গায়কের মৃত্যু

subirsen

গায়কের মৃত্যু হয় কখন? যখন অনুগত সুরও অবাধ্য হয়ে ওঠে? যখন নিজের যশে আকন্ঠ মত্ত তিনি নতুন সুরের সন্ধান ছেড়ে দেন? নাকি সুর ছেড়ে গেলেও নাছোড়বান্দা গায়ক যখন অভ্যেসের দাস হয়ে দীর্ঘকাল গেয়ে যাওয়ার পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, তখন? এসব প্রশ্নের উত্তর যার কাছে যা-ই হোক, “সুর আর গান থেমে গেলে সবাই আমাকে ভুলে যাবে” — এই আশঙ্কা থেকে কোন গায়ক কখনো মুক্ত হতে পারেন না। রূঢ় সত্যটা হল কোন কোন গায়কের মৃত্যু হয় না। বাকিরা নিতান্ত মর। সুবীর সেন হয়ত অমর গায়কদের দলে পড়বেন না। জীবদ্দশাতেই সংখ্যাগরিষ্ঠ তরুণ শ্রোতার কাছে তিনি রিমেক গানের ক্যাসেটের ফোল্ডারে লেখা নামমাত্রে পরিণত। তবু স্মৃতি বলে একটা জিনিস আছে, নস্ট্যালজিয়া বলে একটা গলার কাছে আটকে থাকা জিনিস আজও আছে। আর সেসব জিনিস গানকে যেভাবে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রাখে, আর কিছুকে তেমন নয়। মায়ের গলায় প্রথম শোনা কোন গান, ছেলেমানুষী প্রেমের দিনগুলোয় ভাল লাগা কোন গান কি কখনো হারিয়ে যায় স্মৃতি থেকে? সে যতই সাধারণ গায়কের গাওয়া গান হোক না কেন।
মনে পড়ছে এক বন্ধুর মুখে শোনা গল্প। তার বাবা -মায়ের প্রেমের বিয়ে। আমার বন্ধু এবং তার বোন স্কুলের উঁচু ক্লাসের ছাত্রছাত্রী যখন, তখনও দাম্পত্যকলহে বিশেষ সুবিধে না করে উঠতে পারলেই ওদের বাবা গেয়ে উঠতেন “এত সুর আর এত গান…” আর ওর মা গলে জল হয়ে যেতেন। কারণ ওঁদের প্রেমের প্রদোষে, যখন ভদ্রলোক সাহস করে মনের কথা ভদ্রমহিলাকে বলে উঠতে পারছিলেন না, তখন ঐ গানটি গেয়েই বাজিমাত করেছিলেন।
কালের নিয়মে আমার বন্ধুর বাবা-মা একদিন আর থাকবেন না। কিন্তু বন্ধুটি সুবীর সেনকে কখনো ভুলবে না। যখন ওঁরা থাকবেন না তখন সুবীর সেন আরও বেশি করে থাকবেন আমার বন্ধুর সাথে। সীমাবদ্ধ হলেও এ এমন অমরত্ব যা থেকে কোন গায়ককে বঞ্চিত করার সাধ্য পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত সমালোচকেরও নেই।

Advertisements

Published by

Pratik

Blogger and poet. Isn't that enough?

Leave a Reply