শীর্ষে উঠেও গলি-ক্রিকেট না ভোলা অশ্বিন

কোনওদিন ভারত অধিনায়ক হওয়া হল না— এই নিয়ে আফসোস আছে কিনা জিজ্ঞেস করায় বলেছেন, তিনি ভেবে নিয়েছেন যে তিনি এমন এক কর্পোরেট কোম্পানিতে কাজ করতেন যারা তাঁকে ওই ভূমিকায় দেখতে চায়নি।

চাহি না রহিতে বসে ফুরাইলে বেলা,
তখনি চলিয়া যাব শেষ হলে খেলা।

রবীন্দ্রনাথের গান সম্পর্কে একটা কথা অনেকেরই মনে হয়— যেন সকলের জীবনের সব মুহূর্তের সঙ্গেই লাগসই দু-চারখানা লাইন লিখে গেছেন। সম্প্রতি ভারতীয় দলের ক্রিকেটার রবিচন্দ্রন অশ্বিন যে অনায়াস ভঙ্গিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেন, তাতে মনে হয় উপরের লাইন দুটো যেন তাঁরই কথা।

২০১১ সালের নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয়েছিল অশ্বিনের। তারপর থেকে দেশের মাটিতে যত সিরিজ খেলেছে ভারত, তার মধ্যে হার হয়েছিল কেবল ২০১২-১৩ মরশুমে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে। ভারতীয় স্পিনারদের সেই সিরিজে টেক্কা দিয়েছিলেন দুই ইংরেজ স্পিনার— গ্রেম সোয়ান আর মন্টি পানেসার। অশ্বিন চার টেস্টে ১৪টা উইকেট নিয়েছিলেন, প্রজ্ঞান ওঝা ২০টা, রবীন্দ্র জাদেজা আর পীযূষ চাওলা মিলে আরও সাতখানা। কিন্তু অনেক বেশি প্রভাব ফেলেছিল সোয়ান-পানেসারের ৩৭ (যথাক্রমে ২০ আর ১৭)-টা উইকেট। অশ্বিন বলেছেন, ওই সিরিজের পর তিনি প্রতিজ্ঞা করেন— যতদিন খেলবেন, ঘরের মাঠে ভারতকে হারতে দেবেন না। তাঁর প্রতিজ্ঞা অটুট থেকেছে এতগুলো বছর, ভেঙে গেল ২০২৪ সালের শেষে এসে নিউজিল্যান্ড সিরিজে। অশ্বিন একেবারেই সুবিধা করতে পারলেন না। তিন টেস্টের সিরিজে মাত্র ন-খানা উইকেট, গড় ৪১। তিনি আর জাদেজা এতগুলো বছর ধরে যেভাবে ঘোল খাইয়ে ছেড়েছেন অতিথি ব্যাটারদের, তা এবারে হয়নি। উপরন্তু সেই ইংল্যান্ড সিরিজের মতোই এবারে নিউজিল্যান্ডের মিচেল স্যান্টনার (১৩ উইকেট) আর আজাজ প্যাটেল (১৫ উইকেট) টেক্কা দিয়েছেন ভারতীয় স্পিনারদের।

যদিও অস্ট্রেলিয়ায় খুব কম ক্ষেত্রেই একটা টেস্টে একজনের বেশি স্পিনার খেলানোর প্রয়োজন হয়, তবু ভারতীয় নির্বাচকরা এবার অস্ট্রেলিয়ায় পাঠিয়েছিলেন তিনজনকে। তাছাড়া উপায়ই বা কী ছিল? ওয়াশিংটন সুন্দর যে দুটো টেস্ট খেলেই ১৬ খানা উইকেট নিয়ে ফেলেছেন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। তার উপর সাড়ে চুয়াল্লিশ গড়ে রানও করে ফেলেছেন। ভারতীয় টেস্ট দল আবার অদ্ভুত নিয়মে চলে। ব্যাটাররা রান করতে পারবেন না জেনে, বোলার নির্বাচনের সময়ে একদিনের ক্রিকেট বা কুড়ি-বিশের ক্রিকেটের মতো মাথায় রাখা হয় সে রান করতে পারবে কিনা। এই নিয়ম মহেন্দ্র সিং ধোনির আমল থেকেই অল্পবিস্তর চলছিল, গত পাঁচ বছরে তুঙ্গে উঠেছে। কারণ দুই মহাতারকা ব্যাটার বিরাট কোহলি আর রোহিত শর্মার রান করার ঘটনা নরেন্দ্র মোদির সংসদে উপস্থিত থাকার মতোই বিরল হয়ে গেছে। কেএল রাহুল, শুভমান গিলরাও ধারাবাহিক নন। অশ্বিন বিলক্ষণ জানতেন, দেশের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের সামলাতেই হিমশিম খেয়ে যাওয়া ভারতীয় ব্যাটারদের অস্ট্রেলিয়ায় রান করার সম্ভাবনা আরও কম। অতএব ওখানে চূড়ান্ত একাদশ নির্বাচন করার সময়ে আরও বেশি করে মাথায় রাখা হবে কোন বোলার বেশি রান করতে পারে। অশ্বিন এও জানতেন যে টেস্টে আধডজন শতরান, ১৪ খানা অর্ধশতরান, আগের অস্ট্রেলিয়া সফরে নায়কোচিত ম্যাচ বাঁচানো ইনিংস, ২০২২ সালে মীরপুরে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ঘূর্ণি উইকেটে ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলার পরেও টিম ম্যানেজমেন্টের তাঁর ব্যাটিং দক্ষতায় বিশ্বাস নেই। অতএব প্যাট কামিন্সদের বিরুদ্ধে তাঁর খেলার সম্ভাবনা কম। প্রথম দুই টেস্টের এলোমেলো দল নির্বাচন সে-কথা প্রমাণও করে দেয়। তাই দ্বিতীয় টেস্টের পরেই তিনি অবসর নিয়ে নেন। অধিনায়ক রোহিত শর্মা সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, অশ্বিন নাকি পার্থেই অবসর নিয়ে ফেলতে চেয়েছিলেন। রোহিতের অনুরোধেই অ্যাডিলেড পর্যন্ত থেকে যেতে রাজি হন।

ভারত অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ জিতে গেলেই বা কী হত? বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠলেও সেই ম্যাচ হবে ইংল্যান্ডে। অর্থাৎ সেখানেও অশ্বিনকে বসিয়ে রাখা হত— এই সম্ভাবনা প্রবল। তারপর ভারতের টেস্ট সিরিজ বলতে ইংল্যান্ডে পাঁচ টেস্টের সিরিজ। ফের দেশের মাঠে টেস্ট সিরিজ আসতে আসতে অশ্বিনের বয়স চল্লিশের দিকে এগিয়ে যাবে। অশ্বিন ততদিন আর অপেক্ষা করলেন না। কেন করলেন না? ঠিক কী কথাবার্তা হয়েছিল অধিনায়ক আর কোচ গৌতম গম্ভীরের সঙ্গে? সম্যক জানা যাচ্ছে না বলেই নানারকম গুজব এবং প্রচার ডালপালা মেলেছে। সেসব কথা থাক। এখানে বলার কথা হল, অশ্বিনের সঙ্গে যে-কোনও গড়পড়তা ভারতীয় ক্রিকেট-তারকার বিস্তর অমিল। তিনি কোহলির মতো বলিউড অভিনেত্রীর সঙ্গে ডেস্টিনেশন ওয়েডিং করেননি। ব্যক্তিগত জীবন হাট করে ইনস্টাগ্রামে খুলে দেওয়ার পর ‘আমার বাচ্চার ছবি তুলছেন কেন’ বলে অস্ট্রেলীয় সাংবাদিকদের দিকে তেড়েও যাননি। সোশাল মিডিয়ায় তাঁর স্ত্রী, সন্তানদের ছবি বা ভিডিও রোহিতের পরিবারের চেয়েও কম দেখা যায়। সোশাল মিডিয়া মানে অশ্বিনের কাছে এক্সে একেবারেই ক্রিকেট সংক্রান্ত কিছু পোস্ট আর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল। সেখানে মূলত ক্রিকেট নিয়েই ভিডিও পোস্ট করেন, কিন্তু দাবাও থাকে। আজ্ঞে হ্যাঁ, দাবা। এমন একজন ক্রিকেটার সদ্য প্রকাশ করেছেন আত্মজীবনীমূলক বই। এ বই তো পড়বই।

বহু বিখ্যাত খেলোয়াড় এই ধরনের বই লিখেছেন। সাধারণত লেখার কাজে তাঁর সঙ্গে থাকেন কোনও ক্রীড়া সাংবাদিক। ভারতীয় দাবার জীবন্ত কিংবদন্তি বিশ্বনাথন আনন্দের আত্মজীবনীর নাম যেমন মাইন্ড মাস্টার (২০১৯), তাঁর সঙ্গে লিখেছেন সাংবাদিক সুজান নাইনান। শচীন তেন্ডুলকরের আত্মজীবনী প্লেয়িং ইট মাই ওয়ে (২০১৪), সহলেখক বোরিয়া মজুমদার। আন্দ্রে আগাসির আত্মজীবনী ওপেন (২০০৯) লেখায় তাঁকে সাহায্য করেছিলেন পুলিৎজার পুরস্কারপ্রাপ্ত সাংবাদিক জে আর মোরিঙ্গার। এই বইগুলোর কাটতি বেশ ভাল। কারণ খেলাপাগল লোকেদের মধ্যে এমন মানুষ কম নেই যারা খেলোয়াড়দের জীবনযাত্রা, ভাবনার ধরন, প্রস্তুতি, মনস্তত্ত্ব, ব্যক্তিগত জীবনের লড়াই সম্পর্কে জানতে চান। আবার কেউ হয়তো তেমন পড়ুয়া নন, কিন্তু প্রিয় খেলোয়াড়ের আত্মজীবনী স্রেফ সংগ্রহে রাখার আগ্রহে কিনে ফেলেন। অশ্বিনের বইও লেখা হয়েছে এক সাংবাদিকের সাহায্য নিয়ে। তিনি ক্রিকেট সাংবাদিক সিদ্ধার্থ মঙ্গা। কিন্তু মজার কথা, সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রায় দেড় দশক ক্রিকেট খেলে ফেলা অশ্বিনের বইয়ের নাম আই হ্যাভ দ্য স্ট্রিটস। প্রচ্ছদে দেখা যায় বল হাতে নয়, ব্যাটের উপর ভর দিয়ে বসে আছেন ভারতের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী বোলার।

এ কি অশ্বিনের শ্লেষ? ভারতীয় ক্রিকেটে ব্যাটারদের সমান সম্মান যে হাজার সাফল্য সত্ত্বেও বোলারদের কপালে জোটে না— এ-কথা তো সর্বজনবিদিত। মাত্র একটা সিরিজে ব্যর্থ হয়েই নিজের বয়সের ভার স্বীকার করে নিয়ে অশ্বিন অবসর নিলেন। অথচ সমবয়স্ক কোহলি কালেভদ্রে একটা শতরান করলেই ‘ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, ক্লাস ইজ পারমানেন্ট’ জাতীয় কথা বলে সাংবাদিক, ধারাভাষ্যকার, ক্রিকেটভক্ত— সকলেই একেবারে গদগদ হয়ে যান। রোহিত নিতান্ত চাপে পড়ে এত বছর পরে রঞ্জি ট্রফি খেলতে নেমে জম্মু-কাশ্মীরের পেসারের গতিতেও চোখে অন্ধকার দেখছেন, অথচ নির্বাচকরা এখনও সাহস করে বলতে পারছেন না— এবার অবসর নাও। উল্টে অস্ট্রেলিয়ায় একটা টেস্টে তিনি নাকি নিজেকে বিশ্রাম দিয়েছিলেন। তাতে অবসর নেবেন কিনা জল্পনা শুরু হওয়ায় টিভি ক্যামেরার সামনে এসে সগর্বে বলে দিয়েছেন— আমি এখন আছি। কোথাও যাচ্ছি না। ভারতীয় ক্রিকেটে ব্যাটারদের এই রাজার ব্যাটাসুলভ অবস্থানকেই কি নীরবে ব্যঙ্গ করছে অশ্বিনের বইয়ের প্রচ্ছদ?

আরও পড়ুন বিরাট, রোহিত, রাহুলদের সত্য রচনা চলছে চলবে

লোকটার নাম অশ্বিন বলেই এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না এবং ওই বইয়ের ভিতরে কী আছে তা জানার কৌতূহল বাড়ে। পরিতাপের বিষয় হল, ভারতীয় ক্রিকেট-সাংবাদিকতা মোটের উপর বিশ্লেষণহীন পেজ থ্রি সাংবাদিকতায় পরিণত হয়েছে। তাই অশ্বিনের অবসরের পর থেকে আজ পর্যন্ত কেউ তাঁর দীর্ঘ ক্রিকেটজীবনের নানা দিক নিয়ে একখানা গভীর সাক্ষাৎকার নিল না। নিলে সামগ্রিকভাবে গত দেড় দশকে যেভাবে ভারতীয় ক্রিকেট পরিচালিত হয়েছে, যার ক্ষতি তাৎক্ষণিক না হলেও এখন টের পাওয়া যাচ্ছে, তা নিয়ে অনেক কিছু জানা যেতে পারত। অশ্বিনের মতো একজন ভাবুক ক্রিকেটারের ক্রিকেট-ভাবনা নিংড়ে নেওয়ার কাজ তো হতই। কাজটা করেছেন স্কাই ক্রিকেটের পডকাস্টে দুই প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়ক— মাইকেল অ্যাথারটন আর নাসের হুসেন। সেই পডকাস্ট শুনলে অশ্বিনের বইখানা পড়ার আগ্রহ আরও বেড়ে যেতে বাধ্য। অশ্বিন বলেছেন তিনি বই পড়তে ভালবাসেন। নির্দিষ্ট করে বলেছেন ‘সেলফ-হেল্প বই নয়, উপন্যাস পড়তে ভালবাসি।’ তারপর জানিয়েছেন নিজের বইটাকেও তিনি এমনভাবে সাজাতে চেয়েছেন যাতে নিজেকে বইয়ের প্রথম অংশে লেখক হিসাবে বা বইয়ের প্রধান চরিত্র (“author or protagonist”) হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা যায়। ফলে শেষমেশ বইটা উপন্যাসের মতো হয়ে ওঠে। আরও বলেছেন ‘আমি আজও একজন গলি-ক্রিকেটার।’ বোঝা যায়, নিজের শিকড়ের প্রতি বিশ্বস্ততা বোঝাতেই তাঁর বইয়ের নামকরণ।

কোনও রাখঢাক না করে ওই পডকাস্টে অশ্বিন নির্দ্বিধায় বলেছেন, একজন বোলারের জীবন মোটেই খুব রঙিন নয়। তাই অনেকসময় দেখা যায়, উইকেট নিল অশ্বিন আর লাফিয়ে বেড়াচ্ছে বিরাট। কোনওদিন ভারত অধিনায়ক হওয়া হল না— এই নিয়ে আফসোস আছে কিনা জিজ্ঞেস করায় বলেছেন, তিনি ভেবে নিয়েছেন যে তিনি এমন এক কর্পোরেট কোম্পানিতে কাজ করতেন যারা তাঁকে ওই ভূমিকায় দেখতে চায়নি। ২০২৫ সালের ভারতে ক্রিকেটার, কোচ, বোর্ড, সাংবাদিক, বিশেষজ্ঞ, প্রাক্তন ক্রিকেটার— সকলে মিলে জাতীয় দলকে দেশের সমার্থক করে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছে। সেখানে অশ্বিনের মতো উচ্চতার একজন ক্রিকেটার বোর্ডকে কর্পোরেট কোম্পানি বলছেন, জাতীয় দলে খেলাকে স্রেফ আরেকটা চাকরির মতো করে বর্ণনা করছেন— এই প্রবল কাণ্ডজ্ঞান তাঁকে এবং তাঁর বইকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

এমন নয় যে বড় ক্রিকেটার হলেই তাঁর আত্মজীবনী বা জীবনী খুব আকর্ষণীয়, পাঠযোগ্য হয়। শচীনের বইয়ের বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশিত কিছু অংশ পড়ে গাঁটের কড়ি খরচ করে আর কিনতে ইচ্ছে করেনি। যারা কিনে পড়েছে, প্রায় কারও মুখে প্রশংসা শুনিনি। সবচেয়ে বেশি যে অভিযোগ শুনেছি তা হল, বইতে এমন একটা কথাও নেই যা শচীন সম্পর্কে ক্রিকেটভক্তরা আগেই জানত না। হয়তো তা খুব অবাক করার মতো নয়। কারণ শচীনের ব্যাটিং যতখানি চিত্তাকর্ষক ছিল, তাঁর কথাবার্তা ঠিক ততখানিই একঘেয়ে। অশ্বিন কিন্তু অন্য মানুষ। কার্টুনিস্ট প্রাণ তাঁর সৃষ্ট চরিত্র চাচা চৌধুরী সম্পর্কে যে কথা কমিক স্ট্রিপে লিখতেন, সে-কথা অশ্বিন সম্পর্কেও বলা যায়— অশ্বিনের মাথা কাজ করে কম্পিউটারের মতো।

চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম ওয়েবসাইটে প্রকাশিত

এরপর কি মাঠে কুস্তি লড়বেন বিরাট কোহলিরা?

কেপটাউন টেস্টের তৃতীয় দিনে বিরাট কোহলি। ছবি টুইটার থেকে

যন্ত্রের যন্ত্রণা কথাটা নতুন নয়। কিন্তু যন্ত্র মানুষের সঙ্গে মিলে ষড়যন্ত্র করে — এ অভিযোগ নিঃসন্দেহে নতুন। সাই ফাইয়ের ভক্তরা অবশ্য বলবেন ভবিষ্যতে যন্ত্রেরা মন্ত্রণা করে মানুষের ভিটেমাটি চাটি করবে। আশঙ্কাটা হেসে উড়িয়ে দেওয়ার মত নয়, কিন্তু তখনো মানুষ আর যন্ত্র একে অপরের বিরুদ্ধে লড়বে বলেই তো মনে করা হয়। যন্ত্র আমার সাথে ষড় করে আপনাকে বিপদে ফেলবে — এমনটা এখনো কোনো হলিউডি চিত্রনাট্যকারের মাথায় আসেনি। তবে ভারতীয় ক্রিকেটাররা যে সে লোক নন। তাঁরা আমার আপনার চেয়ে কিঞ্চিৎ উচ্চস্তরের জীব বইকি। তাই গতকাল কেপটাউনের তৃতীয় টেস্টে ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ডীন এলগারকে এল বি ডব্লিউ হওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়ে দিল দেখে সরোষে ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহলি, তাঁর সহকারী কে এল রাহুল, আর বর্ষীয়ান ক্রিকেটার রবিচন্দ্রন অশ্বিন প্রযুক্তির, সম্প্রচারকারীর এবং দক্ষিণ আফ্রিকা দেশটার শাপ শাপান্ত করেছেন।

সুকুমার রায় লিখেছিলেন “ছায়ার সাথে কুস্তি করে গাত্রে হল ব্যথা।” এ যে “আজগুবি নয়, আজগুবি নয়, সত্যিকারের কথা —” বিরাটদের কাণ্ড না দেখলে বিশ্বাস করা শক্ত হত। উইকেটের সামনে গিয়ে স্টাম্প মাইক্রোফোনের উপর ঝুঁকে পড়ে মাঠে অনুপস্থিত লোকেদের গাল দেওয়া যত না ক্রিকেটারসুলভ তার চেয়ে বেশি জনি লিভারসুলভ। হাস্যকর দিকটা বাদ দিলে, এই আচরণ হল অসভ্যতা। এক দশক আগেও একে অসভ্যতাই বলা হত, ইদানীং সভ্যতার সংজ্ঞা বিস্তর বদলেছে। তাই ভারতের ক্রিকেটার, প্রাক্তন ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার, সাংবাদিক প্রমুখ কাল থেকে নানারকম নরম ব্যাখ্যা দিচ্ছেন:

ক) “আসলে ওরা প্রাণ দিয়ে খেলে তো, এত বাজে সিদ্ধান্ত হলে কি আর মাথার ঠিক রাখা যায়?”

খ) “ক্রিকেটাররাও তো মানুষ। উত্তেজনার মুহূর্তে আবেগ এসে পড়া স্বাভাবিক।”

গ) “ঝোঁকের মাথায় করে ফেলেছে।”

আরও নানারকম ব্যাখ্যা সোশাল মিডিয়ায় দেখা গেছে, তালিকা দীর্ঘতর করা নিষ্প্রয়োজন। ধারাভাষ্যের জগতে ভারতের প্রবীণতম প্রতিনিধি সুনীল গাভস্কর। তিনি ভাল করেই জানেন, টেস্টে ১০,১২২ রান যতই ক্রিকেটের ইতিহাসে তাঁর আসন পাকা করে থাকুক, সেটা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কমেন্ট্রি চুক্তির গ্যারান্টি নয়। তাই গতকাল খেলার পর মার্ক নিকোলাস আর শন পোলকের সাথে বিতর্কিত মুহূর্তগুলো নিয়ে আলোচনা করার সময়ে তিনি কেবল এলগার আউট ছিলেন কিনা, তা নিয়েই কথা বলে গেলেন। ভারতীয় ক্রিকেটারদের অন্যায় আচরণ সম্বন্ধে ভাল বা মন্দ একটি শব্দও উচ্চারণ করলেন না। হাতে গোনা কয়েকজন সত্যি কথাটা বলার সাহস করেছেন, যেমন বাংলার ক্রিকেটার এবং একদা অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দলে বিরাটের সতীর্থ শ্রীবৎস গোস্বামী। তাঁকে যে পরিমাণ ট্রোলিংয়ের স্বীকার হতে হয়েছে, তা প্রমাণ করে ‘নতুন’ ভারতে অভদ্রতা পূজনীয়, ভদ্রতা বর্জনীয়।

কোনো সুস্থ দেশে গতকালের ঘটনার আলোচনায় এলগার আউট ছিলেন কি ছিলেন না তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে না। কারণ সে দেশের অধিকাংশ মানুষ মানবেন, ক্রিকেটে আউট থাকা সত্ত্বেও আউট না হওয়া, আর আউট না হওয়া সত্ত্বেও আউট হয়ে যাওয়া চলতেই থাকে। সে জন্যে মন খারাপ হতে পারে, মাথা গরম হতে পারে। কিন্তু গোটা দেশটা আমাদের দলের বিরুদ্ধে লড়ছে, মেজাজ হারিয়ে এরকম মন্তব্য করার অধিকার কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের নেই। কিন্তু আজকের ভারতকে নিঃসংশয়ে সুস্থ দেশ বলা চলে না। দেশপ্রেমিকরাই বলে থাকেন, এখানকার যুবসমাজ নাকি এতটাই অসুস্থ, যে পিতৃমাতৃহীন হওয়ার শোকে তারা মুসলমান মহিলাদের কাল্পনিক নিলাম করার অনলাইন অ্যাপ তৈরি করে। আলোচনা যখন এমন একটা দেশে দাঁড়িয়ে হচ্ছে, তখন বিরাটদের আচরণ যে অন্যায় তা প্রমাণ করার জন্যে এলগার আউট ছিলেন কিনা সে আলোচনায় না গিয়ে উপায় নেই।

ক্রিকেট খেলায় যতরকম আউটের সিদ্ধান্ত হয়, তার মধ্যে চিরকালই সবচেয়ে বিতর্কিত লেগ বিফোর উইকেট বা এল বি ডব্লিউ। কারণ অন্য সব আউটের ক্ষেত্রেই যা ঘটেছে তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এল বি ডব্লিউয়ের ক্ষেত্রে আম্পায়ার সিদ্ধান্ত নেন কী হতে পারত। বল যখন ব্যাটারের পায়ে লাগল তখন যদি পা-টা সেখানে না থাকত, তাহলে কি বলটা উইকেটে গিয়ে লাগতে পারত? যদি আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত হ্যাঁ হয়, তাহলে তিনি তর্জনী তুলে ব্যাটারের মৃত্যুঘন্টা বাজিয়ে দেন। নাহলে ব্যাটার বেঁচে যান। যখন লাইভ টিভি ছিল না তখনকার কত আউট যে আসলে আউট ছিল না, আর কত নট আউট আসলে আউট ছিল, আমরা কখনো জানতে পারব না। ডিসিশন রিভিউ সিস্টেমের বয়স মাত্র ১৪ বছর (চালু হওয়ার সময়ে নাম ছিল আম্পায়ার ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম)। ফলে লাইভ টিভি চালু হওয়ার পরেও দীর্ঘকাল এল বি ডব্লিউ বোলিং প্রান্তের আম্পায়ারের বিবেচনার উপরেই সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ছিল। ইদানীং ইউটিউব আর টুইটারের কল্যাণে সেই সময়কার বহু আউট নিয়েই হাসাহাসি চলে, কারণ দেখা যায় বহু ব্যাটার কোনো যুক্তিতেই আউট ছিলেন না, আম্পায়ার আউট দিয়েছেন। অনেকে আবার বল ব্যাটে খেলেও এল বি ডব্লিউ আউট হয়েছেন। প্রযুক্তির প্রভূত উন্নতিতে বিপুল পরিমাণ টিভি দর্শকের চোখে আম্পায়ারের ভুল (ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত) নগ্নভাবে ধরা পড়ার কারণেই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আই সি সি) প্রথমে রান আউট ইত্যাদির জন্য তৃতীয় আম্পায়ার, পরে ডি আর এস চালু করতে বাধ্য হয়েছিল। ডি আর এসের আগেই এসেছে নিরপেক্ষ আম্পায়ার নিয়োগের নিয়ম। নব্বইয়ের দশকেও অনেকদিন যে দেশে খেলা হত, সে দেশেরই দুই আম্পায়ার খেলা পরিচালনা করতেন। কিন্তু বিশেষত এল বি ডব্লিউ আউটের ক্ষেত্রেই সন্দেহ জোরদার হয়ে উঠেছিল, যে আম্পায়াররা নিজের দেশের ব্যাটারদের ইচ্ছা করে আউট দেন না, আর প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের আউট না হলেও আউট করে দেন। সেই কারণেই প্রথমে চালু হয় টেস্ট ক্রিকেটে দুজন, একদিনের ক্রিকেটে একজন নিরপেক্ষ দেশের আম্পায়ার নিয়োগ। পরে আসে ডি আর এস। অর্থাৎ এল বি ডব্লিউয়ের সিদ্ধান্তকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে না দেওয়া ডি আর এস প্রবর্তনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তাই ডি আর এস যতগুলো প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তার অন্যতম হল হকআই। এল বি ডব্লিউয়ের আবেদন হলে এখন আম্পায়ার প্রথমে দ্যাখেন নো-বল ছিল কিনা, কারণ নো-বলে রান আউট ছাড়া অন্য আউট হয় না। তারপর দ্যাখেন বলটা লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ পড়েছিল কিনা। তেমনটা হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী তখনই আবেদন বাতিল হয়ে যায়। সেখানেও সব ঠিকঠাক থাকলে স্নিকোমিটার বা হটস্পট দিয়ে দ্যাখেন বল পায়ে লাগার আগে ব্যাটে লেগেছিল কিনা। কারণ আগে ব্যাটে লাগলে আর লেগ বিফোর উইকেটের প্রশ্ন ওঠে না। সব শেষে আসে বল ট্র্যাকিং, অর্থাৎ পা ওখানে না থাকলে বলটা উইকেটে গিয়ে লাগত কিনা। বল ট্র্যাকিং প্রযুক্তি বলের সিম, স্পিনের সঙ্গে সঙ্গে পিচের বাউন্সও বিচার করে। ভারত বা শ্রীলঙ্কার পিচে বল যে মাটিতে পড়ার পর কম লাফায়, অস্ট্রেলিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকায় বেশি — বল ট্র্যাকিংকে তা শেখানো আছে। ডীন এলগারের বেলায় যে দেখানো হয়েছে বল উইকেটের উপর দিয়ে চলে যেত, তা এই কারণেই ঘটেছে। এমন নয় যে বল ট্র্যাকিং অভ্রান্ত। এই সিরিজেরই প্রথম টেস্টে মায়াঙ্ক আগরওয়ালের বিরুদ্ধে আবেদন রিভিউ করতে গিয়ে দেখিয়েছিল বল উইকেটে লাগছে, অথচ প্রায় সকলেরই মনে হয়েছিল পেস বোলারের ওই বল বেশি বাউন্সের কারণে উইকেটে লাগত না। প্রযুক্তিটা সঠিক কিনা, আরও ভাল হতে পারে কিনা — তা নিয়ে তর্ক চলতে পারে। কিন্তু হক আই একটি নিরপেক্ষ সংস্থা। ভারতে যখন কোনো সিরিজ হয় তখনো এই প্রযুক্তি তারাই সরবরাহ করে, সম্প্রচারকারী সংস্থার কোনো হাত থাকে না। অতএব দক্ষিণ আফ্রিকার টিভি সম্প্রচারকারী সুপারস্পোর্টের বিরুদ্ধে বিরাট আর অশ্বিনের বিষোদ্গার একেবারেই অকারণ।

কে এল রাহুলের অভিযোগ আরও অন্যায়। স্টাম্প মাইকে শোনা গেছে তিনি বলছেন গোটা দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতীয় দলের এগারোজনের বিরুদ্ধে লড়ছে। অথচ বোলিং প্রান্তের যে আম্পায়ার এলগারকে আউট দিয়েছিলেন, সেই মারায় ইরাসমাস দক্ষিণ আফ্রিকারই মানুষ। ১৯৯৪ সালে তৈরি হওয়া নিরপেক্ষ আম্পায়ারের নিয়ম কোভিড-১৯ অতিমারি চালু হওয়ার পর থেকে স্থগিত রয়েছে। আপাতত সমস্ত সিরিজেই যে দেশে খেলা হচ্ছে সে দেশের আম্পায়াররাই দায়িত্ব পালন করছেন। স্টাম্প মাইকে শোনা গেছে, টিভি আম্পায়ার এলগারকে আউট ছিলেন না বলার পর ইরাসমাস বলছেন “এ হতে পারে না।” আর আজ বাদে কাল যিনি ভারতের স্থায়ী অধিনায়ক হবেন, তিনি কিনা বলছেন গোটা দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে পড়েছে।

আসল সমস্যা বিরাট, রাহুল বা অশ্বিনের ঔদ্ধত্য নয়। সমস্যা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের অর্থবলে (গোদা বাংলায় টাকার গরমে) আইসিসিকে ঠুঁটো জগন্নাথ করে রাখা। বিরাটরা জেনে গেছেন তাঁরা পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ডের কর্মচারী, তাই সব নিয়মকানুনের ঊর্ধ্বে। মাঠে গালিগালাজ করলে একসময় জরিমানা-টরিমানা হত, এখন ওগুলোকে আবেগের বহিঃপ্রকাশ বলে ধরা হয়। কারণ ভারতীয় ক্রিকেটারদের জরিমানা দিতে বলার ক্ষমতা আইসিসির নেই। ফলে গালিগালাজ মাঠের মধ্যেও সীমাবদ্ধ থাকে না। পরে সাংবাদিক সম্মেলনে এসে রাহুলের মত আপাত ভদ্র ক্রিকেটার গ্যাং ওয়ারের ভাষায় বলেন “আমাদের একজনকে ঘাঁটালে আমরা এগারোজন মিলে ঝাঁপিয়ে পড়ব।”

অভিজ্ঞ সাংবাদিক থেকে শুরু করে রকে বসা ক্রিকেট পণ্ডিত, ব্যক্তিগত জীবনে যথেষ্ট ভদ্র বিশ্লেষক থেকে শুরু করে পাড়ার বৌদি পর্যন্ত সকলের কাছেই এর সপক্ষে যুক্তি মজুত। প্রথমত, এটা আগ্রাসন, এটা ছাড়া জেতা যায় না। দ্বিতীয়ত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের যখন ক্ষমতা ছিল তখন ওরা এসব অনেক করেছে। এখন আমাদের ক্ষমতা আছে তাই করছি। বেশ করছি।

প্রথম যুক্তিটার মানে হল ক্লাইভ লয়েডের ওয়েস্ট ইন্ডিজ বা অর্জুন রণতুঙ্গার শ্রীলঙ্কা কোনোদিন কিচ্ছু জেতেনি। অজিত ওয়াড়েকর বা সৌরভ গাঙ্গুলির ভারতীয় দলের কথা ছেড়েই দিন। দেশে যেমন নরেন্দ্র মোদী সরকার আসার আগে কোনো উন্নয়ন হয়নি, তেমনি বিরাট কোহলি আর রবি শাস্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার আগে ভারতীয় ক্রিকেট দলও কখনো কিছু জেতেনি।

দ্বিতীয় যুক্তিটা আরও চমৎকার। বনলতা সেনগিরি (“এতদিন কোথায় ছিলেন?”) বাদ দিলেও যা পড়ে থাকে তা হল, আমরা অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের উপর প্রতিশোধ নিচ্ছি তাদের সঙ্গেই হাত মিলিয়ে। কারণ ক্রিকেটের খবর রাখলে আপনি নিশ্চয়ই জানেন, এই তিনটে দেশের ক্রিকেট বোর্ড এখন ‘বিগ থ্রি’। হাত মিলিয়ে আইসিসির রাজস্বের সিংহভাগ দখলে রেখে সংগঠনটিকে ঠুঁটো জগন্নাথ করে রেখেছে। এরা নিজেদের মধ্যেই খেলে বেশি, অন্যদের সাথে খেলে কম। তাই নিউজিল্যান্ড বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ন হলেও ভারত তাদের সাথে দুটো টেস্টের বেশি খেলে না, ইংল্যান্ড নড়বড়ে দল হলেও তাদের বিরুদ্ধে খেলে পাঁচ টেস্টের সিরিজ।

বলতেই পারেন, জোর যার মুলুক তার। এভাবেই তো দুনিয়া চলছে। এতে আপত্তি করার কী আছে? ঠিক কথা। সমস্যা একটাই। এরপর আপনার ছেলেকে ক্রিকেট কোচিং সেন্টারে পাঠানোর পাশাপাশি কুস্তি বা বক্সিংও শেখাতে হতে পারে। কারণ মাঠে মাথা গরম হলেই যা ইচ্ছে তাই বলা যখন নিয়ম হয়ে যাচ্ছে, তখন কদিন পরে যা ইচ্ছে তাই করাও নিয়ম হয়ে দাঁড়াতে পারে। ১৯৯০-৯১ দলীপ ট্রফির ফাইনালে রশিদ প্যাটেল আর রমন লাম্বার উইকেট আর ব্যাট নিয়ে মারামারি হয়ত আজকের বাবা-মায়েদের কারো কারো মনে আছে। সেদিন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড দুজনকে যথাক্রমে ১৩ মাস আর দশ মাসের জন্য নির্বাসন দিয়েছিল। এখন অবশ্য তেমন হওয়ার সম্ভাবনা কম। “ক্রিকেট কোনোদিনই ভদ্রলোকের খেলা ছিল না”, “এমন তো আগেও হয়েছে” ইত্যাদি যুক্তি আজকাল সবসময় তৈরি থাকে।

তথ্যসূত্র

১। https://cricketaddictor.com/india-tour-of-south-africa-2021/watch-virat-kohli-ravi-ashwin-kl-rahul-take-a-dig-at-broadcasters-after-dean-elgar-survives-due-to-drs-gaffe/

২। https://twitter.com/thefield_in/status/1481666634138136577?t=LjROQTTUwJIbCvy3p2M3Ew&s=03

৩। https://twitter.com/shreevats1/status/1481648590389149696?s=20

৪। https://www.hindustantimes.com/cricket/if-you-go-after-one-of-us-all-xi-will-come-right-back-rahul-england-s-sledging-against-bumrah-shami-101629168592536.html

৫। https://en.100mbsports.com/on-this-day-ugly-spat-between-rashid-patel-and-raman-lamba-breaks-out/

https://nagorik.net এ প্রকাশিত