবারের সন্তান নন। তিনি হলেন শিলিগুড়ির ছেলে, যেখান দিয়ে কলকাতার বাবু বিবিরা দার্জিলিং, কালিম্পং, গ্যাংটক বেড়াতে যান। খেলতে খেলতেই রাজনীতিতে নেমে পড়ে কেউকেটা হতে পারলে অন্য কথা ছিল। অন্যথায় ঋদ্ধিমান বাংলার ক্রিকেটের কতটা সেবা করেছেন না করেছেন তার হিসাব করা বৃথা।

আরও পড়ুন কুস্তিগীরদের আন্দোলন: মহাতারকাদের মহাকাপুরুষতা

আরও একটা কথা ভেবে দেখার মত। শাহরুখ খান ধুতি পাঞ্জাবি পরে রবীন্দ্রনাথের ছবিতে মালা দিয়ে, ভুল বাংলায় থিম সং গেয়ে ইডেন উদ্যানে যে দলটার তাঁবু ফেলেছেন, সেই কলকাতা নাইট রাইডার্সকে দিয়ে বাংলার ক্রিকেটের কী উপকার হচ্ছে? ওটা কাল রাজকোট নাইট রাইডার্স বা অযোধ্যা নাইট রাইডার্স হয়ে গেলেই বা কী ক্ষতি হবে? সে দল আইপিএল জেতায় রাজ্যের রাজধানীতে এ রাজ্যের করদাতাদের টাকায় ঘটা করে সংবর্ধনাও দেওয়া হয়েছিল। তাতে বাংলার ক্রিকেটের কী উপকার হয়েছে? আইপিএল যখন চালু হয়, তখন বলা হয়েছিল ফ্র্যাঞ্চাইজগুলো যে এলাকায়, সেই এলাকার ক্রিকেটের উন্নতিকল্পে তারা কাজ করবে। সে কাজের কোনো হিসাব আছে? রাজ্য সরকারের এ রাজ্যের সমস্ত খেলায় যেরকম কড়া নজর, তাতে কলকাতা নাইট রাইডার্সের জবাবদিহি চাইতে পারে কিন্তু।

মনোজ নিজেই মন্ত্রিসভার সদস্য। সুতরাং চাইলে স্বয়ং এ কাজ করতে পারেন। কিন্তু বাংলার ক্রিকেটের যে আর গুরুত্ব নেই তা তো তিনি ভালই বুঝে ফেলেছেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দশ হাজারের বেশি রানের মালিক মনোজ বিদায়কালে বলেছেন, তরুণ খেলোয়াড়রা আইপিএলকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। কিছুদিন আগে হতাশ হয়ে এক্সে পোস্ট করে ফেলেছিলেন যে পরের মরসুম থেকে রঞ্জি ট্রফি বন্ধই করে দেওয়া উচিত। তার জন্যে বোর্ডকে জরিমানাও দিতে হয়েছে। কিন্তু কথাটা তো ভুল বলেননি। আগামী দিনে বাংলার ক্রিকেট বলে আদৌ কিছু থাকবে কিনা কে জানে? সুতরাং আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজকে চটিয়ে কী লাভ? তাদের বিরুদ্ধে কিছু করে, লড়েই জেতার আশা নেই।

উত্তরবঙ্গ সংবাদে প্রকাশিত

বাঙালি কাহারে কয়, সে কি কেবলি সৌরভময়?

ভুল হয়ে গেছে বিলকুল
আর সবকিছু ভাগ হয়ে গেছে
ভাগ হয়নিকো নজরুল।
সেই ভুলটুকু বেঁচে থাক
বাঙালি বলতে একজন আছে
দুর্গতি তাঁর ঘুচে যাক।

অন্নদাশঙ্কর রায় এসব লিখেছেন বহুকাল হয়ে গেল। কিন্তু আজও কলকাতা ও তার শহরতলির ভদ্রজন বলে থাকেন “বাঙালি আর মুসলমান”। বোঝা শক্ত নয় যে বাঙালি বলতে তাঁরা বোঝেন হিন্দু বাংলাভাষীদের। মুশকিল হল, পশ্চিমবঙ্গের কাগজ, টিভি, এমনকি সরকারও চালান মূলত কলকাতা এবং সংলগ্ন অঞ্চলের ভদ্রজনই। কোনটা বাঙালি ভাবাবেগকে আহত করে (ইদানীং আবার ভাবাবেগ না লিখে অস্মিতা লেখা চালু হয়েছে), কোনটা করে না তাও ঠিক করে দেন ওঁরাই। ফলে শেষমেশ দেখা যায় বাঙালি বলতে সব বাঙালি হিন্দুও নয়, কেবল তাঁদেরই বোঝাচ্ছে। সুতরাং দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের সময়ে মাল নদীতে হড়পা বান এসে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি হলে বাঙালির ভাবাবেগ আহত হয় না, কলকাতায় ড্যাং ড্যাং করে কার্নিভাল চলে। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড নামক এক লাভজনক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষপদ বেহালার গাঙ্গুলিবাড়ির ছোট ছেলেটির হাতছাড়া হলে বাঙালির ভাবাবেগ এতদূর আহত হয়, যে মুখ্যমন্ত্রীকে ময়দানে নামতে হয়। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের নেতাকে বলতে হয়, মহারাজকে সম্মান দিতে চাইলে শাহরুখ খানকে সরিয়ে তাঁকেই রাজ্যের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর করুন না। বামপন্থীরাও বলেন, এসব হল দেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে বিজেপির কুক্ষিগত করার চক্রান্ত। কেন সব রাজনৈতিক দলকেই কিছু না কিছু বলতেই হয়? কারণ নজরুল-টজরুল আজকাল আর কে পড়ে? এখন বাঙালি বলতে একজন আছে – সৌরভ গাঙ্গুলি।

অর্থাৎ বাঙালি মানে দাঁড়াল কলকাতা ঘেঁষা ভদ্রজন। তাঁদের আবেগ জড়িত বলেই তো ইস্টবেঙ্গল আইএসএলে দল নামাতে পারল কিনা তা মুখ্যমন্ত্রীকে তদারক করতে হয়, কিন্তু মহমেডান স্পোর্টিং থাকল কি উঠে গেল তা নিয়ে কারোর মাথাব্যথা থাকে না। দু-একদিন হইচইয়ের পরেই সংবাদমাধ্যম এবং ক্রীড়াপ্রেমীদের স্মৃতি থেকে হারিয়ে যান জাতীয় গেমসে ফুটবলে সোনা জয়ী বাংলা দলের ফুটবলাররা। দুদিন দুরাত ট্রেনে করে ফিরতে না হলে আদৌ তাঁদের নিয়ে কেউ আলোচনা করত কিনা তাতেও সন্দেহ আছে। একই কারণে জাতীয় গেমসে বাংলা কোথায় শেষ করল, কেন করল – সেসব নিয়ে রাজ্যের সর্বাধিক প্রচারিত খবরের কাগজগুলোতে কয়েক সেন্টিমিটার জায়গাও খরচ করা হয় না। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে অমিত শাহের প্রসাদে ক্রিকেট বোর্ডের সর্বোচ্চ পদে বসে থাকা সৌরভ কত বড় বঞ্চনার শিকার হলেন তা নিয়ে বিস্তারিত লেখা হয় একেবারে প্রথম পাতায়।

ঘটনাচক্রে সৌরভ যে বছর ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হলেন সে বছরই অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পান অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে বাঙালি বলে দাবি করতে উৎসাহের খামতি হয়নি জনমত গঠনকারী বাবুদের। সে তবু একরকম, কিন্তু বাঙালি ভাবাবেগ এত সহজপাচ্য যে কলকাতার ইস্টার্ন মেট্রোপলিটান বাইপাসের ধারে অভিজিৎ আর সৌরভকে বাঙালির গর্ব হিসাবে পাশাপাশি রেখে হোর্ডিং টাঙিয়েছিল কে বা কারা। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক সমাজবিজ্ঞানে মৌলিক গবেষণার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদত্ত পৃথিবীর সেরা পুরস্কার অর্জনের কৃতিত্ব কী করে এক ব্যবসায়িক সংস্থার আভ্যন্তরীণ রাজনীতির ছক্কা পাঞ্জায় সফল হয়ে পাওয়া চেয়ারের সমান হয়, তা বাঙালিই জানে। কিন্তু কী আর করা যাবে? মহাজনেরা দেগে দিয়েছেন, বাঙালি বলতে একজনই আছে।

দাগানোর কাজটা আজ হয়নি, হয়েছে সৌরভের খেলোয়াড় জীবনেই। লর্ডসে টেস্ট অভিষেকের পর থেকে কোনো ম্যাচে প্রথম একাদশ থেকে সৌরভ বাদ গেলেই বাংলায় বসে মনে হত নেতাজি সুভাষচন্দ্র কংগ্রেসের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হওয়ার পরে এত বড় অন্যায় আর কোনো বাঙালির সঙ্গে করা হয়নি। আজকের মুখ্যমন্ত্রী সৌরভকে পদ পাইয়ে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান, আগের সরকারও কিছু কম যেত না। ১৯৯৭ সালে ঢাকায় ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপ ফাইনালে সৌরভ একটি অবিস্মরণীয় ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁর প্রকাশ্য সংবর্ধনার আয়োজন করে। অবাক কাণ্ড! জিতিয়েছেন একটি ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল, বিশ্বকাপ ফাইনাল নয়। তার জন্যে সরকারি সংবর্ধনা পাওয়ার সৌভাগ্য পৃথিবীর কজন ক্রিকেটারের হয়েছে বলা মুশকিল। অন্তত শচীন তেন্ডুলকরের যে হয়নি তা হলফ করে বলা যায়। তিনি পরের বছরেই শারজায় প্রায় একক কৃতিত্বে একই সপ্তাহে দুবার স্টিভ ওয়র অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ভারতকে খেতাব জেতান। এমন ব্যাট করেছিলেন যে ওয় বলেন ডন ব্র্যাডম্যানের পরে শচীনই সেরা। তবু কিন্তু মহারাষ্ট্র সরকার তাঁর বর্ণাঢ্য সংবর্ধনার ব্যবস্থা করেনি।

আরও পড়ুন ক্রিকেটার তুমি কার?

বাঙালি ক্রীড়াবিদকে বাংলার সরকার সম্মান জানিয়েছে – এর নিন্দা করলে আবার অনেকে রেগে যেতে পারেন। পক্ষ সমর্থনে এমনও বলা যেতে পারে, যে বাঙালিদের মধ্যে থেকে তো আর মুম্বাইয়ের মত কাঁড়ি কাঁড়ি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার বেরোয় না, আমাদের সবেধন নীলমণি সৌরভই আছেন। তাই আমরা, আমাদের সরকার একটু বাড়াবাড়ি করলে ক্ষতি কী? কথা হল, ক্ষতি কিছু হত না, যদি সব বাঙালি ক্রীড়াবিদ সম্পর্কেই এমন মহৎ চিন্তা গোটা বাংলার মানুষের এবং মানুষের দ্বারা নির্বাচিত সরকারগুলোর থাকত। বাংলার রঞ্জি ট্রফি দলের সুলুকসন্ধান কজন বাঙালি রাখেন তার ঠিক নেই, কিন্তু কলকাতা নাইট রাইডার্স আইপিএল জিতলে ঘটা করে ইডেন উদ্যানে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সংবর্ধনার ব্যবস্থা হয়। সৌরভকে দল থেকে বাদ দিলে গেল গেল রব উঠত, এখন প্রশাসনিক পদে থাকতে না দিলেও বাঙালির জাতীয় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। অথচ কলকাতার বৃত্তের বাইরের লোক, শিলিগুড়ির ছেলে ঋদ্ধিমান সাহা ফর্ম না হারিয়েও স্রেফ আহত হয়ে দলের বাইরে যাওয়ার জন্যেই যখন ভারতীয় দলে তাঁর জায়গা খোয়ালেন, তখন তেমন আলোড়ন উঠল না। উঠল তখন যখন ঋদ্ধিমানের স্থলাভিষিক্ত তরুণ ঋষভ পন্থ দুরন্ত ব্যাটিংয়ে তাঁর জায়গা পাকা করে ফেলেছেন, স্বভাবতই কোচ রাহুল দ্রাবিড় ঋদ্ধিমানের দীর্ঘ কেরিয়ারকে সম্মান করে আলাদা করে ডেকে বলে দিয়েছেন তাঁকে আর টেস্ট দলের জন্য ভাবা হবে না। হপ্তাখানেক কলকাতার সংবাদমাধ্যম ঋদ্ধিমানের প্রতি অবিচারের জন্য দ্রাবিড়কে খলনায়ক বানিয়ে অশ্রুপাত করল। আগে উচ্চবাচ্য করা হয়নি। সম্ভবত তার কারণ তখন খলনায়ক খুঁজতে হলে প্রথমেই স্বয়ং সৌরভের দিকে আঙুল তুলতে হত। কারণ তিনি তখন বোর্ড সভাপতি তো বটেই, তার চেয়েও বড় কথা ঋষভ আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের ক্রিকেটার আর সৌরভ সেই দলেরই পরামর্শদাতা ছিলেন বোর্ডকর্তা হওয়ার আগে পর্যন্ত।

ক্রিকেটিয় কারণে ঋদ্ধিমানের ভারতীয় দলের জন্য আর বিবেচিত না হওয়া তবু মেনে নেওয়া যায়, বোর্ড সভাপতি সৌরভ যে দল নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে পারেন না সে কথাও না হয় মেনে নেওয়া গেল। কিন্তু ঋদ্ধিমানের মত বর্ষীয়ান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খেলোয়াড় তো বাংলার তরুণ ক্রিকেটারদের কাছে অমূল্য সম্পদ হতে পারতেন। তাঁকে কেন ত্রিপুরায় চলে যেতে হল বাংলার ক্রিকেটকর্তাদের অপমানজনক ব্যবহারে? এ নিয়ে সরাসরি আঙুল ওঠা উচিত ছিল সৌরভের দিকে। তিনি বোর্ড সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের প্রতিনিধি হিসাবেই। সুতরাং এ ব্যাপারে তাঁর হস্তক্ষেপ করা বেআইনিও হত না। কিন্তু এসব পশ্চিমবঙ্গে কোনো আলোচনার বিষয়ই নয়। কারণ সম্ভবত সৌরভ যতটা বাঙালি, ঋদ্ধিমান ততটা বাঙালি নন।

এশিয়ান গেমসে হেপ্টাথলনে সোনা জয়ী স্বপ্না বর্মনও সৌরভের মত বাঙালি নন নিশ্চয়ই। নইলে স্বপ্নার মধ্যপ্রদেশে চলে যাওয়া আটকাতে মুখ্যমন্ত্রী নিজে আসরে নামলেন না কেন? কোথায় গেল বাঙালির ভাবাবেগ?

উত্তরবঙ্গ সংবাদে প্রকাশিত