সৃষ্টির মনের কথা

“ভালবাসা কী করে প্রমাণ করা যায় বল তো? ভালবেসেই তো? আজ যখন আদালতে আমাকে বলা হল ‘প্রমাণ করুন আপনি দেশকে ভালবাসেন’, আমি ভাবলাম কী করে করি? কেমন করে প্রমাণ করা যায় যে আমি আমার দেশকে ভালবাসি?”

দুঃসময়। বড় দুঃসময়ে বেঁচে আছি। সকালের কাগজ ১৯৯২ এর স্মৃতি উশকে দিয়ে লিখছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ আর রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ হুমকি দিয়েছে রাত পোহালেই দু লক্ষ লোক ঢুকে পড়বে অযোধ্যায়। এদিকে পশ্চিমবঙ্গে ১৯৮৯ মনে করানো রথযাত্রার প্রস্তুতি। রাজ্য সরকার শীর্ষস্থানীয় আমলাকে পাঠিয়েছে বিজেপির সাথে যাত্রাপথ ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করতে। আহা! কি আনন্দ আকাশে বাতাসে।
ওদিকে আসামে ডিটেনশন ক্যাম্পে ভিড় বাড়ছে, বহু পরিবার ছিন্নভিন্ন, আত্মহত্যার পর আত্মহত্যা। সংসদে পাশ হওয়ার অপেক্ষায় নতুন নাগরিকত্ব আইন। যে আইন পাশ হলে অহিন্দু মানুষের ভারতের নাগরিক হওয়ার রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে। “দিবে আর নিবে, মিলাবে মিলিবে, যাবে না ফিরে” শুধু কবিতার পংক্তি হয়ে যাবে।
এসব ক্ষমতাসীনদের রাজনীতি। আর বিরোধীদের রাজনীতিটা কিরকম?
দিন দুয়েক আগে কংগ্রেস নেতা সি পি যোশী বললেন একমাত্র একজন কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রীই পারেন রামমন্দির প্রতিষ্ঠা করতে। মনে করিয়ে দিলেন যে রাজীব গান্ধীই বাবরি মসজিদের তালা খুলিয়ে পুজো আচ্চার ব্যবস্থা করিয়েছিলেন। যোশী আরো বলেছেন হিন্দু ধর্মটা একমাত্র ব্রাক্ষ্মণরাই বোঝে। নরেন্দ্র মোদী, উমা ভারতী এরা আর কী জানবে? নীচু জাতের লোকেদের হিন্দু ধর্ম নিয়ে কথা বলার কোন অধিকারই নেই। যোশীজিকে যিনি ধমকে দিয়েছেন বলে খবরে প্রকাশ, সেই রাহুল গান্ধী কেবল মন্দির থেকে মন্দিরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তাঁর সম্পর্কে তাই হিন্দুত্বের ব্র‍্যান্ড অ্যাম্বাসাডর বিজেপি প্রশ্ন তুলেছিল তিনি কি হিন্দু? উত্তরে কংগ্রেস মুখপাত্র বলেছিলেন রাহুল যে শুধু হিন্দু তাই নয়, তিনি রীতিমত পৈতেওয়ালা হিন্দু।
বাংলার অগ্নিকন্যা তথা কর্ণধার বিজেপিকে আটকাতে দীর্ঘদিন অব্দি সাধারণ মুসলমানকে ভুলে ইমাম, মোয়াজ্জেমদের সমর্থনে ভর দিয়ে চলছিলেন। বছরখানেক হল সেসব চাপা দিতে আবার ব্রাক্ষ্মণ সম্মেলন, বজরংবলী পুজো, জনসভায় গায়ত্রী মন্ত্র উচ্চারণ, দুর্গা বিসর্জনের বিষণ্ণতাকে আমুদে কার্নিভালে পরিণত করায় মেতেছেন। তাতেও যথেষ্ট হচ্ছে না মনে করে শেষমেশ আয়করদাতাদের টাকা পুজো কমিটিগুলোকে বিলিয়েছেন। এন আর সি নিয়ে দিনকতক লোকলস্কর নিয়ে বিস্তর চেঁচামেচি করার পর এখন স্পিকটি নট। অবশ্য ওটা নিয়ে বেশি পরিশ্রম কেনই বা করতে যাবেন? তিনিই তো প্রথম সাংসদ যিনি সীমান্তবর্তী এলাকায় সিপিএম বাংলাদেশ থেকে লোক ঢোকাচ্ছে, এদের বার করে দেওয়া হোক — এই দাবী করে লোকসভার স্পিকারের দিকে কাগজ ছুঁড়েছিলেন।
আর বামপন্থীরা? সর্ববৃহৎ পার্টির নেতাদের একাংশ তো মনে করছেন বিজেপিকে হারাতে উপর্যুক্ত কংগ্রেসেরই হাত ধরা দরকার এক্ষুণি। নিজেদের লড়ার ক্ষমতার উপর এমন আস্থা আর কাদের আছে? এন আর সি, নাগরিকত্ব বিল নিয়ে বামেদের যে কী মতামত কে জানে! শীর্ষ নেতৃত্ব একবার বলেছিলেন দেখতে হবে নিরপরাধ লোকের যেন হয়রানি না হয়। মানে মানুষের নাগরিকত্ব নির্ধারণে তার বংশপরিচয়কে মানদণ্ড ধরায় বোধহয় তাঁদের আপত্তি নেই। যাহা লিগ্যাসি তাহাই লিগাল।
অর্থাৎ দেশের সর্বত্র তাঁদের ভারতীয়তা, তাঁদের দেশপ্রেমের প্রমাণ চাওয়া হচ্ছে মানুষের কাছে। এই প্রমাণ দীর্ঘকাল ঠারেঠোরে চাওয়া হত এদেশের মুসলমানদের কাছে। এখন ঘাড় ধরে চাওয়া হচ্ছে। আসামের অন্য ধর্মাবলম্বী মানুষেরাও সেই আওতায়। সংখ্যালঘুদের প্রতি মুহূর্তে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে তাঁরা অপ্রিয়, অপ্রয়োজনীয়, অপ্রাসঙ্গিক। তাঁদের খুন করলে শাস্তি হয় না চাকরি হয়, ধর্মস্থান ভেঙে দিলে অপরাধ হয় না মন্ত্রিত্ব হয়, গালাগালি দিলে বাহাদুরি হয়।
এমতাবস্থায় প্রায়শই “সৃষ্টির মনের কথা মনে হয় — দ্বেষ।” মনটা এমন কোন সৃষ্টি খুঁজতে থাকে যার মনের কথা ভালবাসা। খুঁজতে খুঁজতে পেয়ে গেলাম অনুভব সিনহার ছবি ‘মুল্ক’ (দেশ)। হিন্দু, মুসলমানের ইতিহাসের সঙ্গমস্থল বেনারসের পুরনো বাসিন্দা বৃদ্ধ আইনজীবী মুরাদ আলি মহম্মদকে কাঠগড়ায় উঠতে হল এবং প্রমাণ করতে বলা হল তিনি তাঁর মুল্ক অর্থাৎ দেশকে ভালবাসেন। তিনি নিয়মিত আয়কর দেন, পুলিশের খাতায় কখনো তাঁর নাম ওঠেনি, এমনকি গাড়ি চালানোর সময়ও কখনো ট্র‍্যাফিক আইন ভাঙেননি। কিন্তু ওসব যথেষ্ট নয় একথা প্রমাণের জন্যে যে তিনি দেশপ্রেমিক। সন্ত্রাসবাদী নন।
ধর্মীয় মৌলবাদ আমাদের উঠোন পেরিয়ে চলে আসছে আমাদের সবার শোবার ঘর অব্দি। তফাৎ শুধু এই যে সংখ্যালঘুর মৌলবাদকে ঢুকতে হচ্ছে লুকিয়ে চুরিয়ে, সংখ্যাগুরুর মৌলবাদ আসছে সামনের দরজা দিয়ে। আলি মহম্মদের ভোলেভালা ক্লাস টেন পাশ ভাই বিলালের ছেলে শাহিদ, যাকে ছোটবেলায় ধরে বেঁধে কোরান পড়িয়ে ওঠা যায়নি, সে কাশ্মীরের বন্যাত্রাণে অর্থসাহায্য করছে ভাবতে ভাবতে হয়ে গেল জেহাদি নেটওয়ার্কের সদস্য। আর বাড়ির উল্টোদিকের পান বিক্রেতা চৌবে, যে আলি সাহেবের প্রাণের বন্ধু, তার অকর্মণ্য ছেলে বুক ফুলিয়ে “দেশের কাজে” নেমে পড়ল বাইকের সামনে পতাকা লাগিয়ে। কী সেই কাজ? লোকলস্কর ডেকে এনে আলি সাহেবের গ্যারেজ ভেঙে দেওয়া, হিন্দু উৎসবের আগে লাউডস্পিকারের মুখটা মুসলমানদের বাড়ির দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া যাতে তারা টের পায় “গোটা দেশ তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ”, রাতে আলি সাহেবের বাড়িতে পাথর ছোঁড়ার আয়োজন, দেয়ালে এবং দরজায় লিখে দেওয়া “TERRORIST”, “GO TO PAK”।
এই ছবিতে অনুভব সিনহার সবচেয়ে বড় কাজ সম্ভবত আমাদের অনেকের মনে তৈরি হওয়া চড়া একরঙা ছবিগুলো মুছে দেওয়া। এ ছবির হিন্দুরা নানারকম, মুসলমানরাও তাই।
ধর্মপ্রাণ অথচ গোঁড়ামিহীন আলি মহম্মদ আছেন, কোরান ঠিকমত না পড়েও জেহাদী হওয়া ভাইপো শাহিদ আছে, অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াডের ভুয়ো এনকাউন্টারবাদী অফিসার দানিশ জাভেদও আছেন। তিনি মনে করেন সন্ত্রাসবাদীদের গ্রেপ্তার না করে শেষ করে দেওয়া উচিৎ কারণ তারা মুসলমানদের বদনামের কারণ।
হিন্দুদের মধ্যে চৌবে আছেন, যিনি স্ত্রীকে লুকিয়ে বন্ধু আলির বাড়িতে কোরমা, কালিয়া খেতেন অথচ শাহিদের অপরাধ প্রকাশ হতেই বিরাট হিন্দু হয়ে উঠলেন এবং নিঃসংশয়ে বুঝে নিলেন “আমার ছেলে ঠিকই বলে। ওরা ঐরকমই।“ কিন্তু আলি সাহেবের আরেক বন্ধু সোনকর আছেন, যিনি ১৯৯২ এর ৬ই ডিসেম্বরের অভিশপ্ত রাতে চৌবেকে সঙ্গে নিয়ে আলি সাহেবের পরিবারকে দাঙ্গাবাজদের হাত থেকে বাঁচাতে ছুটে এসেছিলেন। যিনি গোটা মহল্লার বিরুদ্ধে গিয়ে আলি সাহেবের পুরো পরিবারকে সন্ত্রাসবাদী প্রমাণ করার চেষ্টা চলার সময়ে পাশে থাকলেন। আলির প্রবাসী ছেলে এসে যখন বলল এ বাড়ি ছেড়ে তার সাথে ইংল্যান্ড চলে যাওয়াই ভাল, তখন সোনকরকে দেখিয়েই আলি সাহেব বললেন “আমরা চলে যাব? আমি নিজেকে কী জবাব দেব? যে আমি দেশদ্রোহী? পাড়ার লোককে সোনকর কী জবাব দেবে? ও বলবে ও দেশদ্রোহীদের পাশে দাঁড়িয়েছিল?”
সর্বোপরি আছেন আরতি মহম্মদ — আলি সাহেবের হিন্দু পুত্রবধূ। একজন বেপথু হয়েছে বলে পুরো পরিবারটাকে সন্ত্রাসবাদী প্রমাণ করার প্রচেষ্টাকে বিফল করার দায়িত্ব শেষ অবধি যার ঘাড়ে পড়ে। মুসলমানদের ঝামেলা মুসলমানরাই সামলাক, কোর্ট তো বলে দিয়েছে ওরা টেররিস্ট — বাবা-মায়ের এইসব আবোলতাবোল কথাবার্তা উড়িয়ে দিয়ে ঘাড় সোজা করে লড়ে যায় মেয়েটি। অথচ বেনারসে আসার আগে স্বামীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদের মুখে দাঁড়িয়েছিল সে, কারণ আলি সাহেবের ছেলে আফতাব চাইছিল সন্তানের জন্মের আগেই যেন তার ধর্মটা ঠিক করে রাখা হয়। শুনানিতে যাওয়ার সময় কিন্তু সে মন্দিরের প্রসাদী ফুল মাথায় ছুঁইয়ে যায়।
আরো এক দল মানুষ আছেন আলি সাহেবের মুল্কে, যাদের কথা না বললেই নয়। কিছু লোক যারা মসজিদে নমাজ পড়তে এসে তাঁকে আমন্ত্রণ জানায় শাহিদ আর বিলালের শাহাদাত উদযাপন করতে আসার জন্যে এবং প্রবল ধমক খায়। আলি সাহেব তাদের জানিয়ে দেন শাহিদ যা করেছে তা শাহাদাত নয়, সন্ত্রাস। যারা তাঁর বাড়িতে পাথর ছুঁড়েছে তারাও যে সন্ত্রাসীই সেকথা তিনি বলে এসেছেন এফ আই আর নিতে অনিচ্ছুক দারোগাকে।
মসজিদে ফিসফিসিয়ে কথা বলা লোকগুলোর দলেই পড়েন সরকারপক্ষের উকিল সন্তোষ আনন্দ। সাক্ষ্যপ্রমাণ না-ই থাক, মুসলমানবিদ্বেষের কোন অভাব নেই তাঁর মধ্যে। তিনি জানেন এখন কেস জিততে হলে বিচারবিভাগকে নানাভাবে প্রভাবিত করতে হয়; হোয়াটস্যাপ, ফেসবুককে হাতিয়ার করতে হয়।
ছায়াছবি হিসাবে অনায়াসেই আরো ভাল হতে পারত ‘মুল্ক’। তাপসী পান্নু আরো জোরালো আরতি হতে পারতেন, আদালতে তাঁর অতি মূল্যবান closing argument চিত্রনাট্যের সাহায্য পেলে আরো কম বক্তৃতা হতে পারত। বিচারকের শেষ কথাগুলোও, যদিও অত্যন্ত জরুরী, অতটা বক্তৃতার মত না শোনালে নিঃসন্দেহে আরো ভাল হত। কিন্তু তার চেয়ে অনেক বড় কথা এই সময়ে এই ছবিটার প্রয়োজন ছিল। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আলি সাহেবরূপী ঋষি কাপুর যখন সন্তোষ আনন্দরূপী আশুতোষ রানাকে প্রশ্ন করেন “আমার দেশে আমাকে স্বাগত জানানোর অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে?” তখন প্রশ্নটা তাঁর একার থাকে না, কোটি কোটি ভারতবাসীর হয়ে দাঁড়ায়। সেইসব ভারতবাসীর যাঁদের পান থেকে চুন খসলে পাকিস্তানি বলে সম্বোধন করা হয়, ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচের সময়ে যাদের দিকে আড়চোখে, বাঁকা হেসে তাকানো হয়।
তবে সবচেয়ে মনে রাখার মত মুহূর্ত তৈরি হয় আদালতে নয়, বাড়ির ছাদে। ভাই বিলালের উকিল থেকে কেসে অন্যতম অভিযুক্ত হয়ে যাওয়ার পর শব্দহীন বিনিদ্র রাতে পুত্রবধূকে আলি সাহেব বলেন “তবসসুম যখন বিয়ে হয়ে এ বাড়িতে এল, তখন আমার সাথে খুব ঝগড়া করত, বলত ‘তুমি আমায় ভালবাস না।’ আমি বলতাম ‘বাসি তো। খুব ভালবাসি।’ ভালবাসা কী করে প্রমাণ করা যায় বল তো? ভালবেসেই তো? আজ যখন আদালতে আমাকে বলা হল ‘প্রমাণ করুন আপনি দেশকে ভালবাসেন’, আমি ভাবলাম কী করে করি? কেমন করে প্রমাণ করা যায় যে আমি আমার দেশকে ভালবাসি?”
দেশকে ভালবাসার প্রশ্ন উঠতে তাঁর মনে পড়ল প্রিয়তমা স্ত্রীর কথা, মায়ের কথা নয়। “ভারত মাতা কি জয়” স্লোগানের পরাভবে পূর্ণিমার তাজমহলের মত উজ্জ্বল হয়ে উঠল মুরাদ আলি মহম্মদের দেশপ্রেম।

বিরাট রাজার দরবারে

আপনি কে বিরাট? মোদীজির মত আপনিও কি নিজেকে ভারতবর্ষের মূর্ত প্রতীক মনে করেন?

A lovely day for cricket
Blue skies and gentle breeze
The Indians are awaiting now
To play the West Indies
A signal from the umpire
The match is going to start
The cricketers come on the field
They all look very smart …
Erapalli Prasanna
Jeejeebhoy and Wadekar
Krishnamurthy and Vishnoo (sic) Mankad
Them boys could real play cricket
On any kinda wicket
They make the West Indies team look so bad
We was in all kinda trouble
Joey Carew pull a muscle
Clive Lloyd get ’bout three run out
We was in trouble without a doubt
It was Gavaskar
De real master
Just like a wall
We couldn’t out Gavaskar at all, not at all
You know the West Indies couldn’t out Gavaskar at all
Ven-kat-a-ra-ghavan
Bedi, in a turban
Vijay Jaisimha, Jayantilal
They help to win the series
Against the West Indies
At Sabina Park and Queen’s Park Oval
A hundred and fifty-eight by Kanhai
Really sent our hopes up high
Noriega nine for ninety-five
The Indian team they still survive
It was Gavaskar
De real master
Just like a wall
We couldn’t out Gavaskar at all, not at all
You know the West Indies couldn’t out Gavaskar at all
Govindraj and Durani
Solkar, Abid Ali
Dilip Sardesai and Viswanath
They make West Indies bowlers
Look like second raters
When those fellas came out here to bat
West Indies tried Holder and Keith Boyce
They had no other choice
They even try with Uton Dowe
But ah sure that they sorry they bring him now
It was Gavaskar
De real master
Just like a wall
We couldn’t out Gavaskar at all, not at all
You know the West Indies couldn’t out Gavaskar at all
Little Desmond Lewis
Also Charlie Davis
Dey take a little shame from out we face
But Sobers as the captain
He want plenty coachin’
Before we cricket end up in a disgrace
Bedi hear that he became a father
So he catch out Holford in the covers
But when Sobers hear he too had a son
He make duck and went back in the pavilion
It was Gavaskar
De real master
Just like a wall
We couldn’t out Gavaskar at all, not at all
You know the West Indies couldn’t out Gavaskar at all

মহামান্য বিরাট রাজা সমীপেষু,
ক্রিকেট আর ভদ্রলোকের খেলা নেই আমরা সকলেই জানি। তাই আজকাল ক্রিকেটারদের থেকে মাঠে বা মাঠের বাইরে ভদ্রলোকসুলভ ব্যবহার কেউ আশাও করে না। আজকাল মাঠে যে ক্রিকেটার যত বেশি গালাগালি দেন তিনি তত বেশি ডাকাবুকো। ক্ষিপ্ত বাঁদরের মত দাঁত না খিঁচোলে যে আগ্রাসন প্রকাশ পায় না তা এখন সদ্য প্লাস্টিকের ব্যাট হাতে নেওয়া শিশুও জানে। অতএব আপনি শতরানের পর শতরান করে ভক্তদের রানের ক্ষিদে বাড়িয়ে দিলেও আপনার থেকে দৃষ্টান্তমূলক ভদ্রজনোচিত ব্যবহার কেউ আশা করে না। বস্তুত তেমন কিছু কখনো করে ফেললে আপনার অনেক ভক্ত হয়ত ঈষৎ রুষ্টই হবেন। আপনার অধীনস্থ সৈনিক যজুবেন্দ্র চহল যেমন কিছুদিন আগে এক পাকিস্তানি ক্রিকেটারের জুতোর ফিতে বেঁধে দিয়ে অপ্রয়োজনীয় হাততালির সঙ্গে বেশকিছু নিন্দেমন্দও শুনলেন। ভক্তরা যা আশা করেন তা হল খেলোয়াড়োচিত মনোভাব, লোকদেখানো হলেও। সেটুকুরও অভাব ঘটা পীড়াদায়ক।
সোশাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যে সংক্রমিত ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে কোন এক ক্রিকেটমোদী লিখেছেন তিনি মনে করেন আপনি “overrated” এবং আপনার ব্যাটিঙে কোন বিশেষত্ব নেই। তিনি আপনার ব্যাটিঙের চেয়ে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং দেখতে বেশি পছন্দ করেন। সন্দেহ নেই লোকটি/মহিলাটি নিতান্ত বেরসিক। কিন্তু আপনি নিদান দিয়েছেন অন্য দেশের খেলোয়াড়দের বেশি পছন্দ হলে সেই দেশেই চলে যাওয়া উচিৎ। অদূর অতীতে আপনার নানা আপত্তিকর ব্যবহারের উত্তরে কিছু লিখব ভেবেও লিখিনি। এবার কিন্তু আত্মসংবরণ অন্যায় বলে মনে হচ্ছে। তাই দু কলম না লিখে পারলাম না।
সবে গতকাল আপনাদের ভারতীয় ক্রিকেট দল নির্বিষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিষ ঝেড়ে উঠল। কুড়ি বিশের সিরিজের ঠিক আগে হওয়া পঞ্চাশ ওভারের সিরিজে আপনি প্রবল ব্যাটিং বিক্রমে আরো একবার ক্রিকেটমোদীদের মুগ্ধ করলেন। ধরে নেওয়া অযৌক্তিক হবে না যে তার ফলে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে আপনার ভক্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন যতই সবার পিছে সবার নীচে জায়গা হোক না কেন, আপনি নিশ্চয়ই জানেন ঐ দ্বীপপুঞ্জের ক্রিকেট দল একদা অবধ্য ছিল। তাদের হাড়ে কাঁপন ধরানো জোরে বোলার আর নির্দয় ব্যাটসম্যানরা বিশ্ব ক্রিকেট শাসন করতেন। এই লেখার শুরুতে রোমান হরফে যে দীর্ঘ অন্ত্যমিলযুক্ত কবিতাটা দেখা যাচ্ছে সেটা আসলে একটা গান, ক্যারিবিয়ানরা যাকে বলেন ক্যালিপসো। এই ক্যালিপসো রচিত হয়েছিল সুনীল গাভাসকরের বন্দনায়। ১৯৭১ এর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়ে যখন অজিত ওয়াড়েকরের ভারতীয় দল সিরিজ জেতে তখন ওখানকার ক্রিকেটপ্রেমীরা এই গান রচনা করেন। এই গানে প্রায় প্রত্যেকটি ভারতীয় ক্রিকেটারের প্রশংসা করা হয়েছে। কি সৌভাগ্য আমাদের যে সেই সফরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক গারফিল্ড সোবার্স গানটা শুনে বলেননি, ভারতীয় ক্রিকেটারদের অত পছন্দ হলে ভারতে চলে যাওয়া উচিৎ। যদি বলতেন তাহলে এরকম অমর ক্যালিপসো আর আমরা পেতাম না। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট আজ মরণাপন্ন হলেও ক্যালিপসো বেঁচে আছে। ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটারদের পাশাপাশি অন্য দেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে একইরকম ভালবাসায় গান লিখেও বেঁচে আছে। খুঁজলে হয়ত আপনাকে নিয়ে লেখা গানও পাওয়া যাবে।
সোবার্সের অবশ্য অমন কথা বলার একটা ব্যবহারিক অসুবিধাও ছিল। তিনি কোন দেশের লোককে ভারতে যেতে বলতেন? ইতিমধ্যে কয়েকবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর করে আসার সূত্রে আপনি নিশ্চয়ই জানেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ বলে একটা ক্রিকেট দল থাকলেও কোন দেশ নেই। ত্রিনিদাদ ও টোব্যাগো, জামাইকা, গায়ানা, লিওয়ার্ড আইল্যান্ড, উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ড, অ্যান্টিগা প্রভৃতি দ্বীপগুলো প্রত্যেকটাই একেকটা দেশ। ১৯৯৬ বিশ্বকাপের প্রাক্কালে যেমন ভারত আর পাকিস্তানের সম্মিলিত ক্রিকেট দল শ্রীলঙ্কায় খেলতে গিয়েছিল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল আসলে তেমনই একটা দল। প্রত্যেক ম্যাচের শুরুতে আপনারা আম্পায়ারদের পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ান, তারপর জনগণমন গান। এতে নাকি দেশের হয়ে খেলার জন্যে আলাদা উৎসাহ পাওয়া যায়, যথোপযুক্ত অ্যাড্রিনালিন ক্ষরণ হয় — এসব আজকাল শুনতে পাই। যখন জেসন হোল্ডার, কার্লোস ব্রাথওয়েটদের পালা আসে তাঁরা কিন্তু কোন জাতীয় সঙ্গীতে গলা মেলান না। কারণ তাঁরা সকলে এক দেশের নাগরিক নন। তাঁরা একটা ক্যালিপসোতে গলা মেলান। চিরকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্ষেত্রে তাই-ই হয়ে আসছে। যে দেশপ্রেমকে আপনি ক্রিকেটের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন তা যে আসলে একটি কাল্পনিক আবেগমাত্র, তার এর চেয়ে বড় প্রমাণ হয় না। ঐ আবেগটির অভাব যে ভাল ক্রিকেট খেলায় বাধা সৃষ্টি করে তাও বলার উপায় নেই। কারণ ক্লাইভ লয়েডের প্রায় অপরাজেয় দলটাও জাতীয় পতাকা বা জাতীয় স্তোত্র ছাড়াই অমন দুর্দমনীয় হয়ে উঠতে পেরেছিল। অর্থাৎ জিততে দেশপ্রেম লাগে না, যোগ্যতা লাগে, প্রতিভা লাগে, ইচ্ছাশক্তি লাগে।
অবশ্য কাল্পনিক হলেও দেশপ্রেম খারাপ কিছু নয় যতক্ষণ তা অকারণে অন্যকে আঘাত করার অস্ত্র হয়ে উঠছে। যখন তা ঘটে তখন আর ওটা দেশপ্রেম থাকে না, হয়ে ওঠে উগ্র জাতীয়তাবাদ। সম্প্রতি জনপ্রিয় যে তুলনাটা সেটা দিয়েই বোঝানো যাক।
“জানি নে তোর ধনরতন আছে কিনা রানীর মতন, শুধু জানি আমার অঙ্গ জুড়ায় তোমার ছায়ায় এসে।“ এই হল দেশপ্রেম।
“সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি।“ এই হল জাতীয়তাবাদ।
আমার দেশ আমার বড় প্রিয়, অন্য দেশের সাথে তুলনা করি না। অর্থাৎ আমি দেশপ্রেমিক। কিন্তু অন্য দেশের সাথে তুলনা না করে আমার চলে না এবং সে তুলনা কখনোই তথ্যনিষ্ঠ হয় না কারণ আমি আগে থেকেই সিদ্ধান্ত করেছি আমার দেশ সব দেশের চেয়ে ভাল — এই মূঢ়তারই অপর নাম জাতীয়তাবাদ।
মাননীয় বিরাট রাজা, আপনি বাংলা পড়তে পারুন বা না-ই পারুন, এ লেখা আপনার চোখে পড়ুক বা না-ই পড়ুক, আপনার অগণিত ভারতীয় ভক্তকুল থেকে অবিলম্বে আওয়াজ উঠবে “কেন? জাতীয়তাবাদী হলে অসুবিধাটা কোথায়?” অসুবিধা এই যে সেক্ষেত্রে নিজের দেশের ত্রুটিগুলো কখনোই আপনার নজরে পড়বে না, ফলে সেগুলোর সংশোধনও হবে না। সাম্প্রতিককালের সবচেয়ে দুর্বল ইংল্যান্ড দলের সাথে ৪-১ এ সিরিজ হেরেও আপনি দাবী করবেন সিরিজটা আরেকটু হলেই জিতে গেছিলেন। আপনার দলের প্রাজ্ঞ কোচ বলবেন আপনারাই এতাবৎকালের সেরা সফরকারী দল। কোন সাংবাদিক যদি বলেন তথ্য অন্যরকম বলছে তাহলে “It’s your opinion” বলে উড়িয়ে দেবেন। এ কথা চিরকাল প্রকাশ্যে গোপন থাকবে যে এ বছর আপনার দল বিদেশে মাত্র দুটি টেস্ট জিতেছে আর আপনাদের ঠিক পরেই রয়েছে যে দল তার নাম জিম্বাবোয়ে। তারা জিতেছে একটি টেস্ট।
এতৎসত্ত্বেও আপনার মন্তব্যে তত আপত্তি করতাম না যদি তার মধ্যে প্রকট রাজনৈতিক ঘৃণার প্রভাব লক্ষ্য না করতাম। আপনি যে ক্রিকেটজগতের বাইরের ঘটনা সম্পর্কে শচীন তেন্ডুলকরের মত উদাসীন নন, বরং যথেষ্ট আগ্রহী তার যথেষ্ট প্রমাণ আপনি নিজেই দিয়েছেন। নোটবন্দীকে স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ বলে অভিনন্দিত করেছিলেন। নোটবন্দীর সর্বৈব ব্যর্থতা প্রমাণ হওয়ার পরে অবশ্য সুচিন্তিত নীরবতা পালন করেছেন। আপনি টুইটারেও যথেষ্ট সক্রিয়। ফলত এ কথা বিশ্বাসযোগ্য নয় যে “না পোষায় অন্য দেশে চলে যাও” একথা গত কয়েক বছরে কাদের উদ্দেশ্যে কারা প্রয়োগ করেছে তা আপনি জানেন না।
আপনার ও অনুষ্কা শর্মার সুবিজ্ঞাপিত বিবাহবাসরের প্রধান অতিথি নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর থেকে তিনি, তাঁর সরকার আর দেশ সমার্থক হয়ে গেছে তাঁর সমর্থকদের কাছে। জওহরলাল নেহরু থেকে মনমোহন সিং পর্যন্ত সব প্রধানমন্ত্রীর যথেচ্ছ সমালোচনা হয়েছে, আমার আপনার প্রজন্ম বেড়ে উঠেছে “গলি গলি মে শোর হ্যায়, রাজীব গান্ধী চোর হ্যায়” স্লোগান শুনতে শুনতে, অথচ মোদীজির ন্যূনতম সমালোচনা করলেও দেশদ্রোহী হয়ে যেতে হয় এবং শুনতে হয় “Go to Pakistan”। প্রচ্ছন্ন থাকে এই ইঙ্গিত যে ভারতের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা মনে প্রাণে ভারতীয় নন বলেই তাঁরা এদেশের সব খারাপ দ্যাখেন। যারা সমালোচনা করে তারাও ঐ দলে এবং এদেশ তাদের দেশ নয়, তাদের দেশ পাকিস্তান। সেখানেই তাদের যাওয়া উচিৎ।
প্রকাশিত ভিডিওতে আপনি যে সুরে, যে ভাষায় জনৈক ক্রিকেটপ্রেমীকে বলছেন আপনার ব্যাটিং ভাল না লাগলে অন্য দেশে চলে যাওয়া উচিৎ, তাতে “Go to Pakistan” এর গগনবিদারী প্রতিধ্বনি। আপনি কে বিরাট? মোদীজির মত আপনিও কি নিজেকে ভারতবর্ষের মূর্ত প্রতীক মনে করেন? মুখঢাকা বিজ্ঞাপন যা-ই বলুক না কেন, শেষপর্যন্ত আপনি একজন খেলোয়াড়। বড়জোর আপনার ব্যাটিং নৈপুণ্যের সুবাদে আপনাকে একজন উঁচুদরের শিল্পী বলা যেতে পারে। কিন্তু ভারতবর্ষ এত বড় একটা দেশ, এত বড় একটা ধারণা যার সামনে আপনি সর্দার প্যাটেলের মূর্তির পদতলে দাঁড়ানো মোদীর মতই ক্ষুদ্র।
হ্যাঁ, ব্যাট হাতে আজ আপনি রাজা কিন্তু নিশ্চিত জানবেন এ রাজত্বের আয়ু বড় অনিশ্চিত। আজ আছে কাল নেই। ক্রিকেট খেলাটাও আপনার চেয়ে অনেক অনেক বড়। যাঁর সঙ্গে প্রায়ই আপনার তুলনা করা হয়, যাঁকে একবাক্যে সব দেশের (আপনার দেশেরও) ক্রিকেটভক্তরা বলতেন “কিং রিচার্ডস”, সেই ভিভকেও অবসর নিতে হয়েছিল নেহাত পদাতিকের মত। তবু যে তিনি আজও অ্যান্টিগার বাইরেও বহু মানুষের হৃদয়ের রাজা হয়ে আছেন তা কিন্তু শুধু তাঁর রানগুলোর জন্যে নয়। রানগুলো থাকে না, মাঠে এবং মাঠের বাইরে ব্যবহারটা থেকে যায়। মাঠের ভেতর খেলার উত্তেজনায় অনেক বাড়াবাড়ি তবু মানা যায়, মাঠের বাইরের অভব্যতা দুর্নামের কারণ হয়।
অবশ্য আপনার চিন্তা নেই। কাউচে বসা এই অসভ্যতা হয়ত অনেক ভক্তের চোখে আপনাকে আরো বড় করবে। আমার শুধু চিন্তা হচ্ছে শচীন ভোগট বলে অস্ট্রেলিয় ছেলেটির জন্যে। তার তেন্ডুলকরভক্ত বাবা-মা সাধ করে ঐ নামটা রেখেছিলেন। এবার অস্ট্রেলিয়া সফরে যদি কোনভাবে সে আপনার সামনে পড়ে যায় তাকে আবার ঘাড় ধরে ভারতে নিয়ে এসে যোগীজিকে দিয়ে নাম বদলিয়ে দেবেন না তো?

ইতি

এক দুর্বিনীত ক্রিকেটপ্রেমী।

[portfolio]

%d bloggers like this: