নাম তার ছিল: ২

পূর্বকথা: তরুণ কমরেড উদ্দালককে নিয়ে কিছু স্বপ্ন দেখত বর্ষীয়ান পার্টি কর্মী রবীন। পার্টি ক্ষমতায় আসার পর থেকে সমবয়স্কদের পদস্খলন দেখে ক্লান্ত চোখে উদ্দালকই ছিল আশার আলো। সেই উদ্দালকের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বাড়িতে পৌঁছল রবীন। কী হয়েছিল ছেলেটার?

“আমাদের কিছু করতে হবে না। পুলিশ আসবে তো,” এক কমরেড বলে।

পুলিশ! রবীন চমকে ওঠে। উদ্দালকের মৃত্যুটা বুঝি যথেষ্ট চমকে দেওয়ার মত ছিল না। ছেলেটা কথাবার্তায়, চিন্তা ভাবনায়, পড়াশোনায় সত্তরের দশকের পার্টিকর্মীদের মতই ছিল বেশি। মৃত্যুটাও কি তাদেরই মত হল? রাজনৈতিক হত্যা? এ তল্লাটে তো ওসব অনেককাল বন্ধ! কারা করল এটা? কেন?

রবীন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সেটাই ভাবছিল। আন্দাজ করতে পেরে বলরাম বলল “রবীনদা, তুমি যা ভাবছ তা নয়। সাইকেলটা রাখো।” বলতে বলতে নিজেই সাইকেলটা নিয়ে আরেকজনের হাতে দিয়ে একপাশে রাখার ব্যবস্থা করল।

“সুইসাইড। গলায় দড়ি দিয়েছে।”

এটা রবীনকে অবাক করল আরো বেশি। তবে কেন, কী বৃত্তান্ত জিজ্ঞেস করার সময় তো তখন নয়।

উদ্দালকদের বাড়ি থেকে বেশ তাড়াতাড়িই বেরিয়ে পড়ল রবীন। উদ্দালকের বাবার সাথে দু চারটে কথা বলেই। আসার সময়ে শ্মশান যাবে ভেবেই এসেছিল। কিন্তু সেসব তো এক্ষুণি হচ্ছে না। তবে আসল কথা সেটা নয়। উদ্দালকের মায়ের পাঁঠাকাটার মত চিৎকারটা সহ্য করা গেল না। ওভাবে কাউকে কাঁদতে দেখার অভ্যাস বহুদিন নষ্ট হয়ে গেছে। এক সময় কতজনের মা, বউ, মেয়ের ঐরকম কান্না অগ্রাহ্য করে মরা মানুষটাকে খাটিয়ায় তুলে শ্মশানে নিয়ে গেছে রবীন। ও উপস্থিত থাকলে মৃতের নিকটাত্মীয়দের সরানোর কাজটা অন্য কেউ করতেই যেত না। সকলেই জানত এসব করতে গিয়ে ওর মত ইস্পাতকঠিন হতে আর কেউ পারবে না। আর নেতা রবীন, শিক্ষক রবীনকে না বলার সাহসও তেমন কারো ছিল না। অবশ্য যে রবীনের পরিচয় জানত না সে-ও কেমন মন্ত্রমুগ্ধের মত সরে যেত মৃতদেহ ছেড়ে। কিছু একটা ছিল ওর কণ্ঠস্বরে বা বাচনভঙ্গীতে।

উদ্দালকের মায়ের উপর সেই জোর খাটানোর জোরটা পেল না রবীন। মনে হল, কাঁদুন, যত ইচ্ছে কাঁদুন। ওঁকে থামানোর অধিকার নেই কারোর। তাজা ছেলে, ওঁর একমাত্র ছেলে — তাকে বাঁচাতে যারা পারেনি তাদের কোন অধিকার নেই ওঁর কান্না থামানোর। কোন অধিকার নেই ওঁকে সরিয়ে ছেলের শরীরটা নিয়ে যাওয়ার। ওসব আর যে করে করুক, রবীন করবে না।

নেহাতই অযৌক্তিক, আবেগপ্রবণ চিন্তা। এভাবে ভাবতে অভ্যস্ত নয় ও। ছাত্রছাত্রীদের, অনুজ কমরেডদের, নিজের ছেলেকে — সবাইকেই সব সময় যুক্তি দিয়ে ভাবতেই শিখিয়ে এসেছে। কিন্তু আজ যা ঘটেছে তা কি কোন যুক্তিতে হজম করা যায়? একটা ২৫-২৬ বছরের ছেলের হঠাৎ মৃত্যু মেনে নেবে কোন্ যুক্তিতে? আরো আশ্চর্য তার আত্মহত্যা। ওরকম প্রাণোচ্ছ্বল, নিবেদিতপ্রাণ এবং পরিশ্রমী একজন তরুণ পার্টিকর্মী আত্মহত্যা করবে কী কারণে? ছেলেটা তো অজাতশত্রু। পাড়ায় ভীষণ জনপ্রিয়। সেই জন্যেই গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ওকে দাঁড় করানো হয়েছিল এবং ড্যাং ড্যাং করে জিতেছে। ও পাড়ায় কিন্তু বরাবর জিততেন প্রবীণ কংগ্রেসী মানিক চক্রবর্তী। ভালমানুষ, সৎ। পাড়ার একটা পুকুরও বোজাতে দেননি। ওঁকে কোনদিন হারানো যেতে পারে রবীনরা কখনো ভাবেনি। তাঁকে হারিয়েই জিতেছিল উদ্দালক।

জিতবে না-ই বা কেন? ভোটের দিনই ও পাড়ার বুথের বাইরে মানিককাকার সাথে রবীনের দেখা। একগাল হেসে বললেন “অ্যাদ্দিনে তোমরা ঠিক লোকেরে দাঁড় করাইছ। এই পোলারে ভোট দিব না কেডা?”

“কী বলছেন? আপনি হারবেন? এ তো আমি জন্মে দেখিনি কাকা।”

“এইবার দ্যাখবা। সইত্য কইতাছি। পাড়ায় সক্কলের বিপদে আপদে প্রথম যে পৌঁছায় সে হইল উদ্দালক। তা অরে ভোট দিব না? জিতুক। হেয়াই জিতুক। আমার বয়স হইছে, দৌড়াদৌড়ি করতে আর ভাল্লাগে না গো। তার উপর কারো কারো সাথে কটু কথাও তো কইতে হয়। এই বয়সে আর ওসব ঠিক না। এখন কেদার বদ্রী করনের সময়, বুঝলা না?”

রবীন মশকরা করে বলেছিল “কাকা, আপনার কথা শুইন্যা তো মনে হইতাছে আপনার ভোটটাও অরেই দিছেন।”

বৃদ্ধ মানুষটি উত্তর দিলেন “আমি দিই নাই, তবে আমার গিন্নী দিছে। আমারে বইলা কইয়াই দিছে।”

সেই ছেলে আত্মহত্যা করবে কেন?

রবীনের স্ত্রী জোনাকি অবশ্য এর মধ্যে কোন রহস্য আছে বলে মনে করে না। বাড়ি ফিরেও কেমন অশক্ত বোধ করছিল রবীন, তাই এক কাপ চায়ের আব্দার করেছিল। চা খাওয়াতে গিয়ে রবীনের বিস্ময়ের কথা শুনে জোনাকি বলল “রাজনীতি করতে করতে এমন হয়ে গেছো যে সবেতেই রাজনীতি খোঁজো। এ তো সোজা ব্যাপার। এই বয়সের ছেলে কেন সুইসাইড করল বুঝতে এত ভাবতে লাগে?”

রবীন অবাক হয়ে ভাবে কোন্ অতিসামান্য জিনিস তার চোখ এড়িয়ে গেছে। ওর অবস্থা দেখে জোনাকি আরও জোর দিয়ে বলে “এত বছর মাস্টারি করেও ছেলেপুলের মন বোঝো না? কী মাস্টারি করো বুঝি না বাবা!”

দীর্ঘ গঞ্জনায় অতিষ্ঠ হয়ে রবীন খিঁচিয়ে ওঠে “নাটক না করে কী বলতে চাইছ পরিষ্কার বলো।”

“কী আবার! প্রেম। নিশ্চয়ই কারোর সাথে প্রেম করত, সে লেঙ্গি মেরেছে।”

“কিন্তু… উদ্দালকের ঐরকম রেজাল্ট, সুন্দর চেহারা। ও তো পার্টি করবে বলে বাইরে কোন বড় চাকরি নিয়ে যায়নি। ওরকম যোগ্য ছেলে কি পাড়ায় পাড়ায় পাওয়া যায়?”

“আজকালকার মেয়েদের কাছে ওসব কোন ব্যাপার নয়। দ্যাখো, হয়ত কোন এন আর আই পেয়ে গেছে।” বলতে বলতে চায়ের কাপ দুটো নিয়ে জোনাকি রান্নাঘরে চলে যায়। সেখান থেকে চেঁচিয়ে যোগ করে “এটা আমাদের যুগ নয় যে পাঁচশো টাকা মাইনের স্কুলমাস্টারকে বিয়ে করে কলকাতার মেয়ে এই অজ পাড়াগাঁয়ে আসবে।”

রবীন স্তব্ধ হয়ে বসে থাকে। সত্যিই এই ব্যাপারটা ওর মাথায় আসেনি। উদ্দালকের মত ছেলের তো প্রেমে না পড়াই অস্বাভাবিক। রোম্যান্টিক না হলে কেউ কমিউনিস্ট হয় না। তাও আবার ঐরকম কমিউনিস্ট। রবীনের মত গেঁয়ো, অল্পশিক্ষিত কমিউনিস্ট তো উদ্দালক ছিল না। মার্কসবাদ নিয়ে ওর পড়াশোনার গভীরতা বেশ বোঝা যেত। মার্কস কি জেনিকে বাদ দিয়ে? নাকি ক্রুপস্কায়াকে বাদ দিয়ে লেনিনকে ভাবা যায়? পি সি যোশী – কল্পনা যোশী? কেন যে এগুলো মনে হয়নি! বোধহয় জোনাকি ঠিকই বলেছে। জীবনভর তো রাজনীতিই করে গেল রবীন, এসব বুঝবে কী করে? প্রেম-ট্রেম করা তো হয়ে উঠল না ওর দ্বারা। আজকাল মুনিয়ার মুখটাও ভাল মনে পড়ে না। অবশ্য ওর সাথে কি ঠিক প্রেম ছিল? হয়ত না, তবু এই বয়সেও মুনিয়ার কথা মনে আসতেই অশান্তি কিছুটা কাটল। তবে খটকা একটা রয়েই গেল —- যে ছেলে হপ্তাখানেক আগেই বলছিল হোলটাইমার হবে, সেই ছেলে শুধু প্রেমে ব্যর্থ বলে আত্মহত্যা করবে? ময়না তদন্তের পর যেদিন উদ্দালককে পোড়ানো হল, সেদিন অন্য কমরেডরা গেলেও রবীন আর গেল না।

ওকে হোলটাইমার হতে বারণই করেছিল সে। নেট তো পাশ করাই আছে। এরপর অধ্যাপক হয়ে ছাত্রছাত্রীদের সচেতন করা, তাদের মধ্যে থেকে পার্টিকর্মী তৈরি করা, এগুলোও বড় কাজ — এমনটাই ওকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল রবীন। উদ্দালক নিমরাজি হয়েছিল। সেই মুখটা মনে আছে। তা-ই থাক। গলায় দড়ি দিলে মুখটা কেমন হয় অনেকবার দেখেছে। নতুন করে আর কী দেখবে?

সন্ধ্যায় জোনাল কমিটির মিটিং। সাইকেলটা নিয়ে বেরোতে যাবে, দ্যাখে ঈশান কোণে মেঘ। এ সময়ে বিকেলে বৃষ্টি আসাই স্বাভাবিক। আর বাবা বলত ঈশান কোণে মেঘ হলে নাকি বৃষ্টি হবেই। কে জানে সত্যি কিনা? তবে রবীন ছাতা নিল না। কাঁপা হাতে ছাতা নিয়ে সাইকেল চালানো অসম্ভব। বৃষ্টি এলে কোথাও না কোথাও দাঁড়িয়ে পড়ে। আজও নাহয় তাই করবে। তাছাড়া বহুকাল বৃষ্টিতে ভেজা হয়নি। মন ভাল থাকলে বৃষ্টিতে ভিজতে বড় ভাল লাগে। মন ভারী হয়ে থাকলেও বৃষ্টিতে ভিজলে অনেকটা হালকা হয়।

বৃষ্টি হয়েছিল মা চলে যাওয়ার দিন। রবীন তখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পার্টির নির্দেশ — ধরা পড়া চলবে না। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে আসতেই হয়েছিল। হীরুদাই খবর পাঠিয়ে বাড়ি যেতে বলেছিলেন। চিরকুটে লেখা ছিল “তোমার মা খুব অসুস্থ। বাড়ি যাও। ধরা পড়লে পড়বে, তবে সাবধান থেকো।”

শ্মশান অব্দি পৌঁছানোর আগেই রবীন খেয়াল করেছিল পুলিশের লোক পিছু পিছু হাঁটছে। শ্মশানে ঢোকার মুখেই জিপ দাঁড়িয়ে ছিল। দারোগা পথ আটকে বলল “আপনাকে আমাদের সঙ্গে আসতে হবে। গ্রেপ্তার করছি।”

রবীনের ছোড়দা বলেছিল “একটু ওয়েট করুন না। পোড়ানো শুরু হয়ে যাক। ও পালাবে না।”

দারোগা হাত জোড় করে বলে “পারব না, দাদা। মাপ করবেন। আমি হুকুমের চাকর। আমিও বামুনবাড়ির ছেলে। মাঝপথে আটকাব না বলে এখানে এসে দাঁড়িয়ে আছি। অনেকক্ষণ থেকে অপেক্ষা করছি। আরো সময় দিলে আমি বিপদে পড়ে যেতে পারি। কে ওপরতলায় জানিয়ে দেবে আমি সি পি এম নেতার প্রতি সিম্প্যাথেটিক, আর আমাকে সুন্দরবনে ট্রান্সফার করে দেবে।”

এরপর আর কোন কথা হয় না। রবীন খাট থেকে কাঁধ সরিয়ে নেয়, ওর জায়গা নেয় বলরাম। তখন তার সবে গোঁফ দাড়ি উঠছে।

জিপে ওঠার সময় রবীনকে জড়িয়ে ধরে হাউ হাউ করে কেঁদে ফেলে ওর মেজদা। রবীনের যে কান্না পায়নি তা নয়, কিন্তু তখন কাঁদলে পুলিশ হয়ত ভাবত ওকে ভাঙা সহজ।

তখন বৃষ্টির জোরটা কমে এসেছে। কালীপুর হাইস্কুলের সামনে দিয়ে যখন জিপটা যাচ্ছে তখন টিফিন। বেশ কিছু ছেলে গেটের বাইরে হজমিওয়ালা, ফুচকাওয়ালাকে ঘিরে ঝিরঝিরে বৃষ্টিতেই ফরমাশ করে যাচ্ছিল। তাদের একজনের সাথে চোখাচোখি হল রবীনের। ঢ্যাঙা একটা ছেলে, যার দাড়িগোঁফ ভর্তি মুখের চোখ দুটো প্রমাণ করে পরনে ফুলপ্যান্ট থাকলেও মনটা হাফপ্যান্ট ছাড়েনি। যেন চেনা চেনা লাগল। না-ও হতে পারে। ওরকম চেহারার ছেলে তো রবীনের স্কুলেও কম নেই।

সেদিন শুক্রবার। জানা কথাই যে সোমবারের আগে কোর্টকাছারির মধ্যে যাবে না পুলিশ। থানায় ঢোকামাত্র দারোগা বলেছিলও সেকথা। “এই কটা দিন থাকুন আমাদের গেস্ট হয়ে। তারপর তো মদনপুর জেলে।”

কিছুক্ষণ পরেই স্লোগানের শব্দ কানে আসে রবীনের।

“ইনকিলাব জিন্দাবাদ।”

“রবীন স্যারের গ্রেপ্তার মানছি না মানব না।”

“শোষকের কালো হাত ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও।”

দারোগা বেচারা ব্যতিব্যস্ত।

“কি পার্টি দাদা আপনাদের! আধ ঘন্টা হতে না হতে এত লোক জড়ো হয়ে গেল! এরকম জানলে আপনাকে জিপে করে আনতাম না। শালা আপনাদের টিকটিকি তো দেখছি আমাদের টিকটিকির এক কাঠি উপরে।”

স্লোগানের আওয়াজ বাড়তে বাড়তে থানার ভেতর ঢুকে আসবে মনে হয়। বৃষ্টি ক্রমশ বাড়তে থাকে, পাল্লা দিয়ে স্লোগান। দারোগার ভয় হয় জনা সাতেক কনস্টেবল দিয়ে এই জনতাকে আটকানো যাবে না বেশিক্ষণ। সে পাগলের মত ফোন করতে থাকে ওপরওয়ালাদের। কিছুক্ষণ পরেই নির্দেশ আসে আপদ অন্যত্র চালান করার। পত্রপাঠ পুলিশ ভ্যান বেরোয় থানা থেকে, অঝোর বৃষ্টি আর স্লোগান অগ্রাহ্য করে। ভ্যানের গায়ে কয়েকটা ঢিলও পড়ে। পাল্টা লাঠি চালায় পুলিশ। নইলে কেউ রাস্তা ছাড়ত না ভ্যানটাকে। কালীপুর হাইস্কুলের কিছু ছাত্র ভ্যানের পেছনে দৌড়য় কিছুক্ষণ। যেন দৌড়েই ধরে ফেলবে মোটরগাড়িটাকে আর ছিনিয়ে নেবে রবীন স্যারকে। তখন স্বপ্ন দেখার সময়। তখন এসব ভাবা যেত; অঝোর বৃষ্টিপাতে পেছল রাস্তায় দৌড়তে দৌড়তেও যে কোন দৌড় জেতার কথা ভাবা যেত। আর কয়েকটা স্কুলের ছেলের দৌড় দেখে বুক কাঁপত দারোগার।

*এই উপন্যাসের সমস্ত ঘটনা ও চরিত্র কাল্পনিক। কোন সত্যি ঘটনা বা জীবিত/মৃত ব্যক্তির সাথে মিল পাওয়া গেলে তা সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত। কিছু বাস্তব চরিত্রের নাম এসেছে কেবল সময়কাল বোঝাতে

ভাল লাগলে টাকা পাঠাতে পারেন:

Google Pay / Paytm / BHIM বা অন্য মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে journopratik@okhdfcbank কে

অথবা

নেট ব্যাঙ্কিং বা অন্য উপায়ে নিম্নলিখিত অ্যাকাউন্টে

Pratik Bandyopadhyay
A/c No. 10490957306
State Bank of India
Konnagar branch
IFSC: SBIN0002078

Published by

Pratik

Blogger and poet. Isn't that enough?

Leave a Reply