নাম তার ছিল: ২০

পূর্বকথা: বাবার প্রতি, বাবার রাজনীতির প্রতি বিতৃষ্ণায় চাকরি নিয়ে হায়দরাবাদে চলে এসেছিল বিপ্লব। কোনদিন ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল না। সম্প্রতি অর্থনৈতিক ডামাডোলে বস এবং প্রিয় বন্ধু অচিন্ত্যদার দুর্দশা দেখে বাবার কথা, সবুজগ্রামের কথা নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।

পাগল ছাড়া কেউ কলকাতায় ফেরত যায় না। বন্ধুবান্ধবরা সকলেই এই এক কথাই বলছে। হায়দরাবাদ ছেড়ে যদি যেতেই হয় তো ব্যাঙ্গালোর যাওয়া উচিৎ, গুরগাঁও যাওয়া উচিৎ। নইলে নয়ডা আছে, পুণে আছে। মরতে কলকাতা কেন? কলেজের সহপাঠীরা, আগের চাকরির সহকর্মীরা — সকলেই একই কথা বলছে। দু একজন তো অন্য বন্ধুদের থেকে শুনে উপযাচক হয়ে ফোন করে বলেছে “এই ব্লান্ডার করিস না ভাই। তুই এখন যে স্টেজে আছিস, আর কিছুদিনের মধ্যেই অফ শোর যাবি। একবার গেলেই তোর অপশন অনেক বেড়ে যাবে। চেষ্টা করবি বাইরে কোথাও সেটল করতে। কলকাতা কোন দুঃখে?”

দুঃখ! সে কি কলকাতার জন্যে? তা তো নয়। দুঃখ বাবার জন্যে। না, বোধহয় তাও নয়। অন্যের জন্যে দুঃখ পাওয়ার যে ক্ষমতা একদিন ছিল, সে আর কোথায়? এখন শুধুই নিজের জন্যে দুঃখ হয় বিপ্লবের। কিসের দুঃখ? বাবার থেকে দূরে সরে যাওয়ার দুঃখ, হয়ত মানুষটাকে ঠিক করে চিনতে না পারার দুঃখ। তাতে কার ক্ষতি হয়েছে? বাবার? ধুর। বাবার পৃথিবীটা অনেক বড়। সে পৃথিবীর একটা কোণ খাবলে নিয়ে ছেলে অন্য গ্রহের বাসিন্দা হয়েছে অনেকদিন। তাতে বাবার দুনিয়ায় কিছুর অভাব ঘটেছে কি? ঘটেনি। বিপ্লব ঠিক জানে, দুঃখবিলাসীদের ভুলে সত্যিকারের দুঃখী মানুষদের দুঃখের ভাগ নিয়ে দিব্যি চলে যাচ্ছে বাবার। তেমন কিছু করার ক্ষমতা নেই বহুকাল হল, কিন্তু পাশে গিয়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা বাবার ততদিন থাকবে যতদিন হেঁটে চলে বেড়াতে পারছে। আর ততদিন বাবা সেই সাত পুরনো সাইকেলটা নিয়ে খুঁজেও বেড়াবে কে একা একা দুঃখ পাচ্ছে। হয়ত যৎসামান্য কিছু একটা করবে। সেটুকুও না পারলে চুপচাপ বাড়ি ফিরে কোন একটা বই মুখে করে থম মেরে বসে থাকবে, তেমন ঘটনা হলে হয়ত নিঃশব্দে কাঁদবে। মা টের পাবে না, কারণ কোনদিন পায়নি। কিন্তু বাবার সম্পর্কে একেবারে শীতল হয়ে যাওয়ার পরেও বিপ্লব ঠিক টের পেত। তবে ছোটবেলায় যেমন বাবাকে দেখে ওর চোখে জল এসে যেত, ভাবত ওরও কর্তব্য কিছু একটা করা — সেরকম আর হয়নি বছর দশেক।

বিপ্লব মনে করার চেষ্টা করে শেষ কবে ওর কান্না পেয়েছিল। মনেই পড়ে না। কান্না পাওয়ার মত কিছু কি ঘটেনি অনেকদিন? ঘটেছে তো। যে অচিন্ত্যদার সাথে এত ঘনিষ্ঠতা, সে অন্ধকার মুখ নিয়ে চাকরিটা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হল। বিপ্লবের তো কান্না পেল না! তারপর সেই লোক আত্মহত্যার চেষ্টা করল। আরেকটু হলে মরেই যেত। তাকে দেখতে গিয়েও তো কান্না পায়নি! ও হাসপাতালে থাকার সময়ে একদিন বিপ্লব দেখতে গেছে, দ্যাখে মাথার কাছে বসে আছে অচিন্ত্যদার মেয়ে রিচা। বছর দশেকের মেয়েটার মুখটা শুকিয়ে এতটুকু। সে মুখ দেখে বিপ্লবের নিজের কথা মনে পড়ে গিয়েছিল। সেই যেদিন বাবা পঞ্চায়েত সমিতি থেকে প্রায় অজ্ঞান অবস্থায় ফিরল। তা সত্ত্বেও, সেদিনও চোখে জল আসেনি বিপ্লবের। এতটাই কি নির্দয় ও? একটা ফুলের মত বাচ্চার কষ্ট দেখেও কষ্ট হয় না? বাচ্চার কথা ভাবতে গিয়েই শেষ অব্দি মনে পড়ে গেল শেষ কবে কান্না পেয়েছিল।

মাত্র কদিন আগেই। অচিন্ত্যদা কলকাতায় চলে যাওয়ারও পরের ঘটনা। বিপ্লবের বাড়িওয়ালার একটা মহা বিচ্ছু ছেলে আছে, বছর আষ্টেক বয়স। ও সে ব্যাটাকে এড়িয়ে চলারই চেষ্টা করে, কিন্তু তার যে কোন কারণেই হোক “বংলা আঙ্কল” কে ভীষণ পছন্দ। ছুটির দিনে ওকে ঘরে দেখতে পেলেই এসে খেলাধুলো করতে চাইবে। তার খেলা মানে গোটা ঘরটা লণ্ডভণ্ড করা। বিপ্লব একদমই পছন্দ করে না, কিন্তু বাড়িওয়ালার ছেলে বলে কথা। দূর দূর করে তাড়িয়ে দেওয়াও যায় না। ফলে সে আসে এবং ঘন্টা দুয়েক থাকে। মানে সমস্ত ঘরটা তছনছ না করা অব্দি ফেরত যায় না। তা সেদিন যখন আসে, বিপ্লব একটু বেশিই বিরক্ত হয়েছিল। কারণ সেই সপ্তাহটা খুব চাপ গেছে, শনিবারও অফিস যেতে হয়েছে, রাত দুটো অব্দি কাজ করতে হয়েছে। দুপুরে স্নান করে, খেয়ে উঠে সবে শুতে যাবে — এমন সময় উৎপাত। ছেলেটা এসে ঢুকতেই ও ঠিক করেছিল ব্যাটাকে ডাইনিং হলে খেলতে দিয়ে বেডরুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে শুয়ে পড়বে। যা ছেঁড়ে ছিঁড়ুক, যা ইচ্ছে ভাঙুক। করেছিলও তাই। বেশ গভীর ঘুম এসেছিল। দোষের মধ্যে দরজাটার ছিটকিনি আটকানো হয়নি, ভেজানো ছিল। হঠাৎ পায়ের নীচে একটা প্রচণ্ড যন্ত্রণা ঘুমটা ভাঙিয়ে দিল। ব্যথার চোটে চিৎকার করে জেগে উঠে দ্যাখে বাঁদরটা রান্নাঘর থেকে সাঁড়াশি নিয়ে এসে ওর পায়ের আঙুল নিয়ে টানাটানি করছে। আরেকটু হলেই ভেঙে ফেলেছিল ডান পায়ের বুড়ো আঙুলটা! সেই তখন ব্যথায় চোখে জল এসেছিল।

তাহলে চোখে জল আসে, তবে অন্যের কষ্টে নয়। আয়নায় নিজের চেহারাটা দেখে বাঁকা হাসে বিপ্লব। মানুষ যে কত বদলে ফেলতে পারে নিজেকে, ভাবলে অবাক লাগে।

সবুজগ্রাম স্টেশনের কাছে সেই জামার দোকানটা এখনো আছে কিনা কে জানে। সেবার পুজোর আগে উত্তরবঙ্গে খুব বন্যা হল। বাবা এসে মহালয়ার কয়েকদিন আগে মাকে বলল “জোনাকি, এই ত্রাণে তো কিছু দিতে হয়।”

মা গম্ভীর হয়ে বলল “কী দিতে হবে?”

“এই জামাকাপড় টাপড়… পুরনো, নতুন…”

“গুছিয়ে রাখব, কাল নিয়ে যেও।”

“কাল সকালে আমরা তো বাড়ি বাড়ি কালেকশনে বেরোব। তখন দিয়ে দিও।”

মা হ্যাঁ, না কিছুই বলল না। বাবা যেন কী একটা বলব বলব করেও বলছে না। শেষে মা-ই জিজ্ঞেস করল “এত অল্প ফরমাশ তো তোমার হয় না? আর কী যন্ত্রণা দেবে বলে ফ্যালো। ফেলে রেখে লাভ নেই।”

“আসলে কিছু টাকাও তো ত্রাণ তহবিলে দেয়া দরকার,” বাবা আমতা আমতা করে বলে।

“টাকা! কোথায় পাবে টাকা? বাড়িতে তো কিচ্ছু নেই।”

“না না, সে তো জানি। কিন্তু ঐ স্কুল কো অপারেটিভ থেকে একটা টাকা তো পাব। সেটা যদি ওখানে দিই…”

“বাঃ! চমৎকার! তাহলে পুজোর মাসটা চলবে কী করে?”

এই নিয়ে দুজনের রীতিমত লেগে গেল। বাবা শেষ পর্যন্ত চুপচাপ বাইরের ঘরে গিয়ে বসে পড়ল। মা তখনো ঠান্ডা হয়নি। বিপ্লব তখন বলেছিল “বাবা, আমাকে এবার পুজোয় জামা টামা দিতে হবে না। তুমি সেই টাকাটা ত্রাণ তহবিলে দিয়ে দাও।”

বাবার নিভে যাওয়া চোখ দুটো কিভাবে জ্বলে উঠেছিল মনে পড়ে মনটা ভাল হয়ে গেল বিপ্লবের। “দেখেছ, জোনাকি? দ্যাখো। এই হচ্ছে আমার ছেলে।” বাবা চিৎকার করে উঠেছিল।

মা, রাগের মধ্যেই, হেসে ফেলে বলেছিল “তা তো বটেই। ওরও তোমার অবস্থাই হবে। সারাজীবন শুধু দুঃখী মানুষের আশীর্বাদ কুড়োবে।”

বাবা জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞেস করেছিল “বাবা, তোর কষ্ট হবে না? পুজোর সময় সবাই নতুন জামা পরবে…”

“আরে বাবা, আমিও তো পরব। মামা তো দিয়েছে একটা। আবার কত লাগে একজন মানুষের?” বিপ্লব বিড়বিড় করে বলল সেদিনের বলা কথাগুলো। আর বলতে বলতে চোখ চলে গেল ওয়ারড্রোবের দিকে। উঠে গিয়ে খুলল সেটা। এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয়, সাত, আট, নয়… ইশ! কত বদলে গেছে ও। পিটার ইংল্যান্ড, টার্টল, অ্যালেন সোলি… কিছু যে বাদ নেই আর! ক্রেডিট কার্ড হওয়ার পর থেকে কত যে ব্র‍্যান্ডেড জামাকাপড় কিনেছে!

সেবার ষষ্ঠীর দিন সকালে বাবার সাথে বাজারে গিয়েছিল। বাজার থেকে বেরিয়ে বাবার বরাবরের অভ্যেস বিন্দুকাকুর চায়ের দোকানে ঢোকা। সেদিন উল্টো দিকে হাঁটা দিয়েছে দেখে বিপ্লব জিজ্ঞেস করল “কোথায় যাচ্ছ?”

“আয় না।”

পিছু পিছু গিয়ে দ্যাখে বাবা একটা জামাকাপড়ের দোকানে ঢুকছে। বাবাকে দেখেই বৃদ্ধ দোকানদার বললেন “বাব্বা! কার পায়ের ধুলো পড়ছে?”

“কী যে কন, কাকা। রোজই তো এই রাস্তা দিয়া আসি যাই।”

“তা তো যাও। কিন্তু আমার দোকানে তো কখনো আসো না। তোমার বাপের লগে কত আইতা।”

“আপনার দোকানে তো আমার দরকার পড়ে না। আমি তো মোটামুটি পাঞ্জাবি পাজামা পইরাই কাটাই। আপনার দোকান তো বাবার আমলে লুঙ্গি, ফতুয়ার দোকান আছিল। এখন তো রেডিমেড। আমার তো লাগব না।”

“তা বটে। তা আইজ কার জইন্যে?”

“এই যে আমার পোলা। একখান ভাল দেইখ্যা জিনস দেখান তো। ওর বয়সী পোলাপান তো জিনসই পরে দেহি। ওরে একখানও কিনে দেই নাই।”

বাবার মতলবটা বুঝতে পেরেই বিপ্লব বলেছিল “আরে না না। আমার জিনস টিনস লাগবে না। বাবা, বাড়ি চলো। মার রান্নার দেরী হয়ে যাবে।”

বাবা ওকে জোর করে টুলটার উপর বসিয়ে দিয়ে বলে “তুই বস তো চুপ করে।” অগত্যা ভারী অস্বস্তি নিয়ে ও বসে। দোকানী জেঠু তিনখানা বিভিন্ন কোম্পানির জিনস বার করে ওদের সামনে রেখে দরদাম বলে। বাবা ওকে দাঁড় করিয়ে সাইজ টাইজ ঠিক হল কিনা দ্যাখে। তারপর বলে “বল এবার, কোনটা পছন্দ?”

বিপ্লব একটা শেষ চেষ্টা করেছিল। “বাবা, আমার প্যান্ট যথেষ্ট আছে। আমার জিনস পরার কোন শখ নেই। সত্যি বলছি।”

বাবা তখন একটু ধমকের সুরেই বলেছিল “আচ্ছা শখ নেই তাও আমি দেব। আমার ইচ্ছা। তুই কোনটা নিবি বল।”

বিপ্লব তখন ক্লাস এইট। সবচেয়ে কম দামীটার দাম ছিল বোধহয় শ দেড়েক। সেটাকেই তুলে নিয়েছিল। প্যান্টটা নিয়ে ফেরার সময় বাবার পাশে সাইকেল চালাতে চালাতে বিপ্লব বলেছিল “বাবা, এটা কিন্তু ঠিক হল না। এবার পুজোয় আমার কিছু লাগবে না বলেছিলাম। ত্রাণ তহবিলে দেয়ার কথা ছিল টাকাটা।”

“দিয়েছি তো।”

“সে তো জানি। তার মানে এই প্যান্টটা কেনার জন্যে তোমায় আবার ধার করতে হল? কী দরকার ছিল?”

“না রে বাবা, ধার করিনি।”

“বললেই হল? তুমি সেদিনই বললে হাতে একদম টাকা নেই। তারপর তো স্কুলে ছুটিই পড়ে গেল। এর মধ্যে কোথায় টাকা পেলে?”

বাবা বেশ নিশ্চিন্ত হেসে বলেছিল “বাড়ি চল, বলছি।”

সেই হাসি দেখে ও নিশ্চিত হয়েছিল বাবা ছেলেকে নতুন জামাকাপড় দিতে পারল না বলে কষ্ট পাচ্ছিল, তাই কোন বন্ধুবান্ধবের থেকে ধার করে এই প্যান্টটা দিল।

বাড়িতে ঢুকে পাখার তলায় ঘেমো পাঞ্জাবিটা ঝুলিয়ে দিয়ে মাটিতে বসেই বাবা বলেছিল “জোনাকি, আলমারি থেকে ঐ টাকার খামটা দাও তো। তোমার ছেলে আমাকে সারা রাস্তা বকতে বকতে এল। আমি নাকি ধার করেছি। ওকে একটু দেখাও তো প্যান্ট কিনে দেয়ার টাকা কোথায় পেলাম।”

মা হেসে একটা সাদা খাম বের করে হাতে দিতে দেখা গেল তাতে লেখা

ফ্রেন্ডস বেনিফিট ফান্ড

রবীন ঘোষাল

জোনাকি ঘোষাল

ফান্ডটার কথা বিপ্লব জানত। পাড়ার অনেকে মিলে বানিয়েছিল। সবাই মিলে টাকা রাখত। তার বদলে বছরে একবার সদস্য পিছু কিছু টাকা পাওয়া যেত।

“এবার বিশ্বাস হল?” বাবা জিজ্ঞেস করেছিল।

“ওমা! কাল তুই সন্ধেবেলা অঙ্ক স্যারের কাছে যাওয়ার সময় যে তোকে বললাম চাবি লাল্টুদের বাড়িতে থাকবে, আমি আর তোর বাবা মিটিঙে যাব, সেটা কিসের মিটিং ছিল?” মা খেয়াল করায়।

“সে আমি কী জানি?”

“আরে ফান্ডেরই তো মিটিং ছিল। ফাল্গুনীদের বাড়ি। প্রতিবার মিটিংটা সেপ্টেম্বরে হয়, এবার অক্টোবরে হল, কারণ ওদের পালা ছিল মিটিংটা করার। কিন্তু গত মাসে ফাল্গুনীর বোনের বিয়ে ছিল বলে হয়নি।”

“হুম।”

“তাও মুখ গোমড়া করে আছিস কেন?” বাবা ধেড়ে ছেলেকে কোলের কাছে টেনে নিয়ে বলেছিল। “শোন, স্কুলের কো অপারেটিভ থেকে দু হাজার টাকা পেয়েছিলাম। গোটাটাই ত্রাণে দিয়েছি। তাছাড়া পার্টি থেকে সব সদস্যকে বলা হয়েছিল এক দিনের মাইনে দিতে। সেটাও দিয়েছি। ওগুলো বাদ দিয়ে আমি তোকে প্যান্ট কিনে দিইনি বাবা।”

“আসলে ও না বন্যাটা নিয়ে খুব ভাবছে, জানো?” মা বলেছিল। “যখন কাগজে ছবিগুলো বেরোচ্ছিল, দেখতাম কিভাবে চেয়ে থাকত।”

“জানি গো, জানি। অন্যের দুঃখে ওর প্রাণটা কাঁদে যে। সেই জন্যেই পুজোয় নিজের জামা প্যান্ট হবে না তাও চলবে, কিন্তু ত্রাণে ও টাকা দিতে বলে,” বলতে বলতে বাবার গলা ধরে এসেছিল। “আবার কেমন ছেলে দ্যাখো। ভেবেছে ওর বাপ সাধ্যের বাইরে গিয়ে কিনে দিচ্ছে, তাই দেখে শুনে সবচেয়ে কম দামী প্যান্টটা পছন্দ করেছে।”

বিপ্লব জোরালো প্রতিবাদ করেছিল। “না না আমি অত ভাবিনি। আমার এটাই পছন্দ হয়েছিল।”

কিন্তু কে শোনে কার কথা? নাস্তিক বাবা তখন ওর মাথায় হাত রেখে মন্ত্রোচ্চারণের মত বলছে “এমনটাই থাকিস, বাবা। এমনটাই থাকিস। তুই কমিউনিস্ট হলে ভাল। যদি নাও হোস, অন্যের দুঃখে যে এগিয়ে আসে না সে কি আবার মানুষের বাচ্চা রে?”

কথাগুলো মনে পড়তে, বোকার মত হাউ হাউ করে কেঁদে ফ্যালে বিপ্লব। উফ! বাবা তো বুঝতেই পারে যে এখন আর অন্যের দুঃখে কিচ্ছু এসে যায় না ওর। কোথায় বন্যা হল, কোথায় খরা হল সেসবের ছবি দেখে স্ক্রোল করে অন্য কিছুতে চলে যায় অনায়াসে। শুধু পুজো নয়, বছরে অন্তত দুবার জামাকাপড় না কিনলে কেমন যেন লাগে। খুব কাছের লোকের কষ্টেও আর চোখে জল আসে না। বাবা বুঝতে পারে। নিশ্চয়ই বুঝতে পারে।

ভাল লাগলে টাকা দিতে পারেন Google Pay / Paytm / BHIM বা অন্য মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে journopratik@okhdfcbank কে

অথবা

নেট ব্যাঙ্কিং বা অন্য উপায়ে নিম্নলিখিত অ্যাকাউন্টে

Pratik Bandyopadhyay
A/c No. 14041140002343
HDFC Bank
Branch: South Calcutta Girls’ College
IFS Code: HDFC0001404
MICR Code: 700240048

Published by

Pratik

Blogger and poet. Isn't that enough?

One thought on “নাম তার ছিল: ২০”

Leave a Reply