এ বাঁচা কেমন বাঁচা? হাসাতে হাসাতে প্রশ্ন তুলে দিল ভূত তেরিকি

গত কয়েক বছরে ‘হরর কমেডি’-র মধ্যে দিয়ে লিঙ্গ রাজনীতি উলটে দেওয়ার দৃষ্টান্ত হিসাবে অমর কৌশিক নির্দেশিত হিন্দি ছবি স্ত্রী (২০১৮) এবং স্ত্রী ২ (২০২৪) নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। বাংলায় তেমন প্রয়াস এই সিরিজের আগে হয়নি বললেই চলে।

অনেকদিন আগে এক সাদা দাড়িওলা নাট্যকার বলেছিলেন ‘লোককে যদি সত্যিটা বলতে চাও, তাহলে তাদের হাসাও। নইলে লোকে তোমাকে মেরে ফেলবে।’ না, তাঁর নাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নয়। নাট্যকার বলেছি বলে যদি বাদল সরকার ভাবেন, সেটাও ভুল। দুনিয়ার সব ভাল ভাল কথা বাঙালিরাই বলেছে এমন তো নয়। কথাটা বলেছিলেন আইরিশ নাট্যকার জর্জ বার্নার্ড শ। পরিচালক কৌশিক হাফিজী আর সৃজনশীল পরিচালক অনির্বাণ ভট্টাচার্য, যে কোনো কারণেই হোক, কথাটা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করেছেন। তাই হইচইয়ের জন্য তাঁরা যে নতুন ওয়েব সিরিজ বানিয়েছেন, সেই ভূত তেরিকি, ভয় দেখাতে দেখাতেও হাসায়। হাসতে হাসতেও ভয় পেতে হয়, কারণ যা দেখানো হচ্ছে তা যে নেহাত বানানো নয়, সেটা ভুলে থাকতে চাইলেও দিব্যি টের পাওয়া যায়।

নির্মাতারা অবশ্য সত্যকথনের উদ্দেশ্য গোপন করার বিশেষ চেষ্টা করেননি। মৃণাল সেনের আকালের সন্ধানে ছবিতে কলকাতা থেকে এক দল যুবক-যুবতী গ্রামে গিয়েছিল দুর্ভিক্ষ নিয়ে কাহিনিচিত্র তৈরি করতে। এখানে ভূতের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্য সরাসরি তথ্যচিত্র বানানো। শুরুতেই প্রযোজক মিস্টার ডি’সুজা বলে দিয়েছেন ‘বাঙালি ভূত নিয়ে সিনেমা অনেক হয়েছে। কিন্তু, ডকুমেন্টারি একটাও হয়নি।’ তা এই তথ্যচিত্র থেকে যেসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে, সেগুলো বাংলা সংবাদমাধ্যমের ভাষায় ‘বিস্ফোরক’। ছবির প্রযোজক শুটিং শুরু হওয়ার আগেই মরে ভূত হয়ে যান! তাঁর জীবিত হিসাবরক্ষক ছবির বাজেট এক কোপে অর্ধেক করে দেন! ভূতুড়ে বাড়িতে চারজন পেতনির সঙ্গে বাস করে একজন মানুষ! সেই পেতনিরা আবার মানুষের সঙ্গে ‘ইন্টু মিন্টু’ করে!

কেলেঙ্কারির এখানেই শেষ নয়। একেক পেতনির একেকরকম পদ্ধতি পছন্দ। রাজিয়ার (দীপান্বিতা সরকার) একটি লোককেই পছন্দ – জয়ন্ত চক্রবর্তী (দেবরাজ ভট্টাচার্য)। কিন্তু রাজিয়া সঙ্গমে লিপ্ত হতে একেকবার একেকজন জীবিত মহিলার শরীরে ঢুকে পড়ে। তাতেও শখ মেটে না। আরও বৈচিত্র্যের সন্ধানে সে কী করে তা না বলাই ভাল। বললে ‘স্পয়লার’ দেওয়াও হয়ে যাবে, বাঙালির যৌনতা নিয়ে ছুঁতমার্গকে এক লপ্তে বড্ড বেশি আঘাত করাও হয়ে যাবে। সেই আঘাতে কোনো পাঠক তথ্যচিত্রের প্রযোজকের মত পটল তুললে এই প্রবন্ধের লেখক বিপদে পড়ে যাবেন। তিনি তথ্যচিত্রের পরিচালক, ‘ফা** ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্মমেকার’ সঞ্জয় লীলা ব্যানার্জির (দুর্বার শর্মা) চেয়ে কোনো অংশে কম অসহায় নন।

রাজিয়া তবু ১৭৫৯ সালে মারা যাওয়া পাঠান বাবা ও বাঙালি মায়ের গোলমেলে পরিবারের সন্তান। বিশুদ্ধ বাঙালি ঘরের বিধবা লবঙ্গ (রাত্রি চ্যাটার্জী) আবার নিশির ডাক ডেকে একেক রাতে একেকজন পুরুষ ধরে আনে! কখনো কখনো এক ডাকে একাধিক পুরুষও হাজির হয়! সবচেয়ে আধুনিক পেতনি সুকুমারী (ঐশ্বর্য সেন) অবশ্য সঞ্চয়িতা, শেষের কবিতা নিয়েই মগ্ন ছিল। কিন্তু তারও জীবদ্দশায় প্রেম করার, চুমু খাওয়ার, ‘মাজা দুলিয়ে দুলিয়ে’ নাচার সাধ পূরণ হয়নি। ফলে…দেখে নেবেন।

কী ভাবছেন? ‘ইরোটিক থ্রিলার’? না মশাই। মোটে একটা ‘অ্যাডাল্ট = বাজে/খারাপ’ দৃশ্য আছে। সেখানেও মহিলাটির দিকে ‘মেল গেজ’ দিতে গেলে ভিরমি খেতে হবে।

এই তিন পেতনির অভিভাবক যে, সেই বিষ্ণুপ্রিয়া বা ভানুদিদি (আভেরী সিংহ রায়) অবশ্য সেদিক থেকে সাত্ত্বিক মহিলা। তার সময় কাটে সদ্যমৃত মানুষকে ভীতিপ্রদ ভূত হয়ে ওঠার শিক্ষা দিয়ে। তবে চার পেতনির কেউ কিন্তু অতি পরিচিত ‘মেয়েরাই মেয়েদের শত্রু’ তত্ত্ব প্রমাণ করে একে অন্যের পিছনে নিন্দেমন্দ করে না। বরং নিজেদের মধ্যে প্রাচীন বাংলায় গালাগালি দিয়ে চুলোচুলি করলেও পিছনে একে অপরের প্রশংসাই করে। লবঙ্গ পিসি যে শরবতে বিষ মিশিয়ে মানুষ মারে – সঞ্জয় লীলার দলকে এইটুকু সাবধানবাণী দেওয়া ছাড়া অন্যের পিছনে তার সম্পর্কে খারাপ কিছু বলার কোনো দৃষ্টান্ত নেই। বরং রাজিয়া আর সুকুমারী এক বাক্যে স্বীকার করে যে ভানুদিদি তাদের নেত্রী; রাজিয়া আর বিষ্ণুপ্রিয়া বলে সুকুমারী তাদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দরী। বেঁচে থাকলে ‘বাংলা বইয়ের হিরোইন’ হতে পারত।

সব মিলিয়ে ব্যাপারটা সাংঘাতিক না? বাঙালি পত্নী, থুড়ি পেতনি, এতখানি স্বনির্ভর হয়ে গেলে ব্যাপারটা যে খুবই ভয়ের হয়ে দাঁড়ায় তাতে সন্দেহ নেই। সেইজন্যেই তো ভীত সহকারী দেবদাসকে সঞ্জয় লীলা বলতে বাধ্য হয় – বউকে সব কথা বলতে নেই। সব পুরুষ সব কথা বউকে বলতে শুরু করলে পৃথিবীতে একটি পুরুষও আর বেঁচে থাকবে না। লক্ষণীয়, কথাটা শুনেই ভীত দেবদাস (সুব্রত সরকার) তাকায় পাশে বসা সহকারী পরিচালক মেয়েটির (উজ্জয়িনী চ্যাটার্জি) দিকে। মায়ের নাম নিজের নামে যোগ করা সঞ্জয় লীলার সঙ্গে মেয়েটির ‘ইন্টু মিন্টু’ আছে, এমন ইঙ্গিত বারবার দেওয়া হয়েছে। এদিকে সঞ্জয় লীলা বিবাহিত না অবিবাহিত – তা কিন্তু জানতে পারা যায় না। কী ভাবছেন? ‘ফেমিনিস্ট টেক্সট’? আরে না না, অত গুরুতর কিছু নয়। তবে হ্যাঁ, এখানে কিন্তু ডাকাত ভূতকেও মেছো পেতনি বউয়ের ভয়ে সিঁটিয়ে থাকতে হয়। গত কয়েক বছরে ‘হরর কমেডি’-র মধ্যে দিয়ে লিঙ্গ রাজনীতি উলটে দেওয়ার দৃষ্টান্ত হিসাবে অমর কৌশিক নির্দেশিত হিন্দি ছবি স্ত্রী (২০১৮) এবং স্ত্রী ২ (২০২৪) নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। বাংলায় তেমন প্রয়াস এই সিরিজের আগে হয়নি বললেই চলে। কিন্তু ভূত তেরিকি কেবল ওতে আটকে থাকেনি। মজাটা সেখানেই।

নিশ্চয়ই ভাবছেন, হাসানোর ব্যাপারটা বোঝা গেল। ভয়ের ব্যাপারটাও নাহয় বোঝা গেল। কিন্তু এসবের মধ্যে সত্যি কোথায়? আজ্ঞে তা বুঝতে গেলে তো নিজে দেখতে হবে। আড়াই মিনিটের বেশি যে আমাদের ধৈর্য থাকে না সেকথা আজকাল কে না জানে! তার উপর বাংলা ভাষায় তৈরি কোনোকিছুর জন্যে আমাদের ধৈর্য আরও কম। তাই এই সিরিজের নির্মাতারা দর্শকদের জন্যে কিছু সহায়িকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন পর্দায়। সেগুলো খেয়াল করলে মজা পাবেন, সমৃদ্ধও হবেন। যেমন সমৃদ্ধ হবেন সদ্যোজাতকেও জয়ন্তর স্ত্রীর (মৈত্রী ব্যানার্জি) ইংরিজি বলতে শেখানোর তাড়া দেখে।

কণিষ্ককে নিয়ে অনাবশ্যক লম্বা মজা বা জয়ন্তর নিশির ডাক শোনার অভিনয়ের দৃশ্যের মত কিছু বাহুল্য বাদ দিলে এই অভিনব সিরিজের সবচেয়ে বড় জোর এর চমৎকার চিত্রনাট্য এবং বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপ। স্রেফ চতুর কথার খেলা (pun) আর বহু ব্যবহৃত খিস্তি দিয়ে হাততালি পাওয়ার মত সংলাপ লেখার যে ধারা সাম্প্রতিককালে বাংলা সিনেমা আর ওয়েব সিরিজে দেখা যায়, ভূত তেরিকি একেবারেই সেই রাস্তায় হাঁটেনি। এখানে খিস্তি মানে সরাসরি কানে আঙুল দেওয়ার মত খিস্তি এবং অভিনব খিস্তি, যেমনটা বেরিয়েছে তথ্যচিত্রের জন্যে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময়ে ভূতের বাড়ির একমাত্র মানুষ বাসিন্দা তাপসের (শুভঙ্কর ঘটক) মুখ থেকে।

কিন্তু হাস্যরস, অদ্ভুতরস, আদিরস পেরিয়ে আরও এগিয়ে গেছে এই ওয়েব সিরিজ। দ্বিতীয় পর্বেই গল্পে এসেছে নতুন মোড় এবং সিরিজ যেখানে শেষ হয়েছে তা অপ্রত্যাশিত। এই পরিবর্তন সম্ভব হত না সকলের উঁচু মানের অভিনয় ছাড়া। যে পেতনিদের উপর গোটা সিরিজ দাঁড়িয়ে আছে, তাঁরা চোখ ফেরাতে দেন না। সাধারণত কলকাতার বাংলা ভাষা ছাড়া অন্য কোনো বাংলায় কথা বলতে হলেই আজকের অভিনেতারা অনিচ্ছাকৃত হাস্যরস সৃষ্টি করে বসেন। কিন্তু এখানে বাঙাল টানে চমৎকার চালিয়ে গেছেন দীপান্বিতা; আভেরী নাকি সুর বজায় রেখে খাস পশ্চিমবঙ্গীয় ভাষায় কথা বলেছেন আগাগোড়া। ১৯৭০-এর দশকের আধুনিকার চরিত্রে ঐশ্বর্যও দারুণ সফল। তিনজনের হাঁটাচলা, ছলাকলায় যে বিভিন্নতা থাকার কথা ছিল তাও তাঁরা সযত্নে রক্ষা করেছেন। তার উপর আছে ভয় দেখানো – কোথাও চাউনির সামান্য পরিবর্তনে, কোথাও বসার বা দাঁড়ানোর ভঙ্গি বদলে। সেসবেও তিনজনেই সফল। ঐশ্বর্যকে এর উপর প্রেমের অভিনয়ও করতে হয়েছে।

আরও পড়ুন মানিকবাবুর মেঘ: অনন্য রোম্যান্টিক ছবি

দুর্বার এর আগে অনির্বাণের সৃজনশীল পরিচালনায় দুটো ওয়েব সিরিজে একেবারে দুই মেরুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন – ব্যোমকেশ ও পিঁজরাপোল-এ তলোয়ারের মত তীক্ষ্ণ ভুজঙ্গ ডাক্তার, আর তালমার রোমিও জুলিয়েট-এ গোবেচারা তপন। এখানে তিনি একইসঙ্গে বেচারা, ভীতু, আবার দলনেতা। ভয় পাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু সেটা লুকিয়েও রাখতে হবে। নইলে শুটিংয়ের কর্তৃত্ব হাত থেকে বেরিয়ে যাবে। একখানা টুপি আর চশমায় ভর দিয়ে ভীরু, সংস্কৃতিবান অথচ অসহায় বাঙালির মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছেন এই তরুণ অভিনেতা। পেতনিরা কী করতে বললে মানবে আর কিসে রেগে যাবে, তা নিয়ে তাঁর সর্বক্ষণের আতঙ্ক; সহকারীদের কাজকর্মে, প্রযোজকের কীর্তিকলাপে হতাশা; পার্টির দৃশ্যে সহকর্মীর এবং নিজের প্রাণ বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা যেমন হাসির উদ্রেক করে, তেমনই টের পাওয়ায় – ঠিক কোন গাড্ডায় পড়ে আছি আমরা।

বাবা-মা-বউয়ের চোখে ফালতু, অথচ পেতনির সঙ্গে মাঠে ঘাটে খাটে খাটে খেলে বেড়ানো বেচারা ভদ্রলোকের চরিত্রে দেবরাজ এতটাই জ্যান্ত, থুড়ি জয়ন্ত, হয়ে উঠেছেন যে তাঁকে দেখলেই মনে পড়ে নবারুণ ভট্টাচার্যের লাইন ‘বাঙালি শুধুই খচ্চর নয়, তদুপরি অসহায়’। ভদ্রলোকের যাবতীয় ভালমানুষি ও ভণ্ডামি ভারি নিপুণভাবে তুলে ধরেছেন দেবরাজ।

কমলেশ নামক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন শৌনক কুন্ডু। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁকে দ্বিধা, বিষাদ, পূর্বরাগ, প্রেম, বিস্মৃতি – অনেককিছু ফুটিয়ে তুলতে হয়েছে। তাঁরই ঠোঁটে আছে এই সিরিজের সূক্ষ্ম অথচ সবচেয়ে মোক্ষম খোঁচা দেওয়া সংলাপ ‘কী হয়েছে মানুষের? এত রাগ, এত হিংসে…’। দ্বিতীয় পর্বের কমলেশ আর শেষ পর্বের কমলেশ প্রায় দুটো আলাদা চরিত্র। দুটোতেই দিব্য উতরে গেছেন শৌনক। গোটা সিরিজে সাকুল্যে আড়াই-তিন লাইন সংলাপ বলতে হওয়া উজ্জয়িনী বা শুটিং দলের অন্যদের অভিনয়েও এক চুল খামতি নেই।

ভূতুড়ে পরিবেশ তৈরি করতে অসামান্য ভূমিকা নিয়েছে অনিমেষ ঘড়ুইয়ের ক্যামেরা আর উজান চ্যাটার্জির আবহসঙ্গীত। অনিমেষের নৈপুণ্য তুঙ্গে উঠেছে একেবারে শেষ পর্বে রবীন্দ্রসঙ্গীতের গায়ে কাঁটা দেওয়া ব্যবহারে। এক স্মরণীয় শটে তিনি মিলিয়ে দিয়েছেন ভূতের বাড়ির আলো আঁধারি আর গানের ‘সেইখানেতে সাদায় কালোয়   মিলে গেছে আঁধার আলোয় –’ । ভূতের ছবির আবহসঙ্গীত প্রায়শই অকারণে কান ঝালাপালা করে। কিন্তু উজান মজা আর গা শিরশিরে ভাব মিলিয়েছেন শব্দের পরিমিত ব্যবহারে।

তবে এত উপাদেয় রান্নায় নুন কিন্তু গানগুলো। আগেও দেখা গেছে, অনির্বাণের কলম আর দেবরাজের সুর ও কণ্ঠ মিললে গুনগুন করার মত এক বা একাধিক গান তৈরি হয়ে যায়। এই সিরিজেও ব্যতিক্রম ঘটেনি। মধুপূর্ণা গাঙ্গুলির গাওয়া শীর্ষসঙ্গীত তো বটেই, দেবরাজ আর ঝিনুক বসুর গাওয়া ‘একটা প্রেম করি’-ও শ্রুতিমাধুর্যে তেমন গান হয়ে উঠেছে। গানের কথায় আশ্চর্য কাণ্ড অবশ্য ঘটেছে ঐশ্বর্য রায়ের গাওয়া ভূতেদের পার্টির গানে।

ভয় দেখাও, ঘাড় মটকাও, খেয়ে নাও সমস্যা
পূর্ণিমা খেয়ে নাও, ঢেঁকুর তোলো অমাবস্যা।

রাজনীতি খেয়ে নাও, ঢেঁকুর তোলো মানবিকতা।

এসব লাইন সহজে ভোলার নয়, যেমন ভোলা যাবে না সমাধানবাবুকে। র‍্যাপার ভূতো (বুদ্ধদেব দাস; কণ্ঠে অনির্বাণ) আর রজনীগন্ধার স্টিক লাগিয়ে হারমোনিয়াম নিয়ে ‘কেউ বেঁচে নেই’ গাইতে বসা গায়ককে (উজান) আবার হজম করা শক্ত বলে ভোলা কঠিন।

এই সিরিজের দুর্বলতা বলতে প্রথম দেড়খানা পর্বের বিপুল মজা সত্ত্বেও গল্প দানা না বাঁধা। তাছাড়া ভানুদিদি কী করে মারা গেলেন সে ব্যাখ্যাও কোথাও নেই। ব্যাপারটা বিসদৃশ লাগত না, যদি একমাত্র তাঁর বেলাতেই এমনটা না ঘটত। আর সবচেয়ে বড় শক্তি কী? প্রচণ্ড হুল্লোড় সত্ত্বেও গিলতে আসা বিষাদ। কারণ এই সিরিজে সারাক্ষণ মনে হয়, অশরীরীরা শরীরী হয়ে উঠতে চাইছে আর শরীরীরা মরলে বাঁচে।

নাগরিক ডট নেট ওয়েবসাইটে প্রকাশিত