বাটিক প্রিন্ট

চমৎকার দেখাচ্ছিল ছেলেটিকে। দূর থেকে দেখেও বেশ বোঝা যাচ্ছিল সুপুরুষ। কতই বা বয়স হবে? পনেরো বা ষোল। রাজ কাপুরের ভাষায় “থোড়া থোড়া বচপন, থোড়ি থোড়ি জওয়ানি।”

আমার তিন কাল গিয়ে এক কালে ঠেকল। ছেলেটিকে দেখে কিশোরবেলার কথা মনে করে বেশ ফুরফুরে লাগছিল। রথের মেলায় এমনি কাঁচের চুড়ি আমিও কিনেছি লুকিয়ে। এ ছেলেও দেখি এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। চেনাশোনা কেউ দেখে ফেলল না তো! ওর দৃষ্টি অনুসরণ করে আমিও দেখি। কোন চোখ ওর দিকে কটমটিয়ে তাকিয়ে আছি কি? যদি থাকে, ভস্ম করে দেব না?

অল্প দাড়ি গোঁফ ওঠা ফর্সা ছেলেটার দিকে তাকিয়ে ভাবি, সাদা পাজামা পাঞ্জাবিতেই একে এমন দেখাচ্ছে, একখানা লাল টুকটুকে জামায় আর নীল ফেডেড জিনসে কেমন দেখাবে? আজকাল বাটিক প্রিন্ট না কী যেন বেরিয়েছে? তাতেও দারুণ মানাবে নিশ্চয়। পাশে থাকবে সেই মেয়েটি, যার জন্যে চুড়ি কেনা। হয়ত বেগুনী ওড়না আর সালোয়ারে, কামিজটা বাসন্তী। লম্বা বেণীর চঞ্চল মেয়েটি কথা বলতে বলতে ঘাড় ঘোরায়, সেই মোটা বেণী এসে লাগে ছেলেটির গায়ে। কত কথা ভেসে ওঠে, কিন্তু বলবার আগেই মিলিয়ে যায়।

“বারোয়ারীতলা কোন দিকে দাদু?”

ছেলেটা এসে আমাকেই জিজ্ঞেস করে।

বলব। আয় বাছা, একটু মাথায় হাত বুলিয়ে দিই তার আগে, চুমু দিই কপালে। ভাল থাকো বাবা, বেঁচে থাকো। বড় হও, ভাল হও। যার জন্যে চুড়ি কিনলে তারও ভাল হোক।

এসব বলব ভেবেছিলাম, বলিনি। পাগল ভাবত।

আজ সকালে কাগজ খুলেছি। আরে! তারই ছবি নাকি! তেমনি পাঞ্জাবি পাজামা, মাথায় টুপি। তবে জামাটি তো পুরো সাদা নয় মনে হচ্ছে? বাটিক প্রিন্ট না? চশমা ছাড়া ঝাপসা দেখি। বুড়োর মন। মুখও দেখতে পাইনি, কেবল সাদা পাজামা আর টুপি দেখেই কাল বিকেলের ছেলেটার কথা মনে পড়ল।

হাতড়ে হাতড়ে তাকের উপর পেলাম চশমাটা।

হ্যাঁ সে-ই বটে। তারই মৃতদেহ। বাটিক প্রিন্ট নয়। রক্ত। কাল বারোয়ারীতলায় কারা যেন…। কাগজে লিখেছে এত মারেনি যে মরে যাবে। নির্ঘাত হার্ট ফেল করেছে।

প্রকাশ: অণুগল্প (ফেসবুক গ্রুপ)

Published by

Pratik

Blogger and poet. Isn't that enough?

Leave a Reply