পেগ্যাসাসের বিপদ নিয়ে গণসচেতনতা না বাড়ালে সর্বনাশ, বলছেন পরঞ্জয়

বোঝা দরকার যে প্রথমত, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার (right to privacy) লঙ্ঘিত হয়েছে, যা তোমার মৌলিক অধিকার। দ্বিতীয়ত, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা।

পেগ্যাসাস স্পাইওয়্যার দিয়ে সারা পৃথিবীর বহু দেশের রাষ্ট্রনেতা, বিরোধী নেতা, মানবাধিকার কর্মী, বিজ্ঞানী এবং সাংবাদিকের ফোন হ্যাক করা হয়েছে বলে সতেরোটা সংবাদমাধ্যমের করা তদন্তে জানা গেছে। এই ঘটনা ভয়ানক এই জন্যে যে পেগাস্যাস নির্মাতা সংস্থা এনএসও-র বক্তব্য তারা কোনো দেশের সরকারের অনুমতিক্রমে সরকারি সংস্থাগুলোকেই কেবল এই সফটওয়্যার বিক্রি করে থাকে। তাহলে যে ভারতীয়দের নাম পেগ্যাসাসের তালিকায় পাওয়া গেছে, তাদের উপর কি ভারত সরকারই বিদেশী সংস্থার সাহায্যে নজরদারি চালিয়েছে? এ প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। বরং এই আন্তর্জাতিক তদন্তকে ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দেওয়ার প্রয়াস দেখা গেছে সরকারের তরফে। অন্যদিকে বিরোধীরা রুষ্ট, সংসদ সরগরম। এ নিয়ে বিশদে জানতে নাগরিক ডট নেট কথা বলল বিশিষ্ট সাংবাদিক পরঞ্জয় গুহঠাকুরতার সঙ্গে। ভারতের যে সাংবাদিকদের নাম পেগ্যাসাসের তালিকায় ছিল এবং যাঁদের ফোন হ্যাক হয়েছে বলে অভিযোগ, পরঞ্জয়বাবু তাঁদের অন্যতম।

আপনি ইতিমধ্যেই বলেছেন, মার্চ মাসে যখন ফরবিডন স্টোরিজের পক্ষ থেকে সন্ধ্যা রবিশঙ্কর যখন আপনার কাছে এ ব্যাপারে প্রথম আসেন, তখন থেকেই আপনি ফোন ট্যাপ হয়েছে এ ব্যাপারে মানসিকভাবে তৈরি ছিলেন। কারণ ফোন ট্যাপিং কোনো নতুন ব্যাপার নয়। তাহলে এই পেগ্যাসাস কাণ্ডের অভিনবত্ব কী, সেটা যদি একটু বুঝিয়ে বলেন।

সত্যি কথা বলতে কি ফোন ট্যাপ হতে পারে, এ আমি বহু বছর ধরে জানি। আমার যে বন্ধুবান্ধবরা ভারত সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ-টিভাগে কাজ করে, তারা আমাকে অনেকদিন আগেই বলেছে যে, আমাদের কাজই এই। আমাদের মাঝে মাঝেই সাংবাদিকদের ফোন ট্যাপ করতে বলা হয়, আমরা নিরুপায়। তবে আমার ফোন যে সত্যিই ট্যাপ করা হচ্ছে, বলা চলে সেইটা আমি এইবার জানতে পারলাম। এবার এই ঘটনার নতুনত্ব কোথায় বলি।

আমি প্রায় সাড়ে চার বছর আগে একটা বেশ দামি আইফোন কিনি। তখন আমার স্ত্রীকে হাসতে হাসতে বলেছিলাম, দ্যাখো, এখন থেকে আমি যেখানেই যাই না কেন, আমার দপ্তরটা আমার সঙ্গে থাকবে। কারণ আইফোন থেকে সব কাজ করা যায়। এবং সেইসময় বলা হচ্ছিল, আইফোনের মত সুরক্ষা কোনোকিছুতেই পাওয়া যায় না। হোয়াটস্যাপ বা সিগনাল কি টেলিগ্রামের উপরেও গুপ্তচরবৃত্তি করা যায়, কিন্তু এ এমন একটা যন্ত্র অ্যাপল বানিয়েছে, যা হ্যাক করা যায় না। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি, অ্যাপল যতই টাকাপয়সা নিক, পেগ্যাসাস সেসব ভেদ করেও ঢুকে যেতে পারে। আমাদের এই কথাবার্তা শুনে নিতে পারে, আমার ফোনে হয়তো পাঁচ হাজার লোকের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর, ইমেল আই ডি আছে। সেইসব জেনে নিতে পারে, হোয়াটস্যাপ বা সিগনালের কয়েক হাজার মেসেজ পড়তে পারে, ফোনের সমস্ত ছবি এবং ভিডিও পেয়ে যেতে পারে। সুতরাং ফোন ট্যাপিংয়ের থেকে এটা অনেক বেশি ভয়ঙ্কর।

কিন্তু ফোন ট্যাপিং যদি আগেও হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের গণতন্ত্রের পক্ষে পেগ্যাসাস কাণ্ড কেন আলাদা করে ভয়ঙ্কর?

এটা ঠিকই যে ফোন ট্যাপিং প্রাচীন ব্যাপার। কর্ণাটকের এক সময়ের মুখ্যমন্ত্রী রামকৃষ্ণ হেগড়েকে এই অভিযোগের মুখে পদত্যাগ করতে হয়েছিল, তামিলনাড়ুর একদা মুখ্যমন্ত্রী এম জি রামচন্দ্রনের বিরুদ্ধে, মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এ আর আন্তুলের বিরুদ্ধেও এই অভিযোগ উঠেছিল, এমনকি জ্ঞানী জৈল সিং রাষ্ট্রপতি থাকার সময় সন্দেহ করতেন যে প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর লোকেরা তাঁর ফোনে আড়ি পাতছে। এই কিছুদিন আগেও তো রাজস্থানে শচীন পাইলটের অনুগামী বিধায়করা অভিযোগ করছিলেন যে মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলত তাঁদের ফোনে আড়ি পাতছেন। পেগ্যাসাসে নতুন হল এর মাত্রাটা। একটা ইজরায়েলি কোম্পানির বানানো এই একটা সফটওয়্যার দিয়ে শুধু সাংবাদিক নয়, রাজনৈতিক নেতা, নির্বাচন কমিশনার, সিবিআই কর্তা, ভীমা কোরেগাঁও কেসের অভিযুক্তরা, এমনকি সর্বজনশ্রদ্ধেয় ভাইরোলজিস্ট ডঃ গগনদীপ কাং — এতজনের ফোনের উপর নজরদারির চেষ্টা হয়েছে। দলাই লামার উপদেষ্টারাও তালিকায় আছেন। আলাদা নাগা রাষ্ট্রের দাবিদার নেতাদের সাথে এক দিকে ঢাকঢোল পিটিয়ে মিটিং করা হয়েছে, আবার তাদের ফোন ট্যাপও করা হয়েছে। রাফালে কোম্পানির প্রতিনিধির ফোনও এই তালিকায়। এরকম ব্যাপক নজরদারি আগে কখনো হয়নি।

আপনি নিজে ইন্টারনেট স্নুপিং নিয়ে কাজ করেছেন। সিরিল স্যামের সাথে মিলে ফেসবুক সম্বন্ধে বইও লিখেছেন। ফেসবুক কীভাবে সরকারের প্রোপাগান্ডা মেশিনারি হিসাবে কাজ করে তা দেখিয়েছেন। সেই প্রেক্ষিতে আপনার কি মনে হয় যে স্পাইওয়্যার দিয়েই হোক আর সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমেই হোক, নাগরিকদের উপর নজরদারির ঘটনা সরকারের রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে, আজকের দুনিয়ায় অনিবার্য?

এ নিয়ে অনেকেই বেশ কয়েক বছর ধরেই অনেকে লেখালিখি করছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খুব নামকরা একজন অধ্যাপক শোশানা জুবভ খুব মোটা একটা বই লিখেছেন The Age of Surveillance Capitalism নামে। সেই আলোচনা থেকে যা বেরিয়ে আসে, তা হল এটা পুঁজিবাদের নতুন রূপ। আজ সারা বিশ্বে গোটা পাঁচেক বড় বড় কর্পোরেশন আছে। যেমন ফেসবুক, সঙ্গে হোয়াটস্যাপ আর ইন্সটাগ্রাম; অ্যালফাবেট অর্থাৎ গুগলের নানারকম প্রোডাক্ট ও পরিষেবা, যার মধ্যে পড়ে ইউটিউব, তার উপর বেশিরভাগ মোবাইল ফোনের অপারেটিং সিস্টেম, মানে অ্যান্ড্রয়েড। এই দুটো সংস্থা ছাড়া আছে অ্যামাজন, মাইক্রোসফট। এরা পৃথিবী জুড়ে মনোপলি চালায়। যেমন তুমি কী কিনছ, কী বিক্রি করছ তার উপর অ্যামাজনের একচেটিয়া আধিপত্য আছে। এই কোম্পানিগুলো ক্রেতা বা গ্রাহকদের উপর মনোপলির সুবাদে এক ধরনের শোষণ চালাচ্ছে কিনা তা নিয়ে মার্কিন দেশে অনেক মামলা চলছে, জো বাইডেনের সরকারও তদন্ত চালাচ্ছে। দেখা যাক কী হয়। যে ভদ্রমহিলা এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডেরাল ট্রেড কমিশনের (FTC) শীর্ষে আছেন, লীনা খান, তিনি যখন ওকালতি পড়াতেন সেই সময় একটা অসাধারণ পেপার লিখেছিলেন অ্যামাজন সম্বন্ধে। তাতেও প্রায় একই কথা ছিল। বলা হয়েছিল, একমাত্র সরকারের পক্ষেই সম্ভব এই কর্পোরেশনগুলো যেন সাধারণ মানুষকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারে তা নিশ্চিত করা।

ফ্রান্সে ইতিমধ্যেই পেগ্যাসাস কাণ্ডকে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় বলে গণ্য করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অথচ ভারত সরকার তো এখনো ব্যাপারটাকে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

খুবই দুঃখের যে ভারত সরকার এখনো পেগ্যাসাস কেনা হয়েছিল কিনা তা নিয়ে হ্যাঁ-ও বলছে না, না-ও বলছে না। এই সফটওয়্যার কিনতে কোটি কোটি টাকা লাগে। আবার তোমার আমার কাছে অত টাকা থাকলেও আমরা কিনতে পারব না। কারণ সফটওয়্যার নির্মাতা এনএসও বলছে, সে শুধু সরকারি সংস্থাকেই ওরা এটা বিক্রি করে। অথচ ভারত সরকার কে কিনেছে, কবে কিনেছে সে বিষয়ে কিছুই বলছে না। নাগরিক হিসাবে আমার তো এটা জানার অধিকার আছে। আমার করের টাকাতেই তুমি এই বিরাট খরচ করে আমার ফোনে আড়ি পাতছ, আর আমাকে তুমি জবাব দেবে না? সরকার বলছে আমরা কোনো বেআইনি কাজ করিনি। যদি তাই হয়, তাহলে বলুক কার অনুমতি নিয়ে এটা করা হয়েছে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের যিনি সর্বোচ্চ আধিকারিক, তাঁর অনুমতি নিয়ে? এসব প্রশ্নের কোনো জবাব নেই এখন পর্যন্ত।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন এটা নাকি একটা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। আমার কথা হল পঁয়তাল্লিশটা দেশের কয়েক হাজার ফোন নিয়ে বিভিন্ন দেশের সতেরোটা সংবাদমাধ্যম এই তদন্ত চালিয়েছে। এরা সবাই ভারত সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে? উনি ক্রনোলজি বোঝার কথা বলেছেন। কারণ আমাদের সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার আগের দিন সন্ধ্যায় পেগ্যাসাস সম্বন্ধে এই রিপোর্ট বেরিয়েছে। আচ্ছা, বাকি চুয়াল্লিশটা দেশেও কি একই সময়ে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়েছে? ফ্রান্সের সরকার পেগ্যাসাস নিয়ে তদন্ত করছে, ইজরায়েলের সরকারও করছে। আমাদের দেশেও একটা স্বাধীন তদন্ত দরকার।

আচ্ছা, এই নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো শোরগোল করলেও সাধারণ মানুষদের অনেকের কিন্তু তেমন হেলদোল নেই। তাঁরা ভাবছেন, আমি সাংবাদিক নই, রাজনীতিও করি না। নিজের চাকরি বাকরি আর পরিবার নিয়ে ব্যস্ত থাকি। আমার পেগ্যাসাস কাণ্ডে উদ্বিগ্ন হওয়ার কী আছে? এর উত্তরে কী বলবেন?

আসলে অধিকাংশ মানুষ এখনো ক্ষতিটা বুঝতে পারছেন না। যে মধ্যবিত্ত লোকেরা ইন্টারনেট ব্যবহার করে, তাদের মধ্যে যারা কিছুটা লেখাপড়া করেছে, তারা অনেকটা বুঝছে। কিন্তু একেবারে সাধারণ মানুষ এর গুরুত্ব স্বভাবতই বুঝতে পারছেন না। বোঝা দরকার যে প্রথমত, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকার (right to privacy) লঙ্ঘিত হয়েছে, যা তোমার মৌলিক অধিকার। দ্বিতীয়ত, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। এটাও মৌলিক অধিকার। তোমার সব গোপন তথ্যই যদি সরকারের হাতে চলে যায়, তাহলেও ওই স্বাধীনতাটা আর থাকবে কী করে? তৃতীয়ত, এটা শুধু সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বা সাংবাদিকের স্বাধীনতা হরণের প্রশ্ন নয়। শুধু তাদের ফোনে আড়ি পাতা হয়েছে এমন তো নয়। পেগ্যাসাস ভারতের এবং সামগ্রিকভাবে সারা পৃথিবীর গণতন্ত্রকে বিরাট প্রশ্নচিহ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।

এডওয়ার্ড স্নোডেন দ্য গার্ডিয়ানকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন এই স্পাইওয়্যারের ব্যবসাটাই সারা পৃথিবীতে নিষিদ্ধ করে দেওয়া উচিত, কারণ এর নির্মাতারা যা-ই বলুক, আসলে এরা যা তৈরি করে তার কোনো ইতিবাচক ব্যবহার নেই।

আমি স্নোডেনের সাথে সম্পূর্ণ একমত। আজকের পৃথিবীতে রাষ্ট্রের সুরক্ষার নামে অনেককিছু চলছে। এই নিয়েই রাজনীতি চলছে, অর্থনীতি চলছে। যারা এই ধারা মানতে রাজি নয় তাদের দেশদ্রোহী, রাষ্ট্রদ্রোহী বলে দেগে দেওয়া হচ্ছে। সুতরাং এখন আমাদের সকলকে অনেক বেশি সচেতন হতে হবে এবং আমাদের সবাইকে এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াই, আন্দোলন করতে হবে। এ ছাড়া আমাদের সামনে অন্য কোনো পথ নেই। আমরা যদি এখনো বুঝতে না পারি যে আমাদের নিজেদের জীবনের সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ বড় বড় কর্পোরেশনের হাতে, সরকারগুলোর হাতে চলে যাচ্ছে, তাহলে আমাদের সর্বনাশ। এটা লেখাপড়া করা মধ্যবিত্ত হয়তো একটু তাড়াতাড়ি বুঝতে পারবে। কিন্তু প্রয়োজন একেবারে সাধারণ মানুষকে বোঝানো। মানে যে মানুষ এই সবে হাতে একটা মোবাইল ফোন পেয়েছে, তার কথা বলছি।

টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার (TRAI) হিসাব অনুযায়ী এখন ভারতে ১৩৫ কোটি মানুষ আর ১১০ কোটি সিম কার্ড রয়েছে। তার মানে ভারতের বেশিরভাগ জায়গায় মানুষের চেয়ে সিম বেশি আছে। একসময় মনে করা হত মোবাইল বা স্মার্টফোন একটা শহুরে ব্যাপার। এখন ছোট শহর থেকে গ্রাম — সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। এতজন মানুষকে বিপদটা বোঝানো খুব দরকার।

তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা অনেকে বলছেন যে স্মার্টফোনের ক্ষেত্রে পৃথিবী জুড়ে যে ডুয়োপলি চলছে, অর্থাৎ অধিকাংশ ফোনই হয় অ্যান্ড্রয়েড নয় আইওএস অপারেটিং সিস্টেমে চলে — এর ফলে এই ধরনের স্পাইওয়্যার বা ম্যালওয়্যার দিয়ে ফোনগুলো নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়ে গেছে। কারণ এক ধরনের একটা ফোনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়া গেলেই ওই ধরনের সব ফোন হ্যাক করার রাস্তা জানা হয়ে যায়। এ থেকে কি আমরা এই সিদ্ধান্তে আসতে পারি, যে পৃথিবী জুড়ে কয়েকটা হাতে গোনা বহুজাতিকের সবকিছু দখল করে নেওয়ার যে অর্থনীতি, পেগাস্যাসের মত অভিশাপ আটকাতে হলে সেই অর্থনীতিকেও আক্রমণ করা দরকার?

অবশ্যই। আশি শতাংশের বেশি ফোনে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ এগুলোর নিয়ন্ত্রণ অ্যালফাবেটের হাতে। আর বাকি অ্যাপলের হাতে। যেমন বললাম আর কি, এটা হল পুঁজিবাদের নতুনতম রূপ। এই সংস্থাগুলো এক বছরে যা ব্যবসা করে সেটা অনেক দেশের জাতীয় আয়ের চেয়ে অনেক বেশি। এরাই এখন নিয়ন্ত্রণ করে তুমি কী দেখবে, কী পড়বে, কী গান শুনবে। তুমি কোন সিনেমা পছন্দ করো, কোন অভিনেতা তোমার প্রিয়, কী ধরনের খাবার ভালবাসো — সব এদের নখদর্পণে। উপরন্তু তোমার রাজনৈতিক বিচারধারা, তোমার মাথার ভিতরে কী ঘটছে — সেগুলো ওরা আগে থেকে বুঝে ফেলার চেষ্টা করছে। এ নিয়ে আমাদের প্রত্যেককে সতর্ক হতে হবে। কারণ ইন্টারনেট বাদ দিয়ে আমরা থাকতে পারব না, কিন্তু এই তলোয়ারের অন্য দিকের ধারটা সম্বন্ধে আমাদের সাবধান হতে হবে।

https://nagorik.net এ প্রকাশিত। ছবি https://paranjoy.in/ থেকে।

%d bloggers like this: