কানহাইয়ার কেরিয়ার আর কমিউনিস্ট আদর্শবাদ: তার ছিঁড়ে গেছে কবে

মার্কস গুলে খাওয়া সত্ত্বেও পুঁজিবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষা তেজস্বী সূর্যদের চেয়ে কানহাইয়া কুমারদের মধ্যে কম নয়।

পশ্চিমবঙ্গে তখন বামফ্রন্ট সরকার। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক অনিল বিশ্বাস, মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। সিপিএম নেতৃত্বে কেন তরুণ প্রজন্মকে দেখা যাচ্ছে না তা নিয়ে প্রবল আলোচনা চতুর্দিকে। কোনো এক সাংবাদিক সম্মেলনে তা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে সিপিএমের প্রতিনিধি যা বলেছিলেন তা অনেকটা এইরকম — গরীব খেটে খাওয়া মানুষের জন্যে যেসব তরুণ কাজ করতে চান, তাঁরা আমাদের পার্টিতে স্বাগত। কমিউনিস্ট পার্টিতে নেতৃত্বে আসা এক দীর্ঘ প্রক্রিয়া। কাজের মধ্যে দিয়েই সংগঠন তার নেতা খুঁজে নেয়। কিন্তু নেতা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কমিউনিস্ট পার্টি করা যায় না। নেতা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকলে আমাদের পার্টিতে আসবেন না।

সর্বাধিক প্রচারিত বাংলা দৈনিকে এই সাংবাদিক সম্মেলনের প্রতিবেদনে উদ্বেগ সহকারে লেখা হয়েছিল, সিপিএম নেতৃত্ব বুঝতে পারছেন না যুবসমাজের উপর এই বিবৃতির কীরকম বিরূপ প্রভাব পড়বে। সিপিএম কি বলতে চাইছে কারোর যদি জীবনের লক্ষ্য হয় পরবর্তী অনিল বিশ্বাস বা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য হওয়া, তার জন্যে পার্টিতে কোনো জায়গা নেই? বামপন্থীরা আবার প্রমাণ করল তারা যুবসমাজের অ্যাম্বিশনকে কোনো দাম দেয় না।

অন্যান্য সংবাদমাধ্যমেও অনুরূপ সমালোচনা হয়েছিল। এই বিশুদ্ধতা কার্যক্ষেত্রে সিপিএম কতটা বজায় রেখেছিল, সকলের জন্য একইভাবে রেখেছিল কিনা, কতজন নানাবিধ কায়েমী স্বার্থ নিয়েই সেই আমলে সিপিএম বা অন্য বাম দলগুলোতে ঢুকে পড়েছিল বিভিন্ন স্তরে — তা ভিন্ন আলোচনার বিষয় এবং সে আলোচনায় সিপিএমের অন্ধকার দিকগুলোই নিশ্চিতভাবে বেশি আলোকিত হবে। কিন্তু এই সহস্রাব্দের গোড়ায় একটা ক্ষমতাসীন দল বলছে নেতা হতে চাইলে আমাদের দলে আসবেন না, মানুষের জন্য কাজ করতে চাইলে আসুন। আর সে জন্যে সংবাদমাধ্যম তাদের নিন্দা করছে — এ কথা মনে পড়লে বুঝতে অসুবিধা হয় না, কেন দেশ আজকের অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। সেদিন সোশাল মিডিয়া ছিল না। থাকলে সেখানেও যে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত সংবাদমাধ্যমের সাথে মিলে যেত, তা বলাই বাহুল্য। আসলে রাজনীতি যে আর পাঁচটা পেশার মতই একটা পেশা, তেমনটা হওয়াই যে কাম্য — একথা অর্থনৈতিক উদারীকরণের ভারতে সযত্নে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। আজ অমিত শাহকে ব্রিফকেস নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখে যাঁরা নীতি-নৈতিকতার কথা তোলেন, তাঁরাই অনেকে ওই তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করার পুরোভাগে ছিলেন।

অ্যাম্বিশন, কেরিয়ার — এই শব্দগুলো যদি রাজনীতির জগতে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে, তার অনিবার্য ফল প্রশান্ত কিশোর, অমিত শাহ। এবং কানহাইয়া কুমার। কাঁটাবিহীন গোলাপ হয় না। টাকার বিনিময়ে যে কোনো পার্টিকে ভোটে জেতানোর চেষ্টা করা যার পেশা, সেই প্রশান্ত কিশোরকে জিনিয়াস বলব; আর অমিত শাহ টাকা দিয়ে বিধায়ক কিনে নিলে গেল গেল রব তুলব — এটা যে দ্বিচারিতা, তা স্বীকার করার সময় এসে গেছে। না করলে অমিত শাহদের শক্তি বাড়তেই থাকবে। তেমনি কানহাইয়া কুমার সিপিআই ছেড়ে কংগ্রেসে গেলে খুশি হব, বলব সে এমন একটা পার্টিতে গেল যেখানে ওর প্রতিভা কাজে লাগবে; আর জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বা ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং বিজেপিতে গেলেই (ক্যাপ্টেন এখনো যাননি, এই লেখার সময় অমিত শাহের সাথে দেখা করবেন বলে খবর) জনগণের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করল বলে চেঁচাব, তা হয় না। রাজনীতির নীতিহীনতা নিয়ে যত বড় বড় কথাই বলা বা লেখা হোক, আসলে ও নিয়ে আমাদের কারোর মাথাব্যথা নেই। মাথায় আগুন জ্বলে ওঠে শুধুমাত্র নীতিহীনতার ফলটা আমাদের পছন্দের দলের পক্ষে না গেলে।

এই সত্য মেনে নিয়ে সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে আলোচিত বামপন্থী কানহাইয়া কুমারের কংগ্রেসে যোগদান নিয়ে আলোচনা করা যাক।

কানহাইয়া কেন সবচেয়ে আলোচিত? তিনি কি বিপুল ব্যবধানে কোনো নির্বাচনে জিতেছেন? না। তিনি কোনো বিরাট গণআন্দোলন সংগঠিত করেছেন? না। আসলে কানহাইয়া পাদপ্রদীপের আলো সবচেয়ে বেশি পেয়েছেন বলে সবচেয়ে আলোচিত। অকারণে পাননি। কমিউনিস্টদের মধ্যে দীর্ঘদিন যাকে প্রায় কৌলীন্যের লক্ষণ বলে ধরা হত, ছাত্রাবস্থাতেই সেই কারাবাস তাঁকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে এসেছে। একেবারে প্রবাদপ্রতিম কমিউনিস্ট নেতাদের মতই অকারণে, সম্পূর্ণ সাজানো কেসে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। যেহেতু ঘটনাটা ঘটেছিল ভারতের রাজধানীতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়টার নাম জহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, স্বভাবতই দেশের সব টিভি ক্যামেরার চোখ পড়েছিল তাঁর উপর। নিঃসংশয়ে বলা যায়, কানহাইয়া নামক সেলিব্রিটির জন্ম হল হাজতবাস কাটিয়ে ফিরে আসার রাত্রে, যখন তিনি ক্যাম্পাসে দাঁড়িয়ে এক দীর্ঘ বক্তৃতা দিলেন। প্রায় সব চব্বিশ ঘন্টার নিউজ চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার হল। সেদিন থেকেই রাজ্যসভা বা লোকসভার যে কোনো বামপন্থী সাংসদের চেয়েও সাধারণ ভারতীয়ের কাছে বেশি পরিচিত মুখ হয়ে উঠলেন কানহাইয়া। নিঃসন্দেহে তিনি সুবক্তা, তাই মুহুর্মুহু বিভিন্ন চ্যানেলের বিতর্কসভায় ডাক আসতে থাকল, কিছুদিনের মধ্যেই বইয়ের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর হল। এদিকে নিরাশায়, আলোহীনতায় ডুবে থাকা বাম দলগুলোর কর্মী, সমর্থকরা খড়কুটোর মত কানহাইয়াকে আঁকড়ে ধরলেন। কমিউনিস্ট হলেই বা, তাঁদের জন্ম ভারতে। আর ভারত হল অবতারবাদের দেশ, অবচেতনে সে মতবাদ সকলের মধ্যেই ঢুকে বসে আছে। কানহাইয়া কোথাও পাঁচ মিনিট কথা বললেও সে ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। কানহাইয়া আরও বেশি করে আলোচিত হয়েছেন।

এসবের মধ্যে দিয়ে কানহাইয়ার একটি গুণই জনসমক্ষে এসেছে — তিনি সুবক্তা। মুশকিল হল রাজনীতি মানে শুধু বক্তৃতা দেওয়া নয়। কিন্তু সেকথা আমরা ভুলে গেছি বা বলা যায় ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজনীতিকে যেমন পেশা বা কেরিয়ার করে তোলা হয়েছে আমাদের চোখে, তেমনি একে পারফর্মিং আর্টও করে তোলা হয়েছে। যে সেরা বক্তৃতা দেয়, সে-ই সেরা নেতা। কার বক্তৃতা কত হাজার শেয়ার হয়, কতগুলো লাইক পড়ে — সেগুলোই তার নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতার প্রমাণ। মানুষের প্রাণ বাঁচানোর জন্য পর্যাপ্ত হাসপাতালের বেড, অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করা নেতাসুলভ নয়। মৃত মানুষের জন্য ক্যামেরার সামনে কাঁদা নেতাসুলভ। নিকাশি ব্যবস্থার সংস্কার নেতার কর্তব্য নয়, এক গোড়ালি জলে দাঁড়িয়ে তদারক করা নেতাসুলভ। মিডিয়া আমাদের এমনটাই শিখিয়েছে। কে নেতা আর কে নেতা নয়, তা আর কাজ দিয়ে বিচার হয় না। মিডিয়া যাকে বেশি দেখায় তাকেই সবাই চেনে, সে-ই নেতা। কানহাইয়াকে সেই কারণেই অনেকের মনে হয়েছিল বামপন্থীদের আশা ভরসা। ইতিমধ্যে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে তিনি নিজের জায়গা বেগুসরাইতে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন। কুণাল কামরা, স্বরা ভাস্করের মত বিখ্যাতরা তাঁর হয়ে মাঠে নেমে প্রচার করেছিলেন; বহু বিখ্যাত, অখ্যাত মানুষ অনলাইন প্রচার করেছিলেন, ক্রাউড ফান্ডিং করে তাঁর জন্য টাকা তুলেছিলেন। কিন্তু বেগুসরাইয়ে সিপিআই দীর্ঘকাল ধরে যা ভোট পেয়ে আসছে, তার চেয়ে খুব বেশি ভোট কিন্তু কানহাইয়া পাননি। তাতেও বামপন্থী কর্মী সমর্থকদের মনে তাঁকে নিয়ে আশা বজায় থেকেছে। কানহাইয়া যেন ম্যায় আজাদ হুঁ ছবির অমিতাভ বচ্চন। মিডিয়াই তাঁকে নেতা বানিয়ে ফেলল, তাঁকে কেবল কয়েকটা ভাল বক্তৃতা দিতে হল। মনে রাখা ভাল, কানহাইয়ার প্রতি যা যা অবিচার হয়েছিল, তার সবগুলোই উমর খালিদের প্রতিও হয়েছিল। কিন্তু মিডিয়া তাঁকে তত দেখায়নি, তাঁর দেওয়া স্লোগান নিয়ে র‍্যাপ তৈরি হয়নি। হয়ত তাই তিনি আমাদের চোখে নেতা হয়ে ওঠেননি, এক বছরের বেশি সময় ধরে ইউএপিএ মামলায় জেলে পচছেন, অভিযোগের শুনানি পর্যন্ত হয়নি।

মুশকিল হল, কেবল কমিউনিস্ট পার্টি নয়, ভারতের কোনো পার্টির ইতিহাসেই স্রেফ পাদপ্রদীপের আলো পেয়ে কেউ নেতা হয়ে উঠতে পারেনি। ইন্দিরা গান্ধীর পরিবারের সদস্য হয়েও রাহুল গান্ধী আজ পর্যন্ত পারেননি। কানহাইয়ার অমন বংশপরিচয় নেই, ফলে তাঁর পক্ষে পেরে ওঠা আরও শক্ত। তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে চর্চা করার চেয়ে বেশি জরুরি, কানহাইয়ার দল বদল এ দেশের কমিউনিস্টদের সম্বন্ধে কী প্রমাণ করে তা নিয়ে আলোচনা করা। কমিউনিস্টরা দল পাল্টান না, আর কমিউনিস্ট পার্টিতে যে কেউ ঢুকতে পারে না — এই দুটো কথাই যে আর সূর্য পূর্ব দিকে ওঠার মত সত্য নেই তা পশ্চিমবঙ্গে বেশ কিছুদিন আগেই বোঝা গেছে। সম্প্রতি কেরালাতেও এক প্রবীণ কংগ্রেস নেতাকে সাদরে সিপিএমে জায়গা দেওয়া হয়েছে। কানহাইয়ার ঘটনা বরং দেখাল, বামপন্থী ছাত্রনেতাদের রঙিন চশমা পরে দেখা বন্ধ করা উচিত। সিপিএমে বৃদ্ধতন্ত্র চলে এ অভিযোগ পুরনো। তা নিয়ে গোড়াতেই আলোচনা করা হয়েছে। সিপিআই নেতাদের মধ্যেও খুব যে তরুণ মুখ চোখে পড়ে এমন নয়। গত কয়েক বছরে এই সমালোচনা কাটিয়ে উঠতে দু দলের নেতাদের মধ্যেই সচেতন প্রয়াস দেখা গেছে। কানহাইয়া তার সুফল পেয়েছেন; যেমন পেয়েছেন সিপিএমের মীনাক্ষী, সৃজন, ঐশী, দীপ্সিতা, প্রতীকুর, পৃথারা। কিন্তু এঁদের সবাইকে তুলে আনা হয়েছে ছাত্র, যুব ফ্রন্ট থেকে। এঁদের নিয়ে সাধারণ সমর্থকরাও যারপরনাই আহ্লাদিত হয়েছেন, অথচ ভোট মিটে যাওয়ার পর এঁরা কে কোথায় তা বোঝা শক্ত হয়ে উঠেছে। তরুণ কৃষক নেতা বা শ্রমিক নেতা কি নেই, নাকি তারা ঝকঝকে চেহারার নয়, সুবক্তা নয় বলে ফুটেজ পাবে না — তাই তাদের সামনে আনা হয় না? কানহাইয়া কিন্তু দেখিয়ে দিলেন, আজকের ছাত্রনেতা মানেই সীতারাম ইয়েচুরি নয়, যে সর্বভারতীয় পরীক্ষায় প্রথম হয়েও আজীবন মন্ত্রী সান্ত্রী হওয়ার আশা না করে কমিউনিস্ট পার্টি করে যাবে। ছাত্রনেতা মানেই দীপঙ্কর ভট্টাচার্য নয়, যে উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম হয়ে ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিকাল ইনস্টিটিউটের মত প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করেও বিদেশে মোটা মাইনের চাকরি নিয়ে চলে না গিয়ে বিহারের চাষাভুষোদের মধ্যে রাজনীতি করবে। মার্কস গুলে খাওয়া সত্ত্বেও পুঁজিবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষা তেজস্বী সূর্যদের চেয়ে কানহাইয়া কুমারদের মধ্যে কম নয়। মার্কসবাদ যে তা বলেও না, একথা কমিউনিস্ট দলগুলোকে আবার স্মরণ করতে হবে।

শোনা যাচ্ছে কানহাইয়া কুমার এবং গুজরাতের নেতা জিগ্নেশ মেওয়ানির কংগ্রেসে যোগদান খোদ রাহুল গান্ধীর ইচ্ছায়। যিনি ন্যূনতম আয় প্রকল্পের কথা বলেন, ২০২১ সালে নাম করে ভারতের ক্রোনি পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেন, বিজেপিকে অতিক্রম করে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের ভারতীয়ত্বের ধারণার বিরুদ্ধে বারবার বলেন, তাঁকে বৃহত্তর অর্থে বামপন্থী বলতে আপত্তি করার কারণ নেই। কিন্তু সে বামপন্থা কি ভারতের দুর্বল হয়ে পড়া কমিউনিস্ট আন্দোলনের বিকল্প? দল হিসাবে কংগ্রেসের ইতিহাস দেখলে তা বলা শক্ত। অতএব সেই যুক্তিতে কানহাইয়ার কংগ্রেসে যোগদানে যে বামপন্থীরা খুশি, তাঁরা কদিন পরেই “যাহা চাই তাহা ভুল করে চাই” বলতে শুরু করবেন সম্ভবত।

একই কবিতা রাহুলকেও আওড়াতে হতে পারে। জিগ্নেশের গণআন্দোলন গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা হয়ত নড়বড়ে গুজরাত বিজেপির বিপক্ষে কংগ্রেসের কাজে লাগবে, কিন্তু স্রেফ বাগ্মিতার জোরে কানহাইয়া বিহারে কংগ্রেসকে শক্ত জমিতে দাঁড় করাতে পারবেন — এমনটা এখুনি ভাবা যাচ্ছে না। লিবারেশন, সিপিএম এবং সিপিআইয়ে কানহাইয়ার প্রাক্তন কমরেডরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে অনেকটাই এগিয়ে। পার্টি সংগঠন তুলে নিয়ে যাওয়া এয়ার কন্ডিশনার খুলে নিয়ে যাওয়ার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন।

https://nagorik.net/ এ প্রকাশিত। ছবি উইকিপিডিয়া থেকে

রাহুলে না, বাবুলে হ্যাঁ: তৃণমূলের প্রকৃত এজেন্ডা নিয়ে কিছু প্রশ্ন

জাতীয় স্তরের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে যাঁরা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে আর এস এসের বিরুদ্ধে কথা বলে থাকেন, তাঁদের অন্যতম হলেন রাহুল গান্ধী।

বিরোধী জোটে কংগ্রেসকে নিয়ে আপত্তি না থাকলেও রাহুলকে নিয়ে তৃণমূলের ‘অ্যালার্জি’ আগেও রাজনৈতিক মহলের নজরে এসেছে। এ বার সুদীপের ওই মন্তব্যে দলের তরফে কার্যত সিলমোহর দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘রাহুল গাঁধীকে মানুষ মোদীর বিকল্প হিসেবে দেখছে না। বারবার নির্বাচনী ব্যর্থতায় সুযোগ এবং সময় নষ্ট করা যাবে না। রাহুল সুযোগ পেয়েছেন। পারেননি।’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোটের বিকল্প হিসেবে জবরদস্ত বিশ্বাসযোগ্য মুখ সামনে রেখে প্রচারে যেতে হবে। আর তা হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’
— আনন্দবাজার পত্রিকা, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২১

সকালের কাগজে যাঁরা এই খবর পড়েছেন, তাঁরা অনেকেই যে প্রবীণ তৃণমূল নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে একমত হবেন তা বলাই বাহুল্য। রাজীব-সোনিয়ার পুত্র রাহুল গান্ধী সত্যিই এমন একটা নির্বাচনও কংগ্রেসকে জেতাতে পারেননি, যা থেকে তাঁর সারা দেশের নেতা হওয়ার মত বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হতে পারে। উপরন্তু বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্কটের জন্য অনেকেই তাঁকে দায়ী করেছেন। রাজস্থানে অশোক গেহলত বনাম শচীন পাইলট লড়াইয়ে তিনি নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারেননি — এমন অভিযোগ আছে। মধ্যপ্রদেশে এক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতা মাধবরাও সিন্ধিয়ার পুত্র জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার দলত্যাগের পিছনেও রাহুল-প্রিয়াঙ্কার সিদ্ধান্তহীনতার অভিযোগ ওঠে। বিহারের নির্বাচনে কংগ্রেস একগাদা আসন নিয়েও জোটকে ডুবিয়েছে, তা না হলে নীতীশ কুমারের প্রস্থান অনিবার্য ছিল। উত্তরপ্রদেশে এখনো কংগ্রেসের উপস্থিতি টের পাওয়া যাচ্ছে না। গান্ধী পরিবারের লোক হওয়া ছাড়া রাহুলের নেতাসুলভ কোনো গুণ খুঁজে পাওয়া এখনো মুশকিল। অন্য দিকে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একা হাতে পশ্চিমবঙ্গকে কমিউনিস্টশূন্য করেছেন, প্রবল প্রতাপান্বিত মোদী-অমিত শাহ জুটিকে রুখে দিয়েছেন। বিজেপি-বিরোধী জোটের নেতৃত্বে তিনিই যে সবচেয়ে “জবরদস্ত বিশ্বাসযোগ্য মুখ”, তার এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কী-ই বা হতে পারে? কেবল একটাই খটকা। ২০২৪ সালের জানুয়ারির আগে যে নির্বাচন শুরু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সেই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর বিকল্প মুখ ঘোষণা করার ব্যগ্রতা কেন?

এই খটকা না কাটতেই, বিকেল না গড়াতেই, এসে পড়েছে আরেকটি খবর। বাবুল সুপ্রিয় যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী (তাঁরই দলীয় মুখপত্র যা লিখেছে বলে খবরে প্রকাশ, তাতে এই তকমা দিলে নিশ্চয়ই দোষ হবে না) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুযোগ্য ভ্রাতুষ্পুত্র, মমতা প্রধানমন্ত্রী হলে যিনি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হতেই পারেন, সেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং বাবুলকে পার্টিতে স্বাগত জানিয়েছেন।

এই দুটো খবর কয়েকদিন বা কয়েক মাসের ব্যবধানে এলে হয়ত এতটা খটকা লাগত না; দলবদল বাংলার রাজনীতিতে অভিনবত্ব হারিয়েছে বেশ কিছুদিন হল। কিন্তু কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে এসে পৌঁছনোয় কিঞ্চিৎ মুশকিল হয়েছে। কয়েকটি প্রশ্ন অনিবার্য বলে মনে হচ্ছে।

প্রথমত, গান্ধী পরিবারকে বাদ দিয়ে যে আজও কংগ্রেস হয় না, তা ভারতীয় রাজনীতির সাথে যে কোনো ভূমিকায় যুক্ত সকলেই জানেন। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় তো জানেন বটেই। এ কথা ঠিক যে গত দশকেই টানা দশ বছর কংগ্রেসের নেতৃত্বে কেন্দ্রে এমন একটি সরকার চলেছে যার নেতৃত্বে ছিলেন ওই পরিবারের বাইরের একজন। কিন্তু সে নিতান্ত ঠেকায় পড়ে। উপরন্তু সেই সরকারের কার্যকলাপে রাশ টানতে একটি পরামর্শদাতা সমিতি ছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন সোনিয়া গান্ধী। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বহু বিধানসভা এবং দুটি লোকসভা নির্বাচন হয়ে গেছে। কংগ্রেসের উপর্যুপরি ব্যর্থতা সত্ত্বেও দলের সর্বোচ্চ পদে সোনিয়া আর রাহুলের বদলে কেউ আসীন হননি। রাহুল নিজে থেকে পদ ছেড়ে দিতে চেয়েছেন, কিন্তু গান্ধী পরিবারের বাইরের কেউ সে পদে আসীন হতে চাননি। শশী থারুর, কপিল সিবাল, আনন্দ শর্মারা মধ্যে মধ্যে ঝড় তোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু বাউল বাতাস সাতমহলা গান্ধীপুরীর হাজার বাতি নিভিয়ে দেওয়ার আগেই দিল্লির ট্র্যাফিকে হারিয়ে যায়। অতএব ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের পরেও কংগ্রেস সাংসদদের গতিবিধি যে রাহুল গান্ধীই ঠিক করবেন, তা সুদীপ ও মমতা, দুজনেই বিলক্ষণ জানেন। তাহলে এত আগে থেকে প্রকাশ্যে রাহুলকে অনুপযুক্ত নেতা হিসাবে দেগে দিলেন কেন? রাহুলকে চটিয়ে কী লাভ?

দ্বিতীয়ত, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তৃণমূলের সবচেয়ে বড় অস্ত্র যেখানে ধর্মনিরপেক্ষতা, বিজেপির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি আক্রমণ যখন সাম্প্রদায়িকতা নিয়েই শানানো হয়, তখন মন্ত্রী পদের অপব্যবহার করে আসানসোল দাঙ্গায় উস্কানি দেওয়ার অসংখ্য অভিযোগ আছে, মুসলমান বিদ্বেষ নিয়ে রাখঢাক করেন না — এমন একজনকে কেন নীল-সাদা কার্পেট পেতে দিল মুখ্যমন্ত্রীর দল?

প্রশ্নগুলো কারো কারো অপ্রাসঙ্গিক মনে হতে পারে। সাহেবরা বলে থাকে, সাফল্যের মত সফল আর কিছু নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন চূড়ান্ত সফল। এ রাজ্যের রাজনীতিতে তিনি এখন উসেন বোল্ট, অর্থাৎ দৌড়তে দৌড়তে এক-আধবার পিছনে তাকালেও হাত দুয়েক ব্যবধানে জিতবেন। অতএব তাঁর পদক্ষেপগুলো নিয়ে ভাবার, সমালোচনা করার কোনো মানেই হয় না — এমনটা অনুরাগীরা বলতেই পারেন। কিন্তু ইতিহাসে যেমন বোল্ট আছেন, তেমন মিলখা সিংও আছেন। শোনা যায় রোম অলিম্পিকে তাঁর অবধারিত সোনা হাতছাড়া হয়েছিল অনেক এগিয়ে আছেন ভেবে গতি কমাতে গিয়ে। তাছাড়া স্লোগান হিসাবে যতই জনপ্রিয় হোক না কেন, মমতাও জানেন, রাজনীতি খেলা নয়। অতএব ভেবে পা ফেলা এবং যে পা-টা ফেললাম, সেটারও পর্যালোচনা করা উচিত। সুতরাং প্রশ্নগুলো উড়িয়ে দেওয়া সমীচীন হবে না।

বাংলা, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ছোট রাজ্যগুলো, তামিলনাড়ু, জম্মু ও কাশ্মীর, লাদাখ বাদ দিলে ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আগামী লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির মুখ্য প্রতিপক্ষ হিসাবে থাকবে কংগ্রেস অথবা কংগ্রেসের উপস্থিতি আছে এমন জোট। কংগ্রেস একেবারেই প্রাসঙ্গিক নয়, এমন লোকসভা আসনের সংখ্যা কিছুতেই শ দেড়েকের বেশি নয়। এর সাথে আছে কেরালার মত রাজ্য, যেখানে কংগ্রেস ভাল ফল করতে পারে, কিন্তু বিজেপিই অপ্রাসঙ্গিক। ফলে বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে হলে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বা কংগ্রেসের উপস্থিতি আছে এমন জোটকে ভাল ফল করতেই হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের অতি বড় সমর্থকও নিশ্চয়ই এতটা স্বপ্নের জগতে বাস করেন না, যে মনে করবেন ২০২৪ সালের মধ্যে তৃণমূল প্রথমে ত্রিপুরা, তারপর গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রভাবশালী হয়ে উঠবে। তারপর বাড়তে বাড়তে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত হাত চিহ্নের সমান বা তার চেয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠবে জোড়াফুল? যদি উদার চিত্তে ধরে নেওয়া যায় লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ৪২-এ ৪২ পাবেন মমতা, ত্রিপুরার দুটো আসনেই জিতবেন, আসামের বাঙালিরাও তাঁকেই জয়যুক্ত করবেন, তাহলেও পঞ্চাশ পেরনো যাবে বড়জোর। বিজেপির ভারত জুড়ে বিপুল বিপর্যয় হলেও সরকার গড়তে কংগ্রেসের সমর্থন প্রয়োজন হবেই। নেতা হওয়ার অযোগ্য রাহুল গান্ধী তখন আজকের কথা মনে রেখে দিলে কী হবে? নাকি তাঁর কাছে সমর্থন চাওয়াই হবে না? ফ্যাসিবাদী সরকারের অপসারণ, নাকি মমতার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার? মূল লক্ষ্য কোনটি? হয় আমাদের সরকার হোক, নইলে যে যা পারে করুক, কিছু এসে যায় না — প্রকৃত এজেন্ডা এমন নয় তো?

বাবুলের তৃণমূলে যোগদানে এমন সন্দেহ প্রবল হয়। তার কারণ বাবুল আর যা-ই হোন, মুকুল নন। মুকুল রায়ের রাজনৈতিক দীক্ষা সঙ্ঘ পরিবারে নয়। তিনি বড়জোর রাজনৈতিক সুবিধাবাদী। বৃহত্তর ক্ষমতার স্বাদ পেতে কিম্বা ফৌজদারি অভিযোগের হাত থেকে বাঁচতে বিজেপিতে গিয়েছিলেন, সুযোগ বুঝে ফিরে এসেছেন। বাবুল কিন্তু কখনো তৃণমূলে ছিলেন না। অর্থাৎ এ প্রত্যাবর্তন নয়, পরিবর্তন। মুকুলের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ আছে, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ নেই। ভারতের রাজনীতিতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রভাব ১৯৯২ সালের ৬ই ডিসেম্বরের পর থেকে যত বেড়েছে, তত ভারতের উদারপন্থীদের কাছে কোনো দল বা নেতার গ্রহণযোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি হয়ে উঠেছে অসাম্প্রদায়িকতা। দ্বিতীয় ইউপিএ-র আমলে একের পর এক দুর্নীতি যখন প্রকাশ্যে আসছে, নির্ভয়া কান্ডে মানুষ ক্রমশ ধৈর্যহীন হয়ে পড়ছেন, তখন কংগ্রেসের পক্ষে শেষ যুক্তি হিসাবে খাড়া করা হত অসাম্প্রদায়িকতাকে। এই যুক্তি ২০১৪ সালের পর থেকে ক্রমশ প্রতিষ্ঠা পেয়েছে প্রায় সব রাজ্যে, কারণ বিজেপি-বিরোধী দলগুলির পাহাড়প্রমাণ ত্রুটি ঢাকা দেওয়ার উপায় নেই। অগত্যা বিজেপি-বিরোধী মানুষ ভেবে নিয়েছেন, দুর্নীতিগ্রস্ত হোক, সাম্প্রদায়িক না হলেই হল। পশ্চিমবঙ্গের ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলও অনেকাংশে এই ভাবনার প্রতিফলন। বাবুল কিন্তু এই সামান্য পরীক্ষাতেও ফেল। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অগ্রণী সৈনিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে যদি বাবুলও গ্রহণযোগ্য হন, তাহলে মনে করা অনুচিত হবে না, যে নেত্রীর লড়াই আসলে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নয়, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধেও নয়, স্রেফ বিজেপি নামক রাজনৈতিক দলটির বিরুদ্ধে। যদি লোকসভা ত্রিশঙ্কু হয়, তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অবস্থায় না থাকেন, তখন আর কে সরকার গড়ল, না গড়ল — তা নিয়ে তাঁর আগ্রহ থাকবে না। তখন তাঁর কাছে রাহুল গান্ধীও যা, নরেন্দ্র মোদীও তাই।

ভারতে যাঁরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সত্যিই লড়ছেন, আর যাঁরা লড়ছেন বলে ভাবছেন, সকলেই নির্দ্বিধায় বলে থাকেন — আসল শত্রু হল আর এস এস। আসলে ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্র হওয়া থেকে বাঁচাতে হবে। জাতীয় স্তরের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে যাঁরা সবচেয়ে স্পষ্টভাবে আর এস এসের বিরুদ্ধে কথা বলে থাকেন, তাঁদের অন্যতম হলেন রাহুল গান্ধী। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা পর্যন্ত করা হয়েছিল। বৈষ্ণোদেবীর মন্দিরে গিয়ে তিনি যে নরম হিন্দুত্ব চালান, তা কংগ্রেসী ঘরানার পুরনো রাজনীতি। কিন্তু জওহরলাল নেহরুর পরে সম্ভবত আর কোনো কংগ্রেস নেতা এত সরাসরি আর এস এস-কে আক্রমণ করতেন না। এ হেন রাহুলকে সাত তাড়াতাড়ি নেতৃত্ব দিতে পারেন না বলে দেগে দেওয়া এবং স্পষ্টত সংখ্যালঘুবিদ্বেষী, গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিরোধী বাবুল সুপ্রিয়কে পার্টিতে জায়গা দেওয়া — এগুলো কি ধর্মনিরপেক্ষ জোটের নেত্রী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবমূর্তিতে কালিমা লেপন করল? তাঁকে ভাবতে হবে। কারণ তিনি যাদের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী হবেন ভাবছেন, তারা ভাবতে পারে।

https://nagorik.net এ প্রকাশিত। ছবি ইন্টারনেট থেকে।