টুকটুকে বউমা

ফিসফাস চলেছিল, এত টুকটুকে কি ওর পেটের ছেলে? নিজের তো ঐ রঙ। নিশ্চয় কিনে এনেছে। গরমের ছুটিতে কাশ্মীর গেছিল না? ওখানে তো সব ভীষণ গরীব। নিজের পেটে ভাত জোটে না, চারটে পাঁচটা বাচ্চা। বেচে দেয় পারলেই। নিশ্চয় কিনে এনেছে।

কানে যেতে খুব কেঁদেছিল কালো মা। উনি বলেছিলেন “ছাড়ো তো। লোকের কথার দাম দেড় পয়সা।”

পৈতেয় খেতে এসে দেওরের বড় শালী লজ্জার মাথা খেয়ে বললে “ওঃ! কি ফরসা কি ফরসা আপনার ছেলে! দেখলে বুক টনটন করে। আমাদের তো আর বয়েস নেই। ও ছেলের বউ পাবেন কোথায়, দিদি? কাশ্মীর থেকে আনাবেন বুঝি?”

কালো মা কে ধলো ছেলের জন্যে কত কথাই যে শুনতে হল এতকাল!

আজ বারো দিন ছেলের খবর নেই। কাশ্মীর যাবে শুনেই মায়ের মন কু ডেকেছিল। কিন্তু চাকরি। ফোন কাজ করছে না, ইন্টারনেট বন্ধ। উনি ছেলের অফিসে ফোন করে করে হয়রান। ওরাও কোন খবর পাচ্ছে না।

কালো মা ফেসবুকে খুঁজছে। কাশ্মীরের কোন খবর যদি থাকে। টিভিতে তো বলছে সবাই ভাল আছে, তাহলে কোন খবর নেই কেন? ছেলের গলা শোনা যায়নি কতদিন।

মা যত দ্যাখে শরীর তত অবশ হয়। ছেলের বন্ধুরা, ওনার বন্ধুরা। সবাই কিসব লিখেছে ফেসবুকে! বাপ, ব্যাটা সব একাকার! একখানা কাশ্মীরি মেয়ে পেলেই হয়! আপেলের মত গাল, এর মত বুক, তার মত পেট, অমুকের মত পাছা… মা আর পড়তে পারে না।

কালো, কালো, কালো। ছোট থেকে শুনতে শুনতে কুঁকড়ে থাকা মা কপালে হাত ঠেকিয়ে বলে “ঠাকুর, তোমার অশেষ দয়া। ভাগ্যে ফরসা করোনি। খোকা, ভালোয় ভালোয় ফিরে আয় বাবা। টুকটুকে বউমার আমার দরকার নেই।”

প্রকাশ: অণুগল্প (ফেসবুক গ্রুপ)

Published by

Pratik

Blogger and poet. Isn't that enough?

Leave a Reply